আজ বিশ্বকর্মাদেবের পূজা

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮ ৯:১০ দুপুর

রণজিৎ মোদক :

আজ….. বিশ্বকর্মা পূজা। শ্রী শ্রী বিশ্বকর্মাদেব সর্বদর্শী। বিশ্বকর্মা মন্ত্রে আক্ষরিক অর্থ বিশ্বের নির্মাতা বা নির্মাণকর্তা। উগবেদে বিশ্বকর্মাকে স্বর্গ মত্যের সকল কিছুর নির্মাতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ধাতা, বিশ্বদ্রষ্টা, সর্বজ্ঞ, প্রজাপতি, বাচস্পতি, কল্যাণ কর্মা বলে তাকে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বুহ নামে বহুভাবে ভক্ত তার স্মরণ নেয়। বিশ্ব কর্মার ভক্ত যারা, তারা এ বিশ্ব সংসারে সুন্দরের পূজারী। তাদের সুন্দর সুন্দর সৃষ্টির ফসল আমরা সবাই ভোগ করছি। সনাতনী বিধি বিধানে মানুষের প্রতিটি কর্মের সাথে ধর্ম জড়িয়ে রয়েছে। বিশ্বকর্মা প্রতিটি মানুষকে কর্মে উৎসাহিত করছেন।

বিশ্বকর্মার বাহন হস্তী। ভাদ্র মাসের সংক্রান্তিতে ঘটে অথবা পটে কিম্বা মূর্তিতে শ্রী শ্রী বিশ্বকর্মা দেবের পূজা করা হয়। চাঁর হস্ত বিশিষ্ট এ দেবতা হাতুড়ী, কুঠার, নিত্ত্বিসহ বিভিন্ন কারিগরী যন্ত্র তার হস্তে। কাঞ্চন বর্ণ শ্রী শ্রী বিশ্বকর্মা। শিল্পী ও শ্রমজীবি মানুষেরা বিশেষভাবে শ্রী শ্রী বিশ্বকর্মা দেবের পূজা করে থাকেন। শিল্প নৈপূণ্যের বৃদ্ধি বাসনায় এ পূজার সংকল্প করা হয়। পুরানের মতে বিশ্বকর্মা দেব শিল্পী। তিনি স্থাপত্য বেদ নামে একটি উপবেদ রচনা করেন। চৌষট্টি কলার দেবতার সুবাদে। তার ভক্ত শিল্প করা ও যন্ত্র বিদ্যায় পারদর্শিতা লাভ করেন। তার বাহন হস্তী হচ্ছে ধীর শান্ত একনিষ্ঠ উদ্যমী শক্তির প্রতীক। বিশ্বকর্মা দেবতার রথ (বিমান), অলংকার, গৃহ প্রাসাদ নির্মাণ এবং অস্ত্রাদির নির্মাণ কর্তা। তিনি স্বর্গের নির্মাতা। শ্রী শ্রী বিশ্বকর্মা দেব স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার নির্দেশে কিস্কিন্ধ্যা নগরী তৈরী করেছিলেন। এছাড়াও তিনি যম ও বরুনের প্রাসাদ, পুষ্পক রথ, ইন্দ্রের বজ্র তৈরী করেন। বৃত্তাসুরকে বধ করার জন্য মহামুনি দধিচির অস্তি দিয়ে তিনি এ বজ্র তৈরী করেন। এছাড়াও বিজয় নামক ধনুক, শিবের ত্রিশুল, বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির প্রাসাদ নির্মাণ করেন। শ্রীকৃষ্ণের আদেশে বিশ্বকর্মাদের সুন্দর দ্বারকা পুরী নির্মাণ করেছিলেন। মহাতীর্থ পূরীধামের শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার মূর্তিও শ্রী শ্রী বিশ্বকর্মা নির্মাণ করেন।

বিশ্বের সুন্দর শিল্পকর্ম প্রসারের কামনা নিয়ে আজ শ্রী শ্রী বিশ্বকর্মাদেবের পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ পূজা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ স্বর্ণ শিল্পীবৃন্দ ওয়ার্কশপের সনাতনী কর্মীবৃন্দ এ পূজায় অংশগ্রহন করছে। বিশ্বকর্মা দেবের পূজায় মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠে। মালিকপক্ষ শ্রমিকদেরকে নানা ধরনের উপহার সামগ্রী প্রদান করেন। এতে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠে শ্রমিক মালিকের মধ্যে। আর মালিক শ্রমিক সম্পর্ক সুন্দর হলে, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এতে করে শুধু ব্যাক্তি নয়, সমাজ দেশ উন্নত হয়। আমাদের এ বাংলাদেশে সামান্যতম জিনিস দিয়েই সুন্দর সুন্দর বস্তুদ্রব্য তৈরী করে আমরা আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। আর এ কামনায় দেব শিল্পী মহাভাগ দেবানং কার্যসাধক। বিশ্ব কর্মন্ন মস্তুভ্যং সর্বাভীষ্ট ফলপ্রদ। এ মন্ত্রে অঞ্জলি দানের মধ্য দিয়ে নিজদের অভীষ্ট পুরণে ব্রতী হই। জয় হোক শ্রমজীবি মানুষের, কল্যাণ হোক সবার।

রণজিৎ মোদক
শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট
সভাপতি, ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব
ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।