আবারো সাবের হোসেন চৌধুরীর মুখোমুখি হচ্ছেন মির্জা আব্বাস

নভেম্বর ১৫, ২০১৮ ২:১৪ দুপুর

নিউজ ডেক্সঃ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় দলগুলোতে এখন চলছে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া। কে কোন আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন এটা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে ঢাকার আসনগুলোতে হেভিওয়েট প্রার্থীরা কে কার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সে দিকে নজর সবার।

ঢাকার যেসব আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন এর অন্যতম ঢাকা-৯। খিলগাঁও-মুগদা-সবুজবাগ এলাকা নিয়ে আসনটি গঠিত। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন একাধিকবারের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। আর বিএনপিতে এগিয়ে আছেন সাবেক সাংসদ ও মন্ত্রী, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

তবে এই আসনে সাবের হোসেন চৌধুরীর বিকল্প তেমন কেউ না থাকলেও আব্বাসের বিপরীতে বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ঢাকা-৯ এর পাশাপাশি ঢাকা-৮ থেকেও আব্বাস মনোনয়ন কিনেছেন বলে জানা গেছে। যদিও ঢাকা-৮ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সোহেল এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন।

সাবের হোসেন চৌধুরী প্রথমবার মির্জা আব্বাসকে হারিয়ে ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তখন এটা ছিল ঢাকা-৬। ওই সংসদে তিনি মন্ত্রিসভার কনিষ্ঠতম সদস্য হিসেবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ছিলেন। এ ছাড়াও ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ছিলেন। পরে আসন ভাগ হওয়ায় তার আসন হয়ে যায় ঢাকা-৯। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে শিরিন সুলতানা হারিয়ে সংসদ সদস্য হন সাবের। মামলা-সংক্রান্ত কারণে তখন মির্জা আব্বাস নির্বাচন করতে পারেননি। দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সাবের হোসেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এই নেতা বর্তমানে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নেতাকর্মীদের কাছে তার ভাবমূর্তি ভালো। এ ছাড়া টানা দুইবার সংসদ সদস্য হওয়ায় এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়নও করেছেন।

সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, ‘ঢাকা-৯ আসনে সাবের হোসেন চৌধুরীর বিকল্প নাই। তিনি একজন ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ। তার প্রতি স্থানীয় জনগণের আস্থা রয়েছে। আমরা সবাই তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। আশা করি, আগামী নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন।’

বিএনপির মির্জা আব্বাস ১৯৯১ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এখান থেকে (তৎকালীন ঢাকা-৬ আসন) এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে হারলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি শাহজাহানপুরের স্থায়ী বাসিন্দা। পৈতৃক বাড়ি কিশোরগঞ্জে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপির এই নেতার এলাকায় ও দলীয়ভাবে বেশ প্রভাব রয়েছে। তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসও ঢাকার একটি আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে বিএনপি নেত্রী শিরীন সুলতানাও চাইছেন ঢাকা-৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান।