কিশোরগঞ্জ থেকে গাজীপুর পর্যন্ত মহাসড়ক নির্মাণ হচ্ছে

ডিসেম্বর ৫, ২০১৮ ১০:২৬ দুপুর

আসাদুল্লাহ মাসুম,কাপাসিয়া(গাজীপুর) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জ থেকে-সালনা-কাপাসিয়া মঠখোলা আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এ মহাসড়ক বাস্তবায়নে ২৪৫ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরে মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। মহাসড়কটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার সড়ক পথে দূরত্ব কমে আসবে প্রায় ৬০ কিলোমিটার।

বর্তমানে গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার মধ্যে সড়ক নেটওর্য়াক স্থাপন করতে সালনা-কাপাসিয়া-টোক- মঠখোলা আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ২৪৫ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরে প্রশস্তকরণ ও মজবুতীকরণে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রেরণ করেন গাজীপুর সড়ক বিভাগ। যাচাই বাছাই শেষে দ্রুততম সময়ে সড়কটির উন্নয়ন করা হলে কিশোরগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জেলা ও এলাকার জনসাধারণের জীবন মান ও অর্থনৈতিক স্বক্ষমতার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটি প্রায় ১৮ ফুট প্রশস্ত, আঞ্চলিক সড়ক হিসেবে নির্মাণ করায় সড়কটিতে যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচলে অপ্রস্থতার কারণে একটি গাড়ি সড়কের পাশে থামিয়ে বা গতি কমিয়ে অপরটিকে সাইড দেয়। গত বর্ষায় আর ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটিতে নানা গর্ত ও খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে যানচলাচলে বিঘœ ঘটছে। তাৎক্ষণিকভাবে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুর সড়ক বিভাগ ইট ও খোয়া বিছিয়ে সাময়িক সমস্যার সমাধান করেন। পুনরায় বর্ষা শুরু হলে সড়কটি আর যানচলাচলের উপযোগী থাকবে না বলে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক, মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন।

এই সড়কে চলাচলকারী জলসিঁড়ি এক্সপ্রেস (প্রাঃ) লিমিটেড পরিবহনের পরিচালক গোলাম ছামদানী বলেন, এই রুটে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৯টি পরিবহন সার্ভিসের কয়েক’শ যাত্রীবাহী বাসসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন পরিবহন প্রতিদিনই চলাচল করে। এছাড়া মালবাহী গাড়ি তো আছেই। একে তো সরু রাস্তা, তার উপর সড়কের বিভিন্ন স্থানে বসে হাটু বাজার। আবার একই সড়কে একই সময় অনুমোদিত ফিটনেসবিহীন ভিন্ন গতির যানবাহন চলাচল করায় যেমন দুর্ঘটার ঝুঁকি বাড়ে তেমনি সময়ও লাগে অনেক বেশি। তিনি এ সড়কের বাঁক কমিয়ে আরও প্রশস্থ করার দাবি জানান।

উজান-ভাটি পরিবহন লি. এর চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন মানিক জানান, সরু রাস্তায় অপরিকল্পিত গতিরোধক থাকায় তিন ঘণ্টার রাস্তা অতিক্রম করতে সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

পরিবহন চালক ও মালিক আলম জানান, সরু রাস্তায় পাশকাটাতে গেলে মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে লেগে বাসের বডি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, অনেক সময় জানালার কাঁচ ভেঙে যাত্রীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে যায়।

জয়দেবপুর সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কে বি এম সাদ্দাম হোসেন জানান, সালনা (রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা)- কাপাসিয়া- টোক- মঠখোলা সড়ক আঞ্চলিক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের গাজীপুর সড়ক বিভাগ ২৪৫ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরে প্রশস্তকরণ ও মজবুতীকরণে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পাঠিয়েছে। কাপাসিয়া-টোক-মঠখোলা ৪১ কিলোমিটার সড়ক ১৮ ফুট থেকে ২৪ফুট প্রশস্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

খুবদ্রুত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনাধীন উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।