খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন আজ

ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮ ৯:৪৯ সকাল

নিউজ ডেক্সঃ

আজ শুভ বড়দিন। খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের দিন। এই দিনে খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট বর্তমান ফিলিস্তিনের বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পরম ধামে যাওয়ার পথ বাতলে দেওয়া সেই যিশুর জন্মদিন আজ। খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করার জন্য যিশু জন্ম নিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের খ্রিষ্টধর্মানুসারীরাও অন্যান্য দেশের মতো আজ আনন্দ-উৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করবেন। গত কয়েক দিন নগরের খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তরুণ-তরুণীদের কীর্তনের দল ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়িয়েছে।

বড়দিন উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন।

সুখী-সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, যিশুখ্রিষ্ট মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সেবা, ক্ষমা, মমত্ববোধ, সহানুভূতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাসহ শান্তিপূর্ণ অবস্থানের শিক্ষা দেন।

বিদ্যমান সম্প্রীতির এই সুমহান ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করতে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

প্রধানমন্ত্রী এই পুণ্যদিন উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সহ জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সবাইকে ঔদার্য এবং মানবতার মহান ব্রতে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণ ও উন্নয়নে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, বড়দিন দেশের খ্রিষ্টান ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যকার বিরাজমান সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিকে আরও সুদৃঢ় করবে। তিনি উৎসবমুখর বড়দিনে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী সবার সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সরেজমিনে গতকাল বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জায় (পবিত্র জপমালার গির্জা) দেখা গেছে, বড়দিন উদ্যাপনের জন্য প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আজ সেখানে গির্জা ও এর আশপাশে রঙিন বাতি জ্বালানো হবে। প্রচুর জরি লাগিয়ে গির্জার ভেতর রঙিন করা হয়েছে। ভেতরে সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি। আজ সকালে সেখানে বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টান পরিবারে আজ কেক তৈরি হবে। বিশেষ খাবারের আয়োজনও থাকবে। দেশের অনেক যিশুকীর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় গানের আসর বসবে। এ ছাড়া আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাবেন খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা। বড় বড় হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।