জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি

অক্টোবর ৩০, ২০১৮ ৮:৩৭ সকাল

নিউজ ডেক্সঃ

পাঁচ বছর আগে উচ্চ আদালতের একটি রায়ের আলোকে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। বলা হয়েছে, আদালত দলটির নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-আরপিওর বিধান অনুযায়ী দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়ছে।

সোমবার কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সই করা এই প্রজ্ঞাপন জারি হয়। পরে সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পরে আমরা প্রজ্ঞাপন জারি করেছি। হাইকোর্টের নির্দেশে যেহেতু বাতিল, রায় পেতে সময় লেগেছে। এখন প্রজ্ঞাপণের মাধ্যমে এটা বতিল করা হয়েছে।’

২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত হয় জামায়াতে ইসলামী। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে তরিকত ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ, সম্মিলিত ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট মাওলানা জিয়াউল হাসানসহ ২৫ জন জামায়াতের নিবন্ধন চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন।

চার বছর পর ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করার আদেশ দেয় হাইকোর্ট। এতে বলা হয়, জামায়াতের নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্যতা না থাকলেও নির্বাচন কমিশন তাদেরকে নিবন্ধন দিয়েছে।

উচ্চ আদালতের ওই নির্দেশের পর থেকে জামায়াত আর দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। যদিও দলটির নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।

যেসব যুক্তিতে নিবন্ধন বাতিলের আবেদন

প্রথমত, জামায়াত নীতিগতভাবে জনগণকে সব ক্ষমতার উৎস বলে মনে করে না। সেইসঙ্গে আইন প্রণয়নে জনপ্রতিনিধিদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতাকেও স্বীকার করে না।

দ্বিতীয়ত, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুসারে কোনো সাম্প্রদায়িক দল নিবন্ধন পেতে পারে না। অথচ কাজে কর্মে ও বিশ্বাসে জামায়াত একটি সাম্প্রদায়িক দল।

তৃতীয়ত, নিবন্ধন পাওয়া রাজনৈতিক দল ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের কোনো বৈষম্য করতে পারবে না। কিন্তু জামায়াতের শীর্ষপদে কখনো কোনো নারী বা অমুসলিম যেতে পারবে না।

চতুর্থত, কোনো দলের বিদেশে কোনো শাখা থাকতে পারবে না। অথচ জামায়াত বিদেশের একটি সংগঠনের শাখা। তারা স্বীকারই করে- তাদের জন্ম ভারতে, বিশ্বজুড়ে তাদের শাখা রয়েছে।