জীবনের ওপর আঘাত আসতে পারে জেনেই দেশে ফিরেছিলাম-প্রধানমন্ত্রী

অক্টোবর ৩০, ২০১৮ ৮:৩১ সকাল

নিউজ ডেক্সঃ

জীবনের ওপর বারবার আঘাত আসার বিষয়টি তুলে ধরে নিজের বেঁচে থাকাকে ‘দুর্ঘটনা’ আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দশম সংসদের সমাপনী ভাষণে তিনি আরও জানান, জীবনের ওপর আঘাত আসতে পারে, এটা জেনেই তিনি দেশে ফিরেছেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত দশম সংসদ আর বসবে না। সোমবার এই সংসদের ২৩ তম অধিবেশন শেষ হয়। জরুরি সংসটকালীন পরিস্থিতি অথবা যুদ্ধাবস্থা না হলে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ নিয়েই বসবে পরের অধিবেশন।

সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের আমলে নেয়া নানা উদ্যোগ ও পরিকল্পনার বর্ণনা দিয়ে আবার চান। বলেন, এসব প্রকল্প শেষ করতে তার আরও কিছু সময় দরকার। জনগণ সে সময় দেবে বলে তার বিশ্বাস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার জীবনের কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। আমার বেঁচে থাকাটাই একটা অ্যাক্সিডেন্ট। গ্রেনেড হামলা, গুলি, বোমাবাজি, অনেক কিছুর মোকাবেলা আমাকে করতে হয়েছে এবং আমি জানতাম, আমার জীবনে এমন আঘাত আসবে।’

‘কারণ, যে দেশের মাটিতে আমার বাবা, মা, আমার ভাই সবাইকে হত্যা করা হয়েছে, আমার ১০ বছরের শিশু ভাইটি পর্যন্ত হত্যা হয়েছে, সেখানে যে কোনো সময় আমি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারি। এটা আমি জানি, জেনেও যতক্ষণ প্রাণ আছে, ততক্ষণ আমি দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব।’
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সময় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে যান বিদেশে থাকায়। ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়েকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করার পর তিনি দেশে ফেরেন।

এরপর ৩৭ বছরে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য বহুবার আক্রমণ হয়েছে। তাকে বাঁচাতে প্রাণ দিয়েছেন দলের বহু নেতা-কর্মী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কত কষ্ট করে আমার বাবা দেশটা স্বাধীন করেছেন, সেই তারাই হত্যা করল এর চেয়ে বড় দুঃখের আমার কাছে আর কিছু ছিল না।… তারপরও এ দেশে ফিরে আসার পরই আমার লক্ষ্য ছিল দেশকে একটা পরিবর্তন এনে দেব, দেশের মানুষের জীবনমান এনে দেব, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব।’

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘দিন বদলের সনদ’ এবং রূপকল্প ২০২১ ঘোষণার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দাবি করতে পারি, হ্যাঁ বাংলাদেশে দিন বদলের সনদ আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি এবং মানুষের জীবন মান উন্নত হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করি, কার জন্য? এটা তো আমার স্বার্থ না, এটা দেশের মানুষের জন্য, জনগণকে সুন্দর জীবন দেব, সে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে।…যতক্ষণ আছি দিয়ে যাব, যেন এ দেশের মানুষ একটা সুন্দর জীব পায়, যে জীবনের স্বপ্নটা আমার বাবা দেখেছিল।’

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে নিজের পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘তখন পর্যন্ত হয়ত বেঁচে থাকতে পারব না, তবে আমরা যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, ভবিষ্যতে যারা আসবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সেটা অব্যাহত রেখে তারা এগিয়ে যাবে।’