দুবাই থেকে আটক করা ঘাতক আবু সাঈদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮ ৯:১৮ দুপুর

মোঃ খোকন প্রধান নারায়নগঞ্জ থেকে-

সূদূর আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাই থেকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্হা (ইন্টারপোল) এর সহায়তায় কাশীপুরের স্কুল ছাত্রী মোনালিসা (১২) কে ধর্ষন শেষে হত্যা করার ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক আবু সাঈদ (২২) কে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরন করেছে ফতুল্লা পুলিশ।

সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আলোচিত এ মামলার তদন্ত কারী পুলিশ অফিসার এসআই মোঃ দিদার হোসেন ধৃত আসামী আবু সাঈদ কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করার নিমিওে ১০দিনের রিমান্ড আবেদন প্রার্থনা করে আদালতে হাজির করেন।এসময় অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়্যাল ম্যাজিষ্ট্রেট অশোক কুমার দওের আদালত ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে নিশ্চিত করেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহ্ মোঃ মঞ্জুর কাদের (পি পি এম)।

এর আগে চলতি মাসের ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্হা (ইন্টারপোল) পুলিশ ফতুল্লা থানার আলোচিত হত্যা মামলার একমাত্র পলাতক আসামী আবু সাঈদ কে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাই থেকে আটক করেন। পরে সকল প্রক্রিয়া শেষে রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টায় বাংলাদেশ এয়ার লাইসের একটি বিমানে করে ইন্টারপোল পুলিশ ধৃত আসামী কে নিয়ে ঢাকার হযরত শাহ্জালাল (রহঃ) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরন করেন। এর পরে ইন্টারপোল পুলিশ ধৃত আবু সাঈদ কে প্রথমে বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে তুলে দিলে সেখান থেকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। ধৃত আবু সাঈদ নারায়নগঞ্জের পশ্চিম দেওভোগ বড় আম বাগান এলাকার মোঃ ইকবাল হোসেনের ছেলে। সে দীর্ঘ দিন আরব আমিরাতে চাকুরী করতো। জানা গেছে, ধৃত আসামী আবু সাঈদ চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে ছুটিঁ নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। এর পরে সে তার প্রতিবেশী ইভা আক্তার (১৮) কে বিয়ে করেন।

গত ২ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্য্যায় ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়নের হাটখোলা এলাকার জনৈক শাহীন বেপারীর বাড়ীতে গিয়ে তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মোনালিসা আক্তারের রুমে ঢুঁকেন। এর পরে আবু সাঈদ মোনালিসা কে জোরপূর্বক ধর্ষন করার পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

উল্লেখ্য যে এর পরে ঘাতক হত্যা কান্ড টি ধামাচাপা দিতে মোনালিসার মরদেহ ওই রুমের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিঁয়ে রেখে পালিয়ে যায়। আরব আমিরাতে যাওয়ার বিমান টিকিট পূর্বেই কেটে রাখায় ওই দিন রাতেই খুব সহজে অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্যে বিদেশে পালিয়ে যায় ঘাতক আবু সাঈদ। এঘটনায় পরের দিন স্কুল ছাত্রী মোনালিসার পিতা শাহীন বেপারী বাদী হয়ে আবু সাঈদ কে একমাত্র আসামী উল্লেখ্য করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরে হত্যা মামলার পলাতক আসামী আবু সাঈদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্হা (ইন্টারপোল) পুলিশের সহায়তা নেয় এবং গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইন্টারপোল পুলিশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাই থেকে আবু সাঈদ কে আটক করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের হাতে সোর্পদ করেন।

আরো উল্লেখ্য যে, গত ২ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সকালে মোনালিসা আক্তারের পিতা শাহীন বেপারী ও তার মা নরসিংদীতে যায় বেড়াতে। এসময় বাসায় মোনালিসা ও তার ৭ বছর বয়সী ছোট ভাই সাকিব বাবু বাসায় ছিলো। ওই দিন বিকেলে মোনালিসার ছোট ভাই বাড়ীর পাশের একটি মাঠে খেলা করতে ছিল এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সকলের অগোচরে আবু সাঈদ সেই বাসায় প্রবেশ করে। এর পরে মোনালিসাকে তার রুমে একা পেয়ে প্রথমে জোরপূর্বক ধর্ষন করে পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং মরদেহ টি সিলিং ফ্যানে ঝুলিঁয়ে রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই বাড়ীর এক ভাড়াটিয়া আবু সাঈদকে দেখতে পায়।

আরো উল্লেখ্য যে, আবু সাঈদ পালিয়ে যাওয়ার কিছু সময় পড়ে ওই ভাড়াটিয়া মহিলা মোনালিসাকে ডাকতে শুরু করলেও তার ডাকের সাড়া না পেয়ে মেয়েটির রুমের সাথে গিয়ে দেখতে পায় সিলিং ফ্যানের সাথে মোনালিসার দেহ ঝুলঁছে। এ বিষয়টি উক্ত ভাড়াটিয়া শাহীন বেপারীকে মোবাইলে অবগত করে স্হানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে নারায়নগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মোনালিসা আক্তারকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। মোনালিসা আক্তার কাশীপুর হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী ছিল বলে জানা গেছে।