শ্রমিক বিক্ষোভে গাজীপুরের শতাধিক পোশাক কারখানার ছুটি ঘোষণা

জানুয়ারি ৯, ২০১৯ ২:৪১ দুপুর

নিউজ ডেক্সঃ

নূন্যতম মজুরি কাঠামো বাড়ানো ও বাস্তবায়নের দাবিতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাজীপুরা ও নাওজোড়সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি করে বিক্ষোভ করেছে। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানো গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় সাংবাদিকসহ অন্তত ২০জন শ্রমিক আহত হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ ও শ্রমিকরা জানায়, বুধবার সকালে গাজীপুরের টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় হপলোন অ্যাপারেলসগ আশেপাশের কারখানার শ্রমিকেরা নূন্যতম মজুরি কাঠামো বাড়ানো ও বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করে বিক্ষোভ করে। একই দাবিতে নাওজোড়ের দিগন্ত সোয়েটার কারখানাসহ বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে রাস্তায় নেমে আসে। এক পর্যায়ে তারা ওই মহাসড়কে বিভিন্ন পরিত্যাক্ত বস্ত ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ঢাকা ময়মনসিংহ ও ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে। ফলে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ, থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিকদের হামলায় নাওজোড়ে চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের গাজীপুর প্রতিনিধি রফিকুল ইসলামের উপর হামলা চালিয়ে মোটরসাইকেল, ক্যামেরা ও মোবাইল ভাংচুর করেছে। পরে তারা মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। শ্রমিকের হামলায় আহত হন তিনি। এছাড়া পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ২০ শ্রমিক আহত হন। পরে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে ফের উভয় মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

এছাড়া টঙ্গীর বিসিক এলাকায়ও শ্রমিকদের বিক্ষোভ হয়েছে। গাজীপুরের টঙ্গী বিসিকের একটি পোষাক কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেয় শ্রমিকরা। পরে, খবর পেয়ে টঙ্গীর ফায়ার সাভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাজীপুরে পোশাক কারখানার গুলোর সামনে বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।