সাংসদ হয়ে ভাল কাজ করার ইচ্ছা মাশরাফির

ডিসেম্বর ৪, ২০১৮ ১০:২৬ দুপুর

স্পোর্টস ডেক্সঃ

রাজনীতিতে আসার কারণ, ভালো কাজ করার ইচ্ছা, জানালেন জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা মাশরাফি বিন মর্তুজা। জানিয়েছেন, ভোটে জিতে সংসদ সদস্য হয়ে গেলেও একদিনের বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছা আছে। এরপর আরও খেলবেন কি না, সেটি পরে জানাবেন।

গতকাল মিরপুরে শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হন নড়াইল এক্সপ্রেস। আগামী জাতীয় নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে লড়াই করার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এই প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। দেন নানা প্রশ্নের জবাব।

জানান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সিরিজ শেষে ১৪ ডিসেম্বর ভোটের প্রচারের জন্য নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাবেন।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর খেলার প্রতি ফোকাস কতটা থাকবে?

আমার পুরোপুরি অনুশীলনে মন আছে। অবশ্যই ১৪ তারিখের পর আমি ওইখানে (নির্বাচনে) কনসেনট্রেশন (মনযোগ) করব। ওই খানে যা করার ১৪ তারিখের পর… এর আগে পুরোপুরি কনসেনট্রেশন খেলায় রাখব।

কেন নির্বাচন করছেন?

প্রথমত ধরেন, আমি যদি ওয়ার্ল্ড কাপ পর্যন্ত ধরেন, আমি যেটা চিন্তা করেছি… আর সাত থেকে আট মাস বাকি আছে। বিশ্বকাপের পর আমার ক্যারিয়ার যদি শেষ হয়, নেক্সট সাড়ে চার বছরে কী হবে আমি জানি না।

আর আমার একটা সুযোগ আসছে, যেটা আমি এনজয় করি সবসময়, মানুষের সেবা করার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটা সুযোগ দিয়েছেন। আপনারা জানেন যে আমার একটা ফাউন্ডেশন আছে, আমার এলাকার জন্য কিছু কাজ করার। আমার মনে হয় এটা আমার জন্য গ্রেট অপরচুনিটি তাদের জন্য কাজ করার। এখান থেকেই মনে হয়েছে, হয়তো সাড়ে সাত-আট মাস পর তো আবার জাতীয় নির্বাচন হবে না।

ঘরের মাঠে শেষ ওয়ানডে সিরিজ নির্বাচনের কারণে আলোচনা থেকে সরে যাচ্ছে কি না…

প্রথমত আমি বলেছি, আমার মাইন্ড সেট আপ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ছিল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, আমি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর পারব কিনা জানি না। তারপরও আমার ফিটনেস, পারফর্মেন্স ঊনিশ পর্যন্ত চলছিল বলে আমি মোটামুটি এগিয়েছি। সেটাই বলছি আমার বিশ্বকাপ পর্যন্ত মাইন্ড সেটআপ আছে। তারপর রিভিউ করার সুযোগ আছে, আমি যদি সেই অবস্থায় না থাকি তাহলে অবশ্যই আমাকে কুইট (বিদায়) করতে হবে।

শেষ সিরিজ নিয়ে কী ভাবছেন?

আমার কাছে এ নির্বাচনে আসার আগেও যেমন ছিল সেই সিরিজটাও সেরকম। আমার শেষ আর শুরুতে কিছু আসবে না। তবে অবশ্যই সিরিজটা জিততে চাই। আমার চোখে ঠিক আর দশটা সিরিজ যেভাবে খেলছি এটাও তাই।

ক্রিকেটের বাইরে রাজনীতিবিদদের সাথে উঠাবসা হয়েছে কি?

না, এখনও ঘুরার সুযোগ পাইনি। যাওয়ার সুযোগ হয়নি। সিরিজটা খেলার পর যাব। নড়াইলের মানুষজনের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আমি যেতে পারিনি, গেলে আমার যে কাজগুলো আছে সেগুলো আমি করব।

বিরোধী দলের সমালোচনামূলক বক্তব্য কোন চোখে দেখছেন?

আমি সবসময় বিশ্বাস করি যে, আপনার নিজের পারসনালিটি থাক উচিত। আপনি যদি কোনো দলকে সাপোর্ট করেন তাহলে অবশ্যই সেটা প্রকাশ্যে বলা উচিত। এমন অনেকেই আছে যারা সাপোর্ট করে কিন্তু বলতে পারে না। প্রত্যেকে যে যার দল করে তাঁর সম্মানটা থাকা উচিত এবং তার মতে করে দেশের জন্য কাজ করবে এই মানসিকতাই থাকা উচিত। যারা কমেন্ট করছে বা করবে তা আমার নিয়ন্ত্রণে নাই।

সংসদ সদস্য হয়ে গেলে আর খেলাটা চালিয়ে যাওয়া ঠিক হবে কি না?

প্রথমত আমার লক্ষ্য বিশ্বকাপ পর্যন্তই থাকবে। বিশ্বকাপ পর্যন্ত আট মাসের ব্যাপার। আট মাস পর্যন্ত যেভাবে খেলে আসছি ওইভাবে খেলার চেষ্টা করব। আমার পারসোনাল গোলও ছিল বিশ্বকাপ। পরে সেটা রিভিউ করব কি না সেই সময়ই বলে দেব।

দেশের মাশরাফি থেকে দলের মাশরাফি হওয়া হয়ে গেল কি না?

উদ্দেশ্য যেটা আমার পরিষ্কার, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। যদি সুযোগ পাই কাজ করব। আমি বিশ্ব ক্রিকেটে আমি এমন কোন সুপারস্টার না আট মাস পরে আমি যখন খেলা ছেড়ে দেব তখন জনে জনে মানুষ স্মরণ করবে।

তরুণদের কী স্বপ্ন দেখাতে চান?

আমি স্বপ্ন দেখাতে আসিনি। যদি গতানুগতিক হয়ে থাকে গতানুগতিক কথা বলতেও চাই না। যেটা হয়ত কাল আপনি মিলাতে পারবেন না। সেই সুযোগটা যদি আমার আসে, এখনি চিন্তা করার সুযোগ নাই যে আমি নির্বাচিত হয়ে গেছি। নির্বাচিত হওয়ার পর যদি আপনাদের মনে হয় রিভিউ করতে আমার কাজ তখন করবেন। এখন আসলে বলা কঠিন।

নড়াইলে সমর্থন কেমন আছে?

সাপোর্ট ভালো আছে। আমি পারসোনালি এখনি যেতে পারিনি, তাই টোটালি বলাটা কঠিন। খেলার পরে গেলে বুঝতে পারব।

বিসিবি প্রধান, প্লেয়ারদের সঙ্গে কথা হয়েছে?

না, কারো সঙ্গে ইনডিভিজ্যুয়ালি কথা হয়নি।

কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে কথা বলেননি দেশ নিয়ে…

এত গভীর রাজনীতি আমি করিনি, জানিও না। যেটা পরিষ্কারভাবে বললাম আমার উদ্দেশ খুব সিম্পল, যেটা মানুষের জন্য করে শান্তি পাই, টাচ পাই, ততটুকু।। আমাকে যদি ডিপ লেভেলের পলিটিশিয়ান ভাবেন সেটা আমি এখনো হয়তবা না, হইনি। সো আমাকে ওই পর্যায়ে ভাবলে আমার প্রতি অবিচার হবে। আমার অভিজ্ঞতাটা একদমই নতুন। তবে আমি যেটা বলেছি ভালো কাজ করতে চাই। সেটা হয়ত সামনে দেখা যাবে কতটুকু করতে পারি।

ক্রিকেট নিয়ে মাশরাফির চিন্তা কী?

দেশের ক্রিকেট ভালোই চলছে। এখন যারা আছেন ক্লিয়ারলি বলতে পারেন। আমার অবস্থান থেকে যতটুকু সাপোর্ট দেওয়ার ততটুকু দেব।

বোর্ডে আসতে চান কি না?

আমি তো আগেই বললাম সামনে কি হবে জানি না। নির্বাচন হলে নির্বাচনে জিততে হবে। সো এই পর্যায় পার না হলে বলা যায় না কিছুই।

নড়াইল ফাউন্ডেশন দিয়ে তো করছিলেন, রাজনীতিতেই কেন যোগ দিতে হবে?

এবার আপনাকে আমি জিজ্ঞেস করি, আমার ফাউন্ডেশনে কী কী কাজ হয়েছে বলতে পারবেন?

হ্যা, রাস্তা তৈরি করেছেন…হাসতাপালের প্লান করছেন…

একটাও কিন্তু ঠিক হয়নি। আমি রাস্তা কিন্তু করতে পারিনি। যে আপনাদের সব কিছু ক্লিয়ার না কিন্তু। আই ফাউন্ডেশন করে যেটা বুঝেছি, অনেক কিছুই কাজ করেছি। এটা সত্যি কথা। মানুষ জানে না, এমনকি নড়াইলের মানুষও জানে না। যেটা বললাম করার চেষ্টা করেছি। যে সুযোগটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন যে আরেকটু বড় পরিসরে করা সেটাই।

ওভারঅল স্পোর্টসের ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা?

এগুলো তো অনেক পরের ব্যাপার, এখন কীভাবে বলব।

আপনার কাজ এলাকার উন্নয়ন না আইন প্রণয়ন?

আসলে আইন প্রণয়ন করা তো জানি। আমি তো দেখেছি এই পর্যায় থেকেও অনেক হেল্প আসে। সরকার থেকেও অনেক সহযোগিতা আসে। যেগুলা এখান থেকে যাওয়ার পর ঠিকভাবে বণ্টনের ব্যাপার আছে। আমি চেষ্টা করব এই ব্যাপারটা ঠিকমতো করার।

দল না জিতলে আপনার ভবিষ্যত?

কালকে আপনার জীবনে কী ঘটবে আপনি জানেন না। আমার জীবনে কী ঘটবে সেটাও আমি জানি না। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আপনি ক্লিয়ার মাইন্ড নিয়ে যাচ্ছি কি না। আমি শুধু নিজেকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। কালকে আমার সাথে কী হবে সেটা জানি না। তাই এতকিছু ভাবার সুযোগ এখনো নাই।

পরিবার থেকে কোনো বাধা এসেছে বা সমর্থন?

হয়তো বা ওইভাবে রাজনীতি আমার বাসায় কেউ করেনি। এটাই সত্যি। তো কিছুটা সময় তো তাদেরও লাগবে মানিয়ে নিতে।

কীভাবে মানালেন?

মানামানি (হাসি)। সবাইকে যেটা বললাম অ্যাডজাস্ট করতে হবে।

তরুণদের প্রতি ম্যাসেজ?

আমরা নিজেকে আমি নিয়ন্ত্রণ করি। নিজেকে ঠিক জায়গায় নিতে পারি কি না, সেটা আমি দেখি। ২০০১ সালে যখন ডেব্যু হয় আমি তরুণদের আইকন ছিলাম না। আমি আমার কাজটা মন দিয়ে করে গেছি, তারপর এ অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেছি। আর নির্বাচিত হলে আমার কাজটা ঠিকমতো করার চেষ্টা করব, তারপর দেখা যাক কী হয়।

আপনি অপজিশনের (বিরোধী পক্ষ) চেয়ে তুলনামূলক ভালো কীভাবে?

আমি তো সেটা একবারও বলিনি, আমি আপনার চেয়ে বেটার। তাকে আমি সম্মান করি। তাকে অসম্মান করে আমি কীভাবে বলব উনার চেয়ে আমি বেটার। সেটা অবশ্যই আমি বলব না। আমি একজন স্পোর্টসম্যান। ওখানেও কিছুটা এই মানসিকতা কিছুটা থাকতে হবে। ওখানে গিয়ে আমি তাজে বলতে পারব না, ওর চেয়ে আমি ভালো। আমাকে আপনারা ভোট দেন, সেই সুযোগ আমার নাই।

আপনাকে মানুষ কেন ভোট দেবে?

ভোট তো সবার একটা একটা করে। যিনি ভোট দেবেন, উনার কাছে যদি মনে হয় আমার গ্রহণযোগ্যতা আছে তাহলে আমাকে ভোট দেবে। আমার যতটুকু করণীয় আছে, সেটা আমি করব। বাদ বাকি উনার ব্যাপার উনি আমাকে পার্সোনালি দেবে কি দেবে না। সেটার নিয়ন্ত্রণ আমার কাছে নাই।