সিলেট-১ আসনে শিক্ষায় এগিয়ে মোমেন, সম্পদে মুক্তাদির

ডিসেম্বর ৫, ২০১৮ ৪:৪৭ দুপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় নির্বাচনে মর্যাদার আসনখ্যাত সিলেট-১ আসনে দশজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

হলফনামায় দেখা যায়, এখানের ১০ প্রার্থীর মধ্যে শিক্ষার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি পিএইচডি ডিগ্রিধারী, আববার পেশায়ও শিক্ষক।

সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি অন্য প্রার্থীদের থেকে ঋণের দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছেন। একই সাথে সর্বোচ্চ মামলাও রয়েছে তার নামে। অন্যদিকে, বিএনপির আরেক প্রার্থী দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোন মামলাই নেই। তিনি অবশ্য প্রাক্তন সচিব।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান স্বশিক্ষিত, খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা নাসির উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী ও বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল পেশায় শিক্ষক, এনপিপির ইউসুফ ব্যবসায়ী এবং বাসদ (মার্কসবাদী) উজ্জল রায় সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মী বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এদের মধ্যে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন উজ্জল রায়; অন্য প্রার্থীরা সকলেই এবার প্রথম মনোনয়ন জমা দিলেন।

এ আসনে শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে থাকা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের অনুজ ড. এ কে আবদুল মোমেন তার হলফনামায় উল্লেখ করেন, নগরীর ধোপাদিঘীর পূর্বপাড়ের হাফিজ কমপ্লেক্সের প্রয়াত এ এ আবদুল হাফিজের ছেলে তিনি। তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা পিএইচডি। বর্তমানে তিনি শিক্ষকতা ও অন্যান্য পেশার সাথে জড়িত রয়েছেন। তার নামে কোন মামলা নেই। নেই কোন ঋণও।

আয়ের উৎসে তিনি লিখেছেন, ‘শিক্ষকতা, পরামর্শক ইত্যাদি পেশা থেকেই তার সবচেয়ে বেশি আয় হয়। এ পেশা থেকে তিনি বছরে ২৭ লাখ ৪১ হাজার ২২৪ টাকা আয় করেন। এছাড়া তিনি বাড়ি ভাড়া থেকে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৪২৪ টাকা, ব্যবসা থেকে ৩৮ হাজার ৮৩৩টাকা, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৯০ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আয় বছরে ৩০ হাজার টাকা আয় করেন।’

অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তার নিজ নামে রয়েছে ২ কোটি ৮৫ লাখ ৫৬ হাজার ৫২১ টাকার সম্পদ। এর মধ্যে নগদ আছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৩হাজার ৭১০টাকা। এছাড়া স্ত্রীর নামে ৫ লাখ টাকার ৫০ ভরি সোনা ও ৩ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। আর স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নিজের নামে ৪ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮৫ টাকার সম্পদ। এর মধ্যে ২২ লাখ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি, ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮৮৫ টাকা মূল্যের দালান এবং ৩ কোটি ৮২ লাখ ৬ হাজার টাকা মূল্যের বাড়ি ও এ্যাপার্র্টমেন্ট আছে তার।

হলফনামায় বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির উল্লেখ করেন, তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম এস এস পাস। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৫ টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে; এছাড়া একটি মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। পেশায় আমদানি-রপ্তানিকারক, বস্ত্র প্রস্তুতকারক ও ক্যামিক্যাল প্রস্তুতকারক তিনি। তার মালিকানাধিন ৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এসব ব্যবসা থেকে বছরে তার আয় ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৫ টাকা। তা স্ত্রী ব্যবসা থেকে ২ লাখ ২৭ হাজার টাকা এবং এপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আয় করেন।

হলফনামা অনুযায়ী স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তালিকায় খন্দকার মুক্তাদির ও তার স্ত্রীর দু’জনই প্রায় সম পরিমাণ সম্পদের মালিক। এর মধ্যে মুক্তাদিরের নিজ নামে সর্বমোট ৭ কোটি ৯৬ লাখ ৭৭ হাজার ৭৪৩ টাকা ও তার স্ত্রীর নামে আছে ৬ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার ৫১ টাকার অস্থাবর সম্পদ।

আর স্থাবর সম্পদ হিসেবে যৌথ মালিকানায় ৪০ শতক অকৃষি জমি ও উত্তরাধীকার সূত্রে প্রাপ্ত ৪ লাখ টাকার ১০ শতক জমি। ঢাকার কাফরুলে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ জমি, ময়মনসিংহের ভালুকা ও হাজিরবাজার ১২ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ টাকার জমি, ঢাকার গুলশানে ৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকার ৫ কাটা জমি। যৌথ মালিকানায় রয়েছে উত্তরায় ৪০ লাখ টাকার জমি।

স্ত্রীর নামে গুলশানে রয়েছে ৬৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার দুটি এপার্টমেন্ট। ৩টি ব্যাংকে তার ৯ কোটি ১৪ লাখ ৬ হাজার ৯৯৭ টাকার ব্যবসায়িক ঋণ রয়েছে। এছাড়াও ৯ কোটি ৪১ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ টাকার একক ঋণ রয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক হওয়ার সুবাদে তার নামে ৬টি ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ৩০৩ কোটি ৯৬ লাখ ৫৪৮ টাকা। তবে সকল ঋণই পুনঃতফসিলী করা রয়েছে।

বিএনপির আরেক প্রার্থী সাবেক সচিব ইনাম আহমদ চৌধুরী হলফনামায় নিজের পেশা সম্পর্কে লিখেন, ‘আমি সরকারী কর্মকর্তা (সচিব) হিসেবে অবসর গ্রহণ করি এবং বর্তমানে জেদ্দা ইসলামিক ডেভেলাপমেন্টের ভিপি অবসরপ্রাপ্ত। বর্তমানে সমাজ কল্যাণমূলক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত।’

তিনি বাড়ি ভাড়া থেকে বছরে ৫ লাখ ৪১ হাজার ৫৬০ টাকা এবং শেয়ার আমানত থেকে ২৪ লাখ ৬৪ হাজার ৯২০ টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে ১১ লাখ টাকা, ওয়েজ আর্নার হিসেবে ১৪ হাজার ৯২০ ইউএস ডলার, ব্যাংকে জমা ৬৭ লাখ ৫৯ হাজার ১৯৭ টাকা, শেয়ার বাজারে ২৫ হাজার টাকা, এফডিআর ৪ কোটি ৫৭ লাখ ৩১২২ টাকা, যানবাহন ৩১ লাখ টাকা রয়েছে।

এছাড়া স্ত্রীর নামে আরও নগদ ১৫ লাখ টাকা, ব্যাংকে জমা ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, শেয়ার বাজারে ৩১ লাখ ৮২ হাজার ৭৮৯ টাকা, সঞ্চয়পত্র ১ কোটি ৬ লাখ ৯৬ টাকা এবং ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার ২৫ ভরি সোনা রয়েছে। তাছাড়া তাদের স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে বনানীতে ৮টি, মোহাম্মদপুরে ১ টি ও ১/৩ অংশ আরকে মিশনের এপার্র্টমেন্ট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা। তার কোন দেনা নেই।

সিলেট-১ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বশিক্ষিত জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী পেশা হিসেবে জমিদারী বলে উল্লেখ করেছেন। ইসলামী আন্দোলনের রেদওয়ানুল হক একই সাথে দুটি মাদ্রাসার শিক্ষকতা করেন। ইসলামী ঐক্যজোটের মুহাম্মদ ফয়জুল হক দাওরায়ে হাদিস (এমএ সমমান) পাশ। তার নামে জালালাবাদ থানার একটি জি আর মামলা রয়েছে; যা তদন্তাধীন। তিনি মাদ্রাসার শিক্ষকতা করেন।

বাসদ মনোনীত প্রার্থী উজ্জল রায় বিকম (সম্মান) পাশ। পেশায় সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মী। তার কোনো ধরণের আয় নেই।

এইচএসসি পাস ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী ইউসুফ আহমদ হলফনামায় পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। মোটরসাইকেল ক্রয় বাবদ তার নামে একটি ঋণ চলমান আছে।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের প্রণব জ্যোতি পাল পেশায় একজন শিক্ষক। স্থাবর সম্পদের মধ্যে যৌথ মালিকানায় ০.০৭ একর জমিতে টিনশেডে বাসা আছে তার।

আর খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা নাসির উদ্দিন নগরীর জামিয়া ইসলামিয়া শাহ গাজী বুরহানুদ্দিন (রহ.) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। এ পেশা থেকে তার বাৎসরিক আয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।