স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে

July 12, 2016 12:01 pm

স্থানীয় প্রতিনিধিঃ

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘরে না তোলায় মোছা. জাকিয়া সুলতানা হাসি (২৮) নামে এক গৃহবধূকে বেদম মারপিট ও মাথার চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত স্বামী পুলিশ কনস্টেবল আসাদ আলম প্লাবন ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছে নির্যাতিতার পরিবার।

নির্যাতনের শিকার জাকিয়া সুলতানা হাসি বর্তমানে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের ৩০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট ইউনিয়নের ডোমরগাছা গ্রামে সোমবার রাতে বর্বর এ নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে।

জাকিয়া সুলতানা হাসি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট ইউনিয়নের ডোমরগাছা গ্রামের লাল মিয়া মন্ডলের ছেলে আসাদ আলম প্লাবনের স্ত্রী ও সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের মেঘডুমুর গ্রামের আবদুল হাই আকন্দের মেয়ে।

আসাদ আলম প্লাবন বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত। বর্তমানে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ লাইনে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত।

হাসির বাবা আবদুল হাই আকন্দ জানান, আসাদ আলম প্লাবনের সঙ্গে তার মেয়ের ২০১০ সালে বিয়ে হয়। বিয়েতে মেয়ের সুখের কথা ভেবে যৌতুক হিসেবে নগদ ৩ লাখ টাকা তুলে দিই জামাই আসাদ আলমের হাতে। সংসারে পরশি আকতার (৫) নামে এক মেয়ে সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে আসাদ তার মেয়ের কাছে আরও ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এ নিয়ে প্রায়ই তার মেয়েকে মারধর করতেন আসাদ। এসব কারণে হাসি প্রায় আমার বাড়িতে অবস্থান করত।

তিনি আরও জানান, আসাদ ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এলে হাসিকে তার বাড়িতে ডেকে আনেন। এরপর তাকে যৌতুকের টাকা আনার জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে হাসিকে মারপিট করে আসছিল আসাদ। শনিবার রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে আসাদ ও পরিবারের লোকজন মিলে হাসিকে বেদম মারধর করে বাড়ির একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রাখে। তিন দিন ধরে হাসি না খেয়ে অন্ধকার তালাবদ্ধ ঘরে থাকে। এরপর সোমবার রাতে ঘর থেকে বের করে আসাদ ও তার স্বজনরা মিলে হাসির মাথার চুল কেটে দেয়। খবর পেয়ে লোকজন নিয়ে গিয়ে সোমবার রাতে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে নির্যাতিত হাসি বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘তার স্বামী সম্প্রতি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে আসাদ তাকে দ্বিতীয় বউ হিসেবে ঘরে তোলার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ নিয়ে শনিবার রাতে মারধর করে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রাখে। পরে সোমবার ঘর থেকে টেনে বের করে আসাদ ও তার পরিবারের লোকজন মাথার চুল কেটে দেয়।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনাটি তিনি জানতে পেরেছেন। তবে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*