বিরোধিতার মধ্যেই রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত

July 12, 2016 4:08 pm

নিউজ ডেক্সঃ

পরিবেশবাদী ও নাগরিক প্রতিনিধিদের বিরোধিতার মধ্যেই বাগেরহাটের রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) এবং ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেডের (বিএইচইএল) মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকিউরমেন্ট কনস্ট্রাকশন-ইপিসি (টার্নকি) চুক্তি সই হয়।

বিএইচইএল’র জেনারেল ম্যানেজার প্রেম পাল যাদব এবং বিআইএফপিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহি চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা (দেড় বিলিয়ন বা ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার)। এর ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ করবে উদ্যোক্তা কোম্পানি। অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ ঋণ নেওয়া হবে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারই এই ঋণ সংগ্রহ করবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক থেকে ভেল ঋণের অর্থ পাবে। ২ শতাংশ সুদে ঠিকাদারের মাধ্যমে এই অর্থ পাওয়া যাবে।

নির্মাণ ঠিকাদার হিসেবে ভেলের নির্বাচন ও নিযুক্তির বিষয়টি বাংলাদেশ পক্ষ তথা পিডিবি অনুমোদন করেছে গত জানুয়ারি মাসে। এরপর এনটিপিসির অনুমোদন পাওয়ার পর চুক্তি সইয়ের জন্য ভেলকে চিঠি দেওয়া হয়। তবে এই প্রকল্পের যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারিজ) শুল্কমুক্ত আমদানির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেরীতে মঞ্জুরি দেওয়ায় নির্মাণ চুক্তি সইও পিছিয়ে যায়। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তসীমা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে। আইন অনুযায়ী সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে এ ধরনের স্থাপনা করা যায় না। তবে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন ও সুশীল সমাজের একাংশ প্রকল্পটিকে সুন্দরবন ধ্বংসকারী অভিহিত করে এর বিরোধিতা করছে।

তবে সরকারের বক্তব্য হচ্ছে, পরিবেশবিজ্ঞানী, গবেষক এবং এ-সংক্রান্ত উচ্চতর প্রকৌশল জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের পরামর্শ নিয়েই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তা ছাড়া এই প্রকল্পে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি (সুপার ক্রিটিক্যাল) ব্যবহৃত হবে। তাই সুন্দরবনের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা অমূলক।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দামের বিপরীতে স্থানীয় উন্নয়নের জন্য তিন পয়সা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআইএফপিসিএল। এতে বছরে প্রায় ২৭ কোটি টাকা হবে। এই টাকা স্থানীয় রাস্তাঘাট, হাসপাতাল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মনোয়ার ইসলাম, ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রদীপ কুমার পূজারী, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, ভারতের এনটিপিসি’র চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুরদীপ সিং, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিপি) চেয়ারম্যান শামসুল হাসান মিঞা উপস্থিত ছিলেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*