দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাস দ্বারা কৃষকের ক্ষেত বিপন্ন

জুন ২, ২০১৮ ১০:০৭ সকাল

মো. তোফাজ্জল হায়দার, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ

বীরগঞ্জে ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে কৃষকের প্রায় ২০ একর জমির ধানক্ষেত, কলাবাগান, বাঁশের থোপ,ফলজ ও বনজ গাছ পুড়ে নষ্ট হয়ে মারা গেছে।

জানা যায়, উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের আবাদি জমির উপর নির্মিত R.D.F. ইট ভাটির মালিক দিনাজপুরের জনৈক আলমাস হোসেনের। গত ২৯ মে ভাটা এলাকার পার্শ্ববর্তী জমির ইউক্যালিপটাস গাছ, ধানক্ষেত, কয়েকটি জলপাই গাছ, বাঁশের থোপ, কলাবাগানে আকশ্মিক মড়ক দেখালে স্থানীয় কৃষকেরা এই মড়কের কারন হিসেবে ভাটা কতৃপক্ষকে দোষারোপ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভাটা কতৃপক্ষ কৃষকদের দেয়া অভিযোগ অস্বীকার করলে অসহায় বর্গাচাষীরা ইউপি পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ রুস্তম আলী সহ কয়েকদফা আলোচনার পর উক্ত ইউনিয়ের সরকারী বিএসদের বিষয়টি অবগত করেন। এ ব্যাপারে গত ৩১ মে স্থানীয় ভাবে একটি আপোষ-মিমাংসায় চেয়ারম্যান রুস্তম আলী ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দিলে উপস্থিত ভাটা পক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে আপোষকৃত টাকা ইউপি সদস্য জিয়ার মাধ্যমে ধান চাষী জয়নাল, গফুর, সাইদুল, মানিক, মান্নান, বিধান, লক্ষীরাম, রবি টুডু, ইয়াকুব, পুশুরাম, ভূয়া সহ প্রায় ১৪ জন কৃষককে প্রদান করা হয়। এ ব্যাপারে কলাচাষী, ফলজ ও বনজ গাছ মালিকের সাথে সাক্ষাত করলে তারা জানান, ধান চাষীরা যথা সামান্য ক্ষতিপূরণ পাইলেও আশপাশের আরো অনেক কৃষকই ভাটা পক্ষের দাপটে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারে নাই। এ ব্যাপারে R.D.F. ম্যানেজার মান্নানের সাথে কথা বললে ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে জানান, বর্তমানে নতুন আইন অনুযায়ী এই হাওয়া ভাটার ফিক্সড চিমনীর উচ্চতার ১২০ ফিটের স্থলে মাত্র ৬০ ফিট উচ্চতার চিমনী দিয়েই ইট পোড়ানোর কাজ চলছে। দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার নিচু চিমনীর গ্যাস ও তাপের কারনে অনাকাঙ্খিত এমন ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় কৃষক ও অভিজ্ঞ সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোন খুটির বলে এই অবৈধ ভাটাটি মাত্র ৬০ ফিট উচ্চতার চিমনী দিয়ে আবাদি জমির উপর ইট পোড়ানোর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখতে উধ্বর্তন কৃতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।