ম্যারাডোনা স্টেডিয়াম থেকে হাসপাতালে

জুন ২৭, ২০১৮ ১২:৫৬ দুপুর

দুই হাতে দুই ঘড়ি। পরনে আকাশি রঙের গেঞ্জি। বয়স প্রায় ৫৮ হয়ে গেলেও মনটা তার এখনো ২১-এ পড়ে আছে। নইলে আর্জেন্টিনার ম্যাচে এতটা উৎসব করেন কীভাবে?

আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া মঙ্গলবার রাতে মুখোমুখি হয়েছিল সেন্ট পিটার্সবার্গে। ম্যাচের পুরোটা সময় গ্যালারিতে ছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। পুরোটা সময় চিৎকার করেছেন, উল্লাস করেছেন। প্রিয় দলকে সমর্থন জুগিয়েছেন। ম্যাচের শুরুতে মেসির গোলের পর টেবিলের ওপর দাঁড়িয়ে যান। সামনে বসা আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সঙ্গে গলা ফাটান। ওপরে তাকিয়ে ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জ্ঞাপন করেন।

নাইজেরিয়া পেনাল্টি থেকে গোল শোধের পর চিন্তিত হয়ে পড়েন ম্যারাডোনা। মুখ দিয়ে নখ কামড়াতেও দেখা যায় তাকে। ডি-বক্সের ভেতরে হিগুয়াইন গোলের সহজ সুযোগ মিসের পর তাকে রাগ হতেও দেখা যায়। আক্ষেপেও পোড়েন। তার কিছুক্ষণ পরই যখন মার্কোস রোহো জয়সূচক গোলটি করলেন, তখন তাকে আর আটকানো যায়নি।

অশালীন আচরণ করে বিতর্কিত হন। আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জেতার পর তার বাঁধনহারা উৎসব শুরু হয়। পাশের গ্যালারি থেকে নাইজেরিয়ার এক নারী সমর্থককে নিয়ে নেচে বেড়ান। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই আর চলাচল করতে পারেননি ম্যারাডোনা।

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন স্টেডিয়ামেই। গ্যালারি ছাড়ার সময় তার পা আর চলছিল না। সামনে এগোতে পারছিলেন না। স্টেডিয়ামের মেডিকেল দল তাকে টেনে তুলে নিয়ে যায় গেট পর্যন্ত। এরপর স্টেডিয়াম থেকে সোজা হাসপাতালে। মেডিকেল দল জানায়, তাকে ডাক্তার দেখানো জরুরি। এ কারণে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক এক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ম্যারাডোনা সুস্থ আছেন। স্থিতিশীল আছেন। হাসপাতালে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখবেন চিকিৎকরা।