তালায় হলুদ সাংবাদিকদের দৌরাত্ব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি, অতিষ্ট এলাকাবাসী

জুন ৩০, ২০১৮ ৬:৫০ দুপুর

এসএম বাচ্চু, তালা (সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি:

তালায় হলুদ সাংবাদিকদের দৌরাতœ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি দিন সকাল থেকে মধ্য রাত অবধি সাংবাদিকতার পরিচয়ে ঘাড়ে ক্যামেরা, গলায় আইডি কার্ড ও কাগজপত্র বিহীন দামি বাইক চেপে দাপিয়ে বেড়ায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে । কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলেই হানা দেয় তার দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানে। এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাজির হয় ঐ চক্র। নিজেদের অপকর্মকে আঁড়াল ও অযোগ্যতায় অল্প সময়ে বিনা পরিশ্রমে অধিক অর্থ উপার্জনের সহজতর পন্থা হিসেবে নাম সর্বস্ব পত্রিকা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী ও ভূক্তভোগীরা জানায়, এসব ভূঁইফোঁড় হলুদ সাংবাদিকদের কাতারে রয়েছেন মাদক ব্যবসায়ী, মেকানিক, চা দোকানদার,কাঠ ব্যাবসায়ী,কাচামাল ব্যাবসায়ী থেকে শুরু ভাড়ায় চালিত মোটর চালক ও অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত রয়েছেন তারা। এদের প্রত্যেকেই নিজেদের মূল পেশায় মন্দা ও আঁড়াল করতে নিজেদের নাম লিখিয়েছে মফস্বল সাংবাদিকতায়। এদের অনেকে আবার স্কুলের গন্ডি পেরুতে পারেনি। অনেকে আবার গলায় কার্ড ঝুলিয়ে দালালির পাশাপাশি বিবাদমান জমি কিংবা ঘের জবর দখলেরও টেন্ডার নেন কেউ কেউ। এদের ভয়ে সম্মানি ব্যক্তিরাও রয়েছেন আতংকে। তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যেকোন সম্মানি ব্যক্তির সম্মানহানির চেষ্টা করেন।

এমনকি কোথাও কোন ঘটনা ঘটলে নিজেরাই বানোয়াট অভিযোগ পত্র লিখে হানা দেন অভিযুক্তর বাড়িতে। এদের অপতৎপরতায় মূল পেশাজীবিরাই আজ কোন-ঠাঁসা হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে একজন একজন মোটর সাইকেল মেকানিক। গত বছর তার মালিকানাধীন একটি পিক আপ বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিলসহ খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় র‌্যাব-৬ এর হাতে আটক হয়। নিজের লেখালেখিতে কোন প্রকার ধারণা না থাকলেও তালার কতিপয় সাংবাদিক নামধারী সাংঘাতিকদের কাছ থেকে নিয়মিত ছি.ছি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলো টিকিয়ে রেখেছেন।

তালা সদরের কয়েকজন নিজেকে বড় মাপের সাংবাদিক পরিচয় দিলেও তার নিজের কোন কাগজ বা মিডিয়ার সাথে,একাডেমিক সার্টিফিকেট সংশিøষ্টতা নেই। বর্তমানে কাগজ হারিয়ে রীতিমত তিনি বেসামাল হয়ে পড়েছেন। তাই সারা দিনের আয়োজন দালালির খোরাক সন্ধ্যা নামতেই পৌছে দেন সমমনা বিভিন্ন সাংবাদিকদের মেইলে। এছাড়া উপজেলার আরো কয়েকজন টাউট স¤প্রতি নিজেদেরকে টেলিভিশন চ্যানেলের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি জোরদার রেখেছেন ঘুরে বেড়ান উপজেলার এ প্রান্ত থেকে শুরু করে ও প্রান্ত পর্যন্ত।

সূত্র জানায়, এরকম জানা অজানা অনেকেই রয়েছেন যারা কাক ডাকা ভোরে বেরিয়ে মধ্য রাত অবধি দাপিয়ে বেড়ান মফস্বলের তৃণমূল পর্যন্ত। এছাড়াও আরও অÿরজ্ঞানহীন একজন চা বিক্রেতা নিজেকে বড় মাপের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকার অসহায় গরীব মানুষের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা মাসোয়ারা আদায় করে থাকেন। এছাড়া দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তালার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে হয়রানি করে থাকে। এলাকার প্রকৃত সাংবাদিক থেকে শুরু করে তাদের দ্বারা নির্যাতিতরা এসকল হলুদ সাংবাদিকদের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয় প্রশাসন, সরকারের সংশিøষ্ট কর্তৃপক্ষ ও তাদের স্ব স্ব পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টাল মালিকদের জরুরী হ¯Íক্ষেপ কামনা করেছেন।