আর কিছুক্ষণ পরেই যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স

জুন ৩০, ২০১৮ ৭:০১ দুপুর

স্পোর্টস ডেক্সঃ

গোটা দুনিযার চোখ রাশিয়ায়। সন্ধ্যার পরই শুরু হয়ে যাবে সেই রমরমা মহাযুদ্ধ। যে যুদ্ধে অবতীর্ণ আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। ল্যাটিন আমেরিকা বনাম ইউরোপ যুদ্ধ। ফাইনাল তো নয়ই, সেমিফাইনাল এমনিক কোয়ার্টার ফাইনালও নয়, তবে শেষ ষোলর এ ম্যাচটা যেন অন্য এক ফাইনাল অথবা আরেক সেমিফাইনাল হয়ে ওঠেছে। বেজে ওঠেছে মহাদেশীয় যুদ্ধের দামামা।

একদিকে তরতাজা ফ্রান্স। অন্যদিকে, নব উদ্যমে জেগে ওঠা আর্জেন্টিনা। এক দিকে এক ঝাঁক তরুণ ফুটবলার। অন্য দিকে, বয়স্ক খেলোয়াড়দের ভিড়। এক দিকে প্রতিভাবানদের ছড়াছড়ি। অন্য দিকে, মহাতারকাই নিউক্লিয়াস।

ফ্রান্স বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচ আসলে নানা বৈপরীত্যের সমাহার। আর্জেন্টিনা মানেই লিওনেল মেসি। আবার ফ্রান্স মানে কোনও একজন নন। পল পোগবা, আন্তোনিও গ্রিজম্যান, অলিভার জিহু, দেম্বেলেরা সবাই।

তবে আর্জেন্টিনা পেরিয়ে এসেছে সেই অশান্ত সময়। সামলে নিয়েছে অনন্ত চাপ। ছিটকে যাওয়ার খাঁড়া ঝুলছিল মাথার ওপর। প্রায় নেমেও এসেছিল ঘাড়ে। স্নায়ুর চাপ সামলে তা পেরিয়ে এসেছেন মেসিরা। শিবিরে অশান্তিও ছিল। কোচ হর্হে সাম্পাওলির প্রতি অনাস্থা ক্রমশ জোরালো হচ্ছিল। নানা জল্পনা আর গুজব উড়ছিল বাতাসে। ফিসফাস আর সন্দেহের বাতাবরণ ঘিরে ধরছিল শিবিরকে। একটা জয় পাল্টে দিয়েছে সেই আবহ। নকআউটে ওঠা বদলে দিয়েছে শিবিরকে। মেসিকে নিয়ে বাঁচার স্বপ্ন, আরও বড় লক্ষ্যে ছুটে যাওয়ার সঙ্কল্প এখন মাসচেরানো, দি মারিয়া, ওটামেন্ডি, আগুয়েরোদের চোখে-মুখে। তাই এলএম টেন আর একা থাকছেন না। পাশে পেয়ে যাচ্ছেন ইস্পাত-কঠিন মানসিকতার সতীর্থদের।

ফ্রান্স আবার জোর দিয়েছে হোমওয়ার্কে। কী ভাবে মেসিকে থামানো যায়, কী ভাবে মেসিকে বল ছাড়া রাখা যায়, সেই ছক তৈরি। ফ্রান্সের গড় বয়স অনেক কম। কোনও কোনও ফুটবলার গ্রুপের শেষ ম্যাচ বিশ্রাম পাওয়ায় টগবগে। সমস্যা হল, ফ্রান্স দ্রুত এগিয়েছে গ্রুপে। তাই চাপ সামলে জ্বলে ওঠার পরীক্ষায় বসতেই হয়নি। আর্জেন্টিনা যদি কাজান স্টেডিয়ামে দিদিয়ের দেশঁর দলকে চাপে ফেলতে পারে, তখনই ফরাসিদের আসল পরীক্ষা হবে।

মেসিকে অবশ্য শুধু গোল করলেই চলবে না। ইগুয়াইনদের অজস্র সুযোগ নষ্টকে মেনেও নিতে হবে। রক্ষণের দুর্বলতা সহ্য করতে হবে। ক্রমাগত মিসপাসেও মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। ফাউলেও ঠান্ডা রাখতে হবে মাথা। নাইজিরিয়া ম্যাচে শেষ মুহূর্তে দেখেছিলেন, আর কিন্তু হলুদ কার্ড দেখলে চলবে না। এবং অপেক্ষায় থাকতে হবে সুযোগের। মুহূর্তের ঝলকানিতে মেলে ধরতে হবে জিনিয়াসের দ্যুতি। বিদ্যুৎ চমকের মতো চমৎকৃত করতে হবে।