ব্রাজিল গোল করলেই চিল–চিৎকার : পাওলি দাম

July 2, 2018 3:30 pm

‘ব্রাজিল গোল করলেই চিল–চিৎকার!‌ তখন আমার থেকে বেশি জোরে কেউ চেঁচাতে পারে বলে মনে হয় না। আশে–পাশের লোকজন তো অবাক হয়ে যায় আমার চেঁচানোয়!‌ ওটা আলাদা আনন্দ। বলে বোঝাতে পারব না। হয়ে যায়। স্বতঃস্ফূর্ত।’ কথাগুলো বলেন এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ করেছে ভারতের আজকাল পত্রিকা।

তিনি জানান, বিয়ে হয়েছে। শ্বশুরবাড়ি। বউমা। কিন্তু আমি আমার মতো সব জায়গায় থাকি। ব্রাজিল গোল করলে চেঁচাবই। কেউ থামাতে পারবে না। তবে এ বাড়িরও সবাই ফুটবল দেখে। বাঙালি তো বরাবরই ফুটবলপ্রেমী। আর বিশ্বকাপ কে দেখে না?‌ সবাই দেখে। কিন্তু আমার এই ব্রাজিল, ব্রাজিল শুরুটা বাড়ির সবাইকে দেখে। বাবা ফুটবল খেলতেন। বাড়ির সবাই ব্রাজিলের ভক্ত। ব্যস, আমিও হয়ে গেলাম। একেবারে একনিষ্ঠ, বিশ্বাসী ভক্ত। আমার বিশ্বকাপ দেখা নিয়ম করে শুরু ’‌৯৪ থেকে। মানে যে সময় থেকে বুঝতে শিখেছি। খেলা দেখতে দেখতে বাবা বুঝিয়ে দিতেন। বিশ্লেষণ করতেন। সেটা আমার মধ্যে এমন গেঁথে গেছে যে এখনও খেলা দেখতে বসে যদি দেখি কোনও প্লেয়ারের পেস কম, স্পিড কম বা ভুল পাশ হয়ে গেল সঙ্গে সঙ্গে আমিও বলে উঠি। আরে কী করছে?‌ এটা পাশ হল?‌ বলটা দিল কোথায়?‌ মনে মনে ভাবি, বাবাও তো এমন বলতেন!‌ খেলা দেখতে দেখতে এই যে স্বতঃস্ফূর্ত বকবক, এটা আমার ভাল লাগে। কিন্তু আশেপাশের লোকেদের খুব একটা ভাল লাগে বলে মনে হয় না। খুব ইচ্ছে একবার মাঠে বসে বিশ্বকাপ দেখার। গতবার ব্রাজিলে যখন হল, প্রচণ্ড ইচ্ছে ছিল। হয়নি। এবারও হল না। পরেরবার কাতারে। কিন্তু তার পরেরবার আমেরিকা, মেক্সিকো, কানাডায়। চেষ্টা করবই। এখনও হয়তো আট বছর বাকি। তবে ভাবনাটা ঘুরপাক খাচ্ছে।

পাওলি জানান, ফিরছি রাশিয়ায়। এবার ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে নেইমার অকারণে পড়ে যাচ্ছিলেন!‌ সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটা নিয়ে তো খুব হাসাহাসি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজের পর মেসেজ!‌ সত্যি, কেন যে এতবার পড়ে যাচ্ছিলেন?‌‌ একটুও ভাল লাগেনি। তবে ব্রাজিলের ভক্ত তো। তাই পড়ে–টড়ে গেলেও সমর্থনটা নেইমার পাবেন। ব্রাজিলই পাবে। বিশ্বকাপের আগে নেইমার যখন চোট পেলেন, বেশ চিন্তায় ছিলাম। প্রিয় ফুটবলার চোট পেলে খারাপ তো লাগবেই। তবে ব্রাজিলের ভক্ত মানে শুধু নেইমারকে ভাল লাগে তা কিন্তু নয়। সিলভা, মার্সেলোকেও আমার দারুণ লাগে। চাই তারা ভাল ফুটবল খেলুন। সলিড ফুটবল। আর নেইমার যেন একটু কম পড়ে যান।

তিনি আরও জানান, সেই থেকে ব্রাজিল, ব্রাজিল করছি। তার মানে কি মেসি, রোনাল্ডোকে ভাল লাগে না?‌ লাগে। অবশ্যই। দু’‌জনেই খুব ভাল। তুলনা করা ভুল। অন্যায়ও। মেসিকে দেখলে তো অসাধারণ শব্দটাই মনে আসে। ফুটবল টিম গেম। একজনের ওপর নির্ভর করে না। তাও নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে মেসির গোলটা ক্লাসিক শট। থ্রি স্টেপ গোল!‌ ওভাবে বলটাকে আয়ত্তে এনে গোল করা!‌ দুর্ধর্ষ ফিনিশ।

যদিও সম্ভাবনা নেই। কিন্তু খুব ভাল হত যদি ফাইনালে ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা খেলত। ওহ্‌, সেদিন যে কী করতাম!‌ আমার অনেক বন্ধু আর্জেন্টিনার সমর্থক। আমি বরাবরের ব্রাজিল। লাতিন আমেরিকার ফুটবল দেখে বড় হয়েছি। ফুটবল দর্শকদের কাছে রাতটা মনে রাখার মতো হত। আমি কিন্তু সেদিনও ব্রাজিলের হয়েই চিৎকার করতাম। তখন আর মেসি মাথায় থাকত না। যাই হোক মেসি ভাল খেলুন, চলবে। কিন্তু কাপটা নেইমারদের হাতেই চাই।

Please follow and like us: