নারায়নগঞ্জের স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ও স্বপন সাহা হত্যায় জড়িত পিন্টু -আদালতে পিন্টুর কর্মচারী বাপনের জবানবন্দী

July 17, 2018 9:41 pm

মোঃ খোকন প্রধান নাঃগঞ্জ থেকে-

স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ ও হোসিয়ারী ব্যবসায়ী স্বপন দাস হত্যা কান্ডের ঘটনাও জড়িত রয়েছে ধৃত ঘাতক পিন্টু দেবনাথ -এ কথাগুলি এবার আদালতকে জানিয়েছে পিন্টুর সাবেক কর্মচারী বাপন ভৌমিক। মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ধৃত বাপন ভৌমিক ১৬৪ ধারায় আদালতে জবান বন্দী প্রদান করেন বলে নিশ্চিত করেছেন নাঃ গঞ্জ কোর্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, এদিন দুপুর ২ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত প্রবীর ঘোষ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামী বাপন ভৌমিক নারায়নগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়্যাল ম্যাজিষ্ট্রেট অাশেক ইমামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবান বন্দী দিয়েছে , জবান বন্দী শেষে আদালত তাকে জেলা কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ প্রদান করেন। ধৃত বাপন ভৌমিক স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ কে হত্যা করে তার শরীর কে ৭ টুকরো করা ঘাতক পিন্টু দেব নামের সাবেক কর্মচারী। আদালতের একটি সুত্রে জানা গেছে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সিনিয়র জুডিশিয়্যাল ম্যাজিষ্ট্রেট আশেক ইমামের খাস কামরায় বাপন ভৌমিক তার ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দীতে উল্লেখ্য করেন যে পিন্টু দেবনাথ শুধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ কে ই হত্যা করে নি, সে হোসিয়ারী ব্যবসায়ী স্বপন সাহা কে ওই ফ্ল্যাটে হত্যা করে তার মরদেহ শীত লক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়েছে। এ দুটি হত্যা কান্ডের বাপন নিজে জড়িত নয় দাবী করে আদালত কে বলেন আমি এসব তথ্য পিন্টু দেবনাথের কাছ থেকেই শুনেছি। বাপন ভৌমিক আদালত কে জানায়, আমি এক সময় পিন্টুর কর্মচারী ছিলাম তাই ওর সাথে (পিন্টু) আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। আমি বেশ কিছু দিন পিন্টু ফ্ল্যাটে ওর সাথে ছিলাম তখন বিভিন্ন কথার প্রসঙ্গে পিন্টু ই আমাকে এসব কথা বলেছে।

উল্লেখ্য যে, স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ কে নিজ ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যায় তার ই ঘনিষ্ট বন্ধু পিন্টু দেবনাথ, পরে প্রিয় বন্ধু প্রবীর কে হত্যা করে তার মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ৭ টুকরো করে নিজ বাড়ীর সেফটি ট্যাকিংর ভিতর লুকিয়ে রাখেন পিন্টু, এবং এ বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ঘাতক পিন্টু প্রবীরের মোবাইল ফোনটি বাপন ভৌমিক কে দেয়, সেই মোবাইল ফোনটি দিয়ে বাপন কুমিল্লায় গিয়ে ভারতীয় সীমান্ত বর্তী এলাকা থেকে একটি এসএমএস করে প্রবীরের ভাইয়ের ফোনে, এসএমএসের বাপন জানায়, প্রবীর কে অপহরন করা হয়েছে আর তাকে মুক্ত করতে চাইলে ১ কোটি টাকা মুক্তি পন দিতে হবে। পরে ডিবি পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির কল্যানে প্রবীরের মোবাইল টি সনাক্ত করেন এবং মোবাইল সহ ডিবি পুলিশ বাপন ভৌমিক কে আটক করলে ফাসঁ হয় সকল তথ্য আর সেই তথ্যের ভিক্তিতে ডিবি পুলিশ প্রবীরের ৭ টুকরো করা লাশ উদ্ধার করেন এবং ঘাতক পিন্টু দেবনাথ কে আটক করেন। এঘটনায় আসামী পিন্টু আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দী প্রদান করেন, এক পর্যায়ে ডিবি পুলিশ পুরো ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে খুজে পায় আরো বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। কয়েক বছর পূর্বে পিন্টু দেবনাথের এক ঘনিষ্ট বন্ধু হোসিয়ারী ব্যবসায়ী স্বপন দাস হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়েছিল, এ ঘটনাটি তে স্বপনের পরিবার সন্দেহ করেন পিন্টু কে, এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বপ্নের ভাইয়ের দায়ের করা একটি ডায়েরী মামলায় রুপ ধারন করেন। এ মামলায় ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পিন্টুর সাবেক কর্মচারী বাপন ভৌমিক কে গত রোববার দুই দিনের রিমান্ডে আনেন, রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কারী অফিসার মফিজুল ইসলাম তাকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করেন। এসময় ধৃত বাপন ভৌমিক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবান বন্দী প্রদান কালে প্রবীর হত্যা ও স্বপন সাহা হত্যা ঘটনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশের দাবী। আরো উল্লেখ্য যে নারায়নগঞ্জের কালীর বাজার স্বর্ণপট্রির ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ হত্যা মামলায় ধৃত ঘাতক পিন্টু দেবনাথের দেওয়া জবান বন্দী থেকে পাওয়া তথ্যে মামলার তদন্ত কারী পুলিশ অফিসার জেলা গোয়েন্দা শাখা পুলিশ (ডিবি)র উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম দুই দিন আগে শহরের মাসদাইর থেকে পিন্টু দেবনাথের পরকীয়া প্রেমিকা শীতলা রানী ও পিন্টু কথিত বড় ভাই আমলাপাড়া এলাকার মোল্লা মামুন কে গ্রেপ্তার করেন। ধৃতদের নিহত প্রবীর ঘোষ হত্যা ও নিহত স্বপন সাহা হত্যা ঘটনায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আদালতের নিকট রিমান্ড প্রার্থনা করেছে।

Please follow and like us: