এক কোটি সাত লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে তিনজনের কারাদণ্ড

আগস্ট ২৭, ২০১৮ ৪:২৪ দুপুর

নিউজ ডেক্সঃ

ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের এক কোটি সাত লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে ওই প্রকল্পের সাবেক হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, অফিস সহকারীসহ তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সোমবার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খান পনের বছর আগের এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ওই প্রকল্পের সাবেক অফিস সহকারী মো. মাহফুজ হোসেন ভূইয়াকে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের তিনটি ধারায় মোট ২২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও সাড়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক।

আর ওই প্রকল্পের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য্যকে দুটি ধারায় ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জারিমানা, অনাদায়ে আরও চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রায়ে। তবে সব মিলিয়ে মাহফুজকে ১৪ বছর এবং প্রদীপকে ১০ বছর সাজা খাটতে হবে বলে জানানো হয়েছে রায়ে।

এছাড়া প্রকল্পের কর্মচারী মো. আবুল কালাম আজাদকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। অভিযোগে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর আসামি প্রকল্পের পিয়ন মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়াকে আদালত খালাস দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দণ্ডিত তিন আসামির সবাই পলাতক।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ সরবরাহের জন্য ২০০৩- ২০০৪ অর্থবছরের ওই প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া বিল ভাউচার ও কাগজপত্র দেখিয়ে ১ কোটি ৮ লাখ ৬ হাজার ৫৯১ টাকা আত্মসাত করেন মামলার আসামিরা।

এ অভিযোগে ২০০৩ সালের ২১ অক্টোবর মিরপুর থানায় মামলা করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তখনকার উপ পরিচালক হোসনে আরা বেগম। দুদকের উপপরিচালক শেখ মোহাম্মদ ফানাফিল্লাহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর আদালতে তাদের বিচার শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শুনে বিচারক এ মামলার রায় দিয়েছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন।