তালায় সময়মত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাট চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ

আগস্ট ৩০, ২০১৮ ৯:২৯ দুপুর

এসএম বাচ্চু, তালা(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি:

তালায় চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সময়মত প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অধিক তাপমাত্রার কারণে বেশির ভাগ ক্ষেতে পাটের চারা গজাতে পারেনি। ফলে খাতাকলমে এখন পর্যন্ত পাটের আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখনো সময় রয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, কৃষি বিভাগ পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃশ্যমান নানা সমস্যা সমাধানে কৃষকদের পরামর্শ অব্যাহত রেখেছেন। তবে চাহিদা অনুযায়ী দাম না পেয়ে কৃষক বছরের পর বছর ঠকেই যাচ্ছেন। এজন্য প্রতিবছর চাষের জমি কমে যাবার পাশাপাশি কমছে পাট চাষ।চলতি মৌসুমের প্রথম দিকে পানি সেচ দিয়ে চাষ শুরু হলেও বৈশাখের শেষ সপ্তাহের কম বেশি বৃষ্টি হলেও পরবর্তিতে আশানুরুপ বৃষ্টি হয়নি। বোরো ধান কাটার পর অনেকে জমি চাষ করে পাট বীজ বুনেছেন।

বীজ ব্যবসায়ীরা জানান, বিদেশে পাট ও পাটজাত দ্রোব্যর চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। গতবার পাটের দাম বেশি পাওয়ায় কৃৃষকদের মধ্যে পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে। তারা আরো জানান, সার, বীজ ও কীটনাশকের সঙ্কট না হলে তালাতে পটের উৎপাদন ভাল হবে। তবে অধিকাংশ কৃষক বিএডিসি’র বীজ বপন না করে ভারতের বঙ্কিম ও মহারাষ্ট্র বীজ বপন করেছেন। তারা ভারতের বীজের ওপর বেশি আস্থাশীল বলে জানান।

তালা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে তালা উপজেলায় তিন হাজার ১০ হেক্টর জমিতে ৩৩ হাজার ৮৬২ বেল পাট উৎপাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। আর এসব জমির অধিকাংশতেই আবাদ করা হয়েছে তোষা জাতের পাট।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রমতে ২০১৬-১৭ খরিপ মৌসুমে তালা উপজেলায় তিন হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে ৩৬হাজার ৮৫০ বেল পাট উৎপাদন হয়েছিল। ২০১৫-১৬ খরিপ মৌসুমে এ উপজেলায় পাটের উৎপাদন লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৩৩ হাজার ৯২৫ বেল। ২০১৪-১৫ মৌসুমে পাটের মোট উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ৭০ এবং দেবহাটায় ৮৫, কালীগঞ্জে ৭৪, আশাশুনিতে ৯৫ এবং শ্যামনগরে ৫ হেক্টর পরিমাণ জমিতে পাট উৎপাদন করা হচ্ছে। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ছিল ৩২ হাজার ২৩০ বেল।

তালা উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শামছুল আলম বলেন, এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় পাটের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে। তবে, কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান বলেন, সাতক্ষীরায় খুব ভাল মানের পাট উৎপাদন হয়। এ বছর ভরা মৌসুমে বৃষ্টি কম হওয়ায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে, দ্রুতই পাটের আবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।