বিশ্বের ১’শ ব্যক্তির মধ্যেই প্রতিমন্ত্রী পলককে রাজনীতিবিদ ক্যাটাগরিতে মূল্যায়ন

সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ ৮:০৪ দুপুর

নজরুল ইসলাম তোফা:

বাংলাদেশের সাংবিধানিক নামের এইদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। এমন এই দেশ সুুুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা, মাছে-ভাতের নদী মাতৃক দেশ। এমন দেশের সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। সুতরাং এমন এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার উঠে পড়েই লেগেছে। বলতে বাধা নেই এই দেশ, একটি উন্নয়নশীল দেশ। এইদেশে শিক্ষার হার উন্নত দেশের তুলনায় কম। কিন্তু তা দিনে দিনে দেখা যাচ্ছে, স্বাক্ষরতার হার ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বলা যায় যে, তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের কারনেই তা সম্ভব হচ্ছে। আবার মানুষের জীবন যাপনের ব্যাপক পরিবর্তনও ঘটছে। সাথে সাথে রুচিবোধের পাশা পাশি সামাজিক রীতিনীতি, কৃষ্টি কালচার চর্চাটাও অনেকাংশেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এই দেশের সরকার বৃহৎ একটি স্বপ্ন বা আশা আকাঙ্ক্ষার আলোকে সমাজ পরিচালিত করছে।

তথ্য প্রযুক্তির খাতে ২০০৯ সালে এই দেশের আয় ছিল মাত্র ২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। সেখানে ২০১৫ সালে এ খাতে আয় ৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অ্যাডভান্সড টেকনোলজি ব্যবহারেই অনেক সক্ষম জনবল গড়ে তোলে বর্তমান সরকার সাফল্য পেয়েছে।

বর্তমান সরকার ডিজিটাল কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তির সুফল পাওয়ার লক্ষ্যেই নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগ সরকার মহাকাশে খুব গুরুত্বপূর্ণ এক সফল নির্মাণ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তবে জানা দরকার মহাকাশে বিভিন্ন প্রকার স্যাটেলাইট রয়েছে। এই গুলোর মধ্যে- ‘আবহাওয়া স্যাটেলাইট,’ ‘পর্যবেক্ষক স্যাটেলাইট,’ ‘ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট’। তাছাড়া বিএস-ওয়ান স্যাটেলাইট হচ্ছে যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইট।

“বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট” এর কাজ মুলত টিভি চ্যানেল গুলোর স্যাটেলাইট সেবা নিশ্চিত করা। এমন এই স্যাটেলাইটের সাহায্যে চালু করা যাবে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস। তাছাড়াও এই ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ যেসব জায়গায় অপটিক কেবল কিংবা সাবমেরিন কেবল পৌঁছায়নি সে সব জায়গায় এমন স্যাটেলাইটের সাহায্যে নিশ্চিত ভাবেই তা পৌঁছাবে।আরও পারে ইন্টারনেট সংযোগ। সুতরাং আওয়ামী লীগ সরকার স্যাটেলাইটের সুফল পৌঁছে দিতে যেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের দোরগোড়ায় অনেকে কাজ করছে। তাদেরই মধ্যে ‘’সবচেয়ে প্রভাবশালী’’ ও “কর্মদক্ষ” ১০০ জন ব্যক্তির নামের এক তালিকা “আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক অ্যাপলিটিক্যাল” প্রকাশ করেছে। এমন এই তালিকায় উল্লেখ যোগ্য ব্যক্তির মধ্যেই ‘অস্ট্রেলিয়ার প্রধান মন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল,’ ‘ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা-আকুফো আদো’ ও ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের প্রতিষ্ঠাতা টিম বারনার্সলি’র সঙ্গে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতিমন্ত্রী ‘জুনাইদ আহমেদ পলক’ এর নামও স্থান পেয়েছে।

তিনি আনন্দের সঙ্গে বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কাজ করলে সফলতা পাওয়া যায়, এ ভাবেই একদিন বাংলাদেশ শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞান নির্ভর বাংলাদেশ হবে। অর্থনীতির উত্তরণে এই দেশ নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হবে। জাতির গর্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত এমন ডিজিটাল বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে।’ তিনি বহু কর্মের আলোকেই আরও বলেন, সফটওয়্যার ফিনিশিং স্কুল, আইটি ফরেনসিক ল্যাব, মডার্নাইজেশন অব রুরাল অ্যান্ড আরবান লাইভস ও স্মার্ট সিটি এর মতো প্রকল্প গ্রহণ করে আওয়ামীলীগ সরকার সফল হয়েছে।

তাছাড়াও ৯৪ টি আইসিটি পণ্য আমদানিতেই শুল্ক প্রত্যাহার, আইসিটি পণ্য রফতানিতেও ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা, হাই-টেক পার্কের বিনিয়োগ কারীদের জন্যেও ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ ঘোষণা, প্রতিবন্ধী কিংবা শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য বহু চাকরি মেলার আয়োজন করে যোগ্যদের চাকরির সুযোগ করে দেওয়া, দেশের ৬৪ জেলায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্পের আয়োজন করে সেখানে তরুণ শিক্ষার্থীদের আইসিটিতে ক্যারিয়ার গড়ে তোলতে কিংবা তাদের উদ্বুদ্ধ করবার চমৎকার প্রকল্প ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রফেশনাল আউট সোর্সিং প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ১৩ হাজার তরুণদের মধ্যেই ১২ হাজার ৭৬৮ জনের অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে পনেরো লাখ ৭২ হাজার ৫৮২ মার্কিন ডলার আয়ের ঘটনাটি এই সরকারের এক বড় সাফল্য।

একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই শেখ হাসিনা ছয় জানুয়ারি ২০০৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় বারের মতো শপথ নিয়েছিলেন। সুতরাং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণই ছিল সরকারের মূল নির্বাচনী ইশতেহার। তাই সরকার চ্যালেঞ্জ নিয়েই যেন দিনে দিনে তথ্য প্রযুক্তির অনেক ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনে সক্ষম হচ্ছে।

আইসিটি বিভাগের দাবি, গত চার বছরে সাফল্য ও অগ্রগতির তালিকায় যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ঘটনা। এর মধ্যে রয়েছে বারো ডিসেম্বরকেই ঘিরে জাতীয় তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) দিবস ঘোষণা, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে ২০১৭ সালের দিকেই মানবিক রোবট সোফিয়াকে এনে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি ভিত্তিক উন্নয়ন সম্পর্কে এদেশের মানুষকে পরিচিত করানো, এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যালায়ান্স অ্যাওয়ার্ড (এপিআইসিটি) -২০১৭ আয়োজন করা, জাতীয় ভাবেই জরুরি সেবা দিতে ৩৩ লাখ ফোন কলের বিশ্লেষণ করে ‘৯৯৯’ চালুকরণ, পেপ্যাল-জুম সেবা চালু, ডিজিটাল মিডিয়ায় বাংলা ব্যবহারকেও সমৃদ্ধ করার প্রকল্প, অ্যাপ ও গেম ডেভেলপারদের জন্য গুগল মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট চালু করেছে বর্তমান সরকার।

আইসিটি বিভাগের তরুণ প্রতিমন্ত্রী জনাব “জুনাইদ আহমেদ পলক” বলেছেন যে, বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০২১’ এর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে এক মধ্য আয়ের দেশ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যেই সম্পূর্ণ রূপে দারিদ্র্য মুক্ত এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে এই বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ তথ্যপ্রযুক্তি আধুনিক শিক্ষা, ই-সেবা ও সরকারের অভ্যন্তরীণ তথ্যপ্রবাহে ইলেকট্রনিক পদ্ধতি প্রবর্তনের উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

‘বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি’ ২০০৯ সালের ১৭ থেকে ১২ নভেম্বরে “ডিজিটাল বাংলাদেশ সামিট” নামক এ বিষয়ে প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল, যাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো আলোচিত হয়। প্রচলিত শিক্ষা ও সংস্কৃতিতেও আমূল পরিবর্তন এনেই তথ্য প্রযুক্তির সমন্বয় করতে হবে। আর না পারলেই যেন ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্মের কর্ম সংস্থান নিয়ে খুব বড় ধরনের জটিলতায় পড়তে হবে। এমন একথা গুলো বলেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তির মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ডিজিটাল বাংলার এই তথ্য প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা থেকে মন্ত্রিত্ব পাওয়া এমন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় বেকার তৈরির কারখানা। আসলেইতো এই প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রকৃত পক্ষে সামনের দিন গুলোতে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অসম্ভব হবে। কারণ, বর্তমানে দেখা যায় যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পাঠ্যক্রম, পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষক সহ শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সুুতরাং এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সঠিক সময়েই’ মোস্তাফা জব্বারকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন।

এদিকে আবার “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ” থেকে পাঠানো একটি বিবৃতিতে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং তাঁর সুযোগ্য সন্তান মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টা জনাব, সজীব ওয়াজেদ জয় এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে দেশীয় “ডিজিটাল বাংলাদেশ” নির্মাণের অভিযাত্রায় ডিজিটাল সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তনে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই এক অনবদ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে এটি তার বৈশ্বিক স্বীকৃতি।”

ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাঁর অবদান আসলেই অনেক উল্লেখযোগ্য।বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে তিনি বয়সের বিবেচনায় সবচেয়ে তরুণ। পলক আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছে ২০১৪ সাল থেকে। ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘ইয়াং গ্লোবাল লিডার্স’ তালিকাতেও পলক এর নাম আসে। তিনি আরও বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। মানুষ হতে হলে যা কিছুর প্রয়োজন তার সব টুকুই আসে শিক্ষা থেকে। দ্রুতগতিতে বাড়ছে প্রাথমিক শিক্ষার হার। শক্তিশালী হচ্ছে জাতীর বুনিয়াদ। সমাজ হয়ে উঠছে উজ্জল। এই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এক উজ্জল সম্ভাবনায়।

আবার যদি এই আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়নের আগাম দিক নিয়ে কিছু আলোচনা করতেই চাই তা হলে উঠে আসে, তথ্য প্রযুক্তি অবকাঠামোকে গড়ে তুলতে দেশে ২৮ টি হাই-টেক কিংবা আইটি পার্কের নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই পার্কগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২৮ লাখ ৭২ হাজার বর্গফুট ফ্লোর স্পেস বরাদ্দ প্রদান করা অবশ্যই সম্ভব হবে। এর মাধ্যমেই প্রায় ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

তাছাড়াও আগামীতে আসছে আরও টেকনোলজি ল্যাব অ্যান্ড সফটওয়্যার ফিনিশিং স্কুল, স্মার্ট সিটি প্রকল্প, মডার্নাইজেশন অব রুরাল অ্যান্ড আরবান লাইভস, জাতীয় নিরাপত্তা কেন্দ্র এবং ফরেনসিক ল্যাব, ইন্টিগ্রেটেড ই-গভর্মেন্ট প্রকল্প, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিএলএসআই ল্যাব, আইটি পার্ক ফর এমপ্লয়মেন্ট প্রজেক্ট,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একাডেমি, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে আইসিটি সেন্টার,ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প, জাতীয় সার্টিফিকেশন পদ্ধতি, জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি ও ভার্চুয়াল ইউনিভার্সিটি অব মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ইনোভেশন প্রকল্প ও উদ্যোগ।
অ্যাপলিটিক্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা “রবিন স্কট” বলেছেন, ‘বিশ্বের নানা প্রান্তে যারা ডিজিটাল গভার্নেন্স প্রতিষ্ঠায় রত তারা নিরলস ভাবেই কাজ করছে, তাদের খুঁজে পেরেছি এটা অনেক আনন্দের বিষয়। এমন এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণ স্ব স্ব ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন। তাঁরা জ্ঞানের আলোকে সারাবিশ্ব সহ বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছায়ে দিচ্ছে এবং বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির কাজ করছে। এ প্রযুক্তির ঝুঁকি কমানোর অনেক চেষ্টাও করছেন।’ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন এই উদ্যোগের আলোকে বলা যায়, ১২ ডিসেম্বর, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ এর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা ছিল ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে এদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হবে। একটি উন্নত দেশ হবে, সমৃদ্ধশালী ডিজিটাল সমাজ হবে, এমন ডিজিটাল যুগের জন সাধারণ অনেকাংশেই যেন সফলতার দ্বার প্রান্তেই পৌঁছাবে, রূপান্তরিত অনেক উৎপাদন ব্যবস্থা চালু হবে, নতুন নতুন জ্ঞানভিত্তিক সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সমন্বয়ে একটি জ্ঞান ভিত্তিক সমাজের স্বপ্নেই বিভর ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১মবারের মতো ‘’ওয়ার্ল্ডস হান্ড্রেড মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পিপল ইন ডিজিটাল গভার্নমেন্ট’’- শীর্ষক তালিকায় প্রতিমন্ত্রী পলকের নাম এসেছে ‘রাজনীতিবিদ’ ক্যাটাগরিতে। সুতরাং তাঁদের প্রধান এই বিষয়ের কাজও ত্বরান্বিত হচ্ছে।

আসলেই এমন এই উদ্যোগের ডিজিটাল বাংলাদেশ সত্যিই বিশ্বের জ্ঞানভিত্তিক সমাজের সঙ্গে মিলিয়েই বাংলার জনগোষ্ঠীকে উপহার দেওয়া খুব প্রয়োজন বৈকি। আমাদের দামাল ছেলেরা অনেক রক্ত দিয়ে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আজকের এই বাংলাদেশ পেয়েছে। আজ আমরা তিল তিল করেই দাঁড়াতে শিখছি। তাই বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের সোনার ছেলেরা হাতের নাগালে পেয়ে যাবে অনেক আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়নশীল দেশ ও সমৃদ্ধশালী নতুন জীবন। চলতি বছরের মধ্যেই এদেশের চার হাজার ইউনিয়নে খুব দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রাম এবং শহরের ব্যবধান কমিয়ে ডিজিটাল প্লাটফর্মকে আরও অনেকাাংশে প্রসারিত করতে সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জনপ্রিয় নেতা জুনায়েদ আহমেদ পলক। বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটির মতো। তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে নয় কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। আজ থেকে নয় বছর আগে, অর্থাৎ ২০০৮ সালে এই দেশে যেটা ছিল মাত্র নয় লাখ, নয় বছরের ব্যবধানে তা নয় লাখ থেকে নয় কোটিতেই উন্নীত হয়েছ।’ ইন্টারনেটের খরচ খুব কমের ফলেই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি। পলক বলেছেন, ‘ইন্টারনেট সংযোগ সহজলভ্য এবং সুলভ মূল্যে সবার কাছেই পৌঁছায়ে দিতে না পারলে আমরা অর্থাৎ এ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ই-কমার্স কিংবা ডিজিটাল প্লাটফর্ম করতে পারব না।’ সুতরাং জনপ্রিয় এনেতা হয়তো বা তাঁর চৌকস ও সুদক্ষ কর্মদক্ষতায় তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞানের আলোকে জননেত্রী শেখ হাসিনার সহায়তায় খুব দ্রুতগতিতে গড়ে তোলবে “ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ।”

নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।