এই দিনে কারবালায় পৌঁছান হজরত ইমাম হুসাইন (রা.)

September 13, 2018 6:35 pm

ধর্মীয় ডেক্সঃ

৬১ হিজরি সালের এইদিনে (২ মহররম) কারাবালার কালজয়ী বিপ্লবের মহানায়ক হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) বিশ্বের সবচেয়ে করুণ অথচ বীরত্বপূর্ণ ঘটনার অকুস্থল কারবালার মরু-প্রান্তরে এসে পৌঁছান। দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। ঘটনাক্রমে ১৪৪০ হিজরির আজও বৃহস্পতিবার। সর্বোচ্চ ত্যাগের দৃষ্টান্ত রেখে ৮ দিন পর মানবতার শত্রুদের হাতে এখানেই তিনি শাহাদত বরণ করেছিলেন।

কুফায় নিযুক্ত ইয়াজিদের গভর্নর কারবালা প্রান্তরে ইমাম হুসাইনের কাফেলার আগমন সম্পর্কে জানতে পারে। পানি, ঘাস ও দুর্গবিহীন এই শুষ্ক এলাকায় কুফাগামী ইমামের কাফেলাকে নিয়ে আসার পেছনে ইয়াজিদ-বাহিনীর জেনারেল হোরের ভূমিকা ছিল। এ রকম একটি এলাকায় ইমামের কাফেলাকে আসতে বাধ্য করার জন্য হোরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। ইবনে জিয়াদ ইমামের কাছে একটি চিঠি পাঠায়। ইয়াজিদ যে ইমামকে হত্যার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল ইবনে জিয়াদকে সে চিঠিতে তা উল্লেখ করে ইবনে জিয়াদ। চিঠিতে বলা হয় ইমামকে হয় ইয়াজিদ ও জিয়াদের নির্দেশ মান্য করতে হবে অথবা নিহত হতে হবে!

জালিম ও মহাপাপিষ্ঠ শাসক ইয়াজিদের প্রতি আনুগত্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি মহাবিপ্লবের প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন যাতে বিশ্বনবী (সা.)’র ধর্মের পবিত্রতা রক্ষা পায় এবং প্রকৃত ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার পথ খুলে যায়। মদীনা থেকে মক্কায় গিয়ে তিনি ইয়াজিদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এরপর নিরাপত্তার কারণে এবং পবিত্র ও শান্তির নগরী মক্কায় রক্তপাত এড়ানোর জন্য তিনি হজ না করেই ইরাকের কুফার দিকে রওনা দেন।
ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছেন শুনে কুফার দোদুল-মনা লোকেরা তাকে ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্ব দেয়ার ও ইসলামী হুকুমাত কায়েমের মাধ্যমে মদ্যপ, জুয়াড়ি ও ব্যভিচারী ইয়াজিদের প্রজা হওয়ার কলঙ্ক থেকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। কুফাবাসী’র পক্ষ থেকে ১৮ হাজার চিঠি তাঁর কাছে পৌঁছে এবং প্রতিটি চিঠির মধ্যে ১০০ জনের স্বাক্ষর ছিল। কিন্তু প্রয়োজনের সময় কারবালায় খুব কম লোকই তাঁকে সহায়তা দিয়েছে। ফলে ইয়াজিদের প্রায় ত্রিশ হাজার সদস্যের সুসজ্জিত বাহিনীর বিরুদ্ধে ১৪০ জন সঙ্গী নিয়ে তিনি বীরের মত লড়াই করে শহিদ হন।

এই অসম লড়াইয়ে তাঁর পরিবারের অনেক সদস্যসহ ৭২ জন সঙ্গী শহিদ হন। কারবালা বিপ্লব মুসলমানদের মধ্যে প্রকৃত ইসলামের চেতনা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে। আর এ জন্যই বলা হয়: ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হর কারবালা কি বাদ। অর্থাত প্রতিটি কারবালার পরই জীবিত হয় ইসলাম। ইমাম হুসাইন (রা.) মনে করতেন তাঁর শাহাদত ও রক্তদান ছাড়া যদি ইসলাম পুনরুজ্জীবিত না হয় তাহলে শাহাদতই উত্তম এবং ইয়াজিদের মত শাসক যদি বিনা বাধায় ও আপত্তিতে ‘ইসলামী সমাজের নেতা’ হন তাহলে ইসলাম চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে। সত্যের পথে শাহাদত মধুর চেয়েও মিষ্টি –এই সংস্কৃতি চালু করে গেছেন কারবালার বীর শহিদরা। ইসলামকে আর কোনো কিছুই এত প্রাণ ও মর্যাদা দেয় না যা দেয় শাহাদত। কবি নজরুল ভাষায়, আঁজলা ভরে আনলো কি প্রাণ কারবালাতে বীর শহীদান?

Please follow and like us: