ক্ষমতাসীনদের অধীনে নির্বাচনে আপত্তি নেই ডঃ কামালের

September 24, 2018 3:34 pm

নিউজ ডেক্সঃ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী রাজনৈতিক জোট গঠনের মূল উদ্যোক্তাদের একজন ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বর্তমান সংবিধানিক কাঠামো এবং ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে যোগদান করতে তারা নীতিগতভাবে রাজি আছেন।

বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, তবে নবগঠিত জোটের শরীকদের সাথে এ ব্যাপারে কোনো কথা হয়নি। এটি শুধুই আমার দলের অবস্থান। এটা একটা সিম্পল প্রভিশন। আমি মনে করি সবাই এটা বলতে দ্বিধা করবেন না। তবে এরকম কোনো সিদ্ধান্ত আমরা বসে নেইনি।

নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনকারী বিএনপি যখন এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়েছে, তখন ড. কামাল হোসেন এ কথা বললেন।

তিনি বলেছেন, বলা হচ্ছে, তারা যেগুলো আইনে আছে, এগুলো মেনে চলবেন। যদি দেখা যায় যে, তারা এখান থেকে সরে যাচ্ছেন বা কোনো প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছেন। তখন এ বিষয়ে প্রথমে আপত্তি করা হবে যে, এটা থেকে আপনারা বিরত থাকেন। এরপরও অন্যপক্ষ যদি দেখেন যে রীতিনীতি না মেনে এটা করা হচ্ছে। তখন তো নির্বাচন বাতিল করার জন্য কোর্টে যেতে হবে।

তিনি আরো বলেন, যারা সরকারে থাকবে, নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে তাদের দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ যারা আছেন, তারা যখন একটা স্বাক্ষর করবেন যে, আমরা কেউ এখানে হস্তক্ষেপ করবো না, আমরা এই প্রক্রিয়াকে একটা নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া হিসেবে হতে দেবো, তখন আমরা ধরে নিতে পারি সরকারের পক্ষে বা আমাদের পক্ষে যারা শপথ নিয়ে কথাগুলো বলবেন, তাদেরতো ন্যূনতম একটা দায়িত্ববোধ থাকবে।

ড. কামাল বলেন, নির্বাচন কমিশন এটা রেফারি হিসেবে পরিচালনা করবে। কেউ যদি নিরপেক্ষতা থেকে সরে যায় তারা সেটা চিহ্নিত করবে এবং এটাকে অবৈধ বলবে। এগুলোতো ইলেকশন আইনেই আছে।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে শনিবার এই জোটের প্রথম যে সমাবেশ হয়, সেখান থেকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয় এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সে সব দাবিদাওয়া মেনে নেয়ার আহবান জানানো হয়।

বিবিসির সাথে সাক্ষাৎকারে জোটের সদস্য গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন জানান, তাদের এই জোট কোনো নির্বাচনী জোট নয়। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই শুধু তারা একজোট হয়েছেন।

তিনি বলেন, এটা সুষ্ঠু নির্বাচন করার জোট। যে কারণে এই জোট গঠন দ্রুত করা সম্ভব হয়েছে।

কিন্তু সরকারকে বিপদে ফেলে বিএনপিকে মাঠে নামার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য এই জোট করা হয়েছে বলে সমালোচনা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

এ বিষয়ে ড. কামাল বলেছেন, উনাদের আশ্বস্ত করতে পারেন যে, এ রকম কোনো চিন্তা আমাদের মাথায় ছিল না। সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে এই জোট। সরকারও এই জোটে আসতে পারে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কী ধরণের পূর্বশর্ত তারা সরকারকে দিচ্ছেন? এই প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ভোটার লিস্ট নিরপেক্ষভাবে করতে হবে। ভোটার লিস্ট অনুযায়ী সবার ভোট দেয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

Please follow and like us: