জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে হামাসের বিরুদ্ধে বিল পাশ হয়নি

ডিসেম্বর ৭, ২০১৮ ৬:৪২ দুপুর

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট হামলা চালানোর জন্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের নিন্দা করে আনা যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পাশ করা যায়নি।

প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়ে ৮৭টি, বিপক্ষে ৫৭টি। আর ৩৩টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি পাশ হওয়ার জন্য দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন দরকার ছিল।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত নিকি হেলি বলেছিলেন, এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হচ্ছে এক ‘ঐতিহাসিক ভুল’ সংশোধন করা। কারণ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আজ পর্যন্ত হামাসের নিন্দা করে এরকম কোন প্রস্তাব পাশ করেনি।

তবে হামাসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সাধারণ পরিষদের এই ভোট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের মুখে একটা ‘চপেটাঘাত।’

হামাস মনে করে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অধিকার তাদের রয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অবশ্য দাবি করছেন, যদিও প্রস্তাবের পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পড়েনি, তারপরও এই প্রথম সাধারণ পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হামাসের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে কিন্তু এটি মানতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই প্রথম হামাসের নিন্দা করে এ ধরণের একটি প্রস্তাব আনা হয়েছিল। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রিটেন হামাস এবং এর সামরিক শাখাকে একটি সন্ত্রাসাবাদী দল বলে গণ্য করে।

অন্যদিকে হামাসের সমর্থকরা মনে করেন, এটি ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে একটি ন্যায্য এবং বৈধ প্রতিরোধ আন্দোলন। ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনে যে নির্বাচন হয়, তাতে হামাস জয়ী হয়েছিল।

হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জাহরি টুইটারে মন্তব্য করেছেন, “জাতিসংঘে এই মার্কিন চেষ্টা যে বিফল হলো, তা মার্কিন প্রশাসনের গালে একটা চপেটাঘাত এবং আমাদের প্রতিরোধ আন্দোলন যে বৈধ, সেটাই প্রমাণ করলো।”

আর জাতিসংঘে ইরানের উপ রাষ্ট্রদূত এসাগ আল হাবিব বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে এই সংঘাতের মূল কারণ থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করছে। ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে এ পর্যন্ত তিনবার যুদ্ধ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের বলিষ্ঠ সমর্থক। তারা জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ বছর তেল আভিভ থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেমে সরিয়ে এনেছে। বিবিসি