তালায় দরবার স্তম্ভ বৃটিশ হটাও আন্দোলনের সাক্ষী এখনো মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে

ডিসেম্বর ৮, ২০১৮ ৯:৫১ সকাল

এসএম বাচ্চু,তালা থেকে:

বৃটিশ হটাও আন্দোলনের সময় অনেক পরিকল্পনাই হতো তালা উপজেলায়। সেই সময়কার স্মৃতি নিয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তালা বাজারের ‘দরবার স্তম্ভ’। প্রাচীন এ স্তম্ভটির নিচের দিকে ২ দশমিক ৮ মিটার বেড়, ক্রমশ সরু হয়ে উপরের দিকে উঠেছে ৩ দশমিক ৭ মিটার উচ্চতায়। পুরোপুরি ইটের তৈরি গোল স্তম্ভটির মাথার ওপর একটি বড় কলস, তার ওপর আরেকটি ছোট কলসের চিহ্ন দেখা যায়।

জানাযায়,ভারতবর্ষ যখন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শুরু করেছে, তখন ১৯০৫ সালে দুই বাংলাকে বিভক্ত করার ঘোষণা দেয়, যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। পরে আন্দোলন আরো জোরদার হলে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করতে বাধ্য হয় বৃটিশ শাসকরা। ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা এলে তা উদযাপনে এই স্তম্ভ স্থাপন করে তত্কালীন বৃটিশ-বিরোধী সংগঠক রাজকুমার বসু। সেই আন্দোলনের সাক্ষী ‘দরবার স্তম্ভ’ মাথা উঁচিয়ে জানিয়ে দিচ্ছে তার অতীত ইতিহাস। স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে আন্দোলন-সংগ্রামের অজ¯্র গল্প। খুলনা-পাইকগাছা সড়কের পাশে নির্মিত দরবার স্তম্ভটি একসময় ঢেকে পড়েছিল অবৈধ স্থাপনায়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করায় বেরিয়ে আসে স্তম্ভ মাথা। এরপর প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। তবে দরবার স্তম্ভর সেই লাল ইটের চিহ্ন আজ অনেকটাই বিলীনের পথে। এছাড়া স্তম্ভর আশেপাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকান-পাট।

স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘দরবার স্তম্ভটি আমরা ছোটবেলা থেকে দেখছি। এখানে ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের পরিকল্পনা হতো।’ এই স্তম্ভর পাশে একসময় দরবার মেলা হতো বলে তিনি জানান। অনেকেই আবার বলেন, রাজারা এখানে দাঁড়িয়ে খাজনা আদায় করতেন।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকের দাবি যদি স্তম্ভ আরো একটু পরিষ্কার পরিচ্ছন করে চারপাশে গ্রিল এর বেষ্টনী করা যেত তাহলে কয়েকশত বছর পরে প্রজন্ম দেখত পারতো । বাংলায় বৃটিশ হটাও আন্দলোনের ইতিহাস স্বাক্ষী আমাদের তালা উপজেলার সদরে অবস্থিত।