নতুন নির্বাচনের জন্য আন্দোলন কর্মসূচী দেবে বিএনপি-মির্জা ফখরুল

ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮ ৯:২৫ দুপুর

নিউজ ডেস্ক-

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই নির্বাচন সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে প্রতিটি এলাকায় ত্রাস তৈরি করা হয়েছিল। আমরা এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছি। আজ সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানী গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, গত শনিবার রাত থেকেই ব্যালট পেপারে সিল মেরেছে আওয়ামী লীগ। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এ নির্বাচন পুনরায় সংগঠিত করতে হবে। কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এই নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাঙচুর করা হচ্ছে। এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। নতুন নির্বাচনের জন্য খুব শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলেন ফখরুল। এই নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে— এ কথা উল্লেখ করেন তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি আসনে জয়লাভ করেছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশন থেকে ঘোষণা করা ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। বিএনপি যে পাঁচটি আসনে জিতেছে সেগুলো সবই রাজশাহী বিভাগে এছাড়া বাকি সাত বিভাগে বিএনপি কোনও আসনে জয় লাভ করতে পারেনি।

বগুড়া-৬ আসন থেকে ২ লাখ ৫ হাজার ৯৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মহাজোটের জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমর পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৯৬১ ভোট। বগুড়া-৪ আসনে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭২২ ভোট পেয়ে জিতেছেন মোশাররফ হোসেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মহাজোট থেকে জাসদের (ইনু) রেজাউল করিম তানসেন পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৬৭৯ ভোট।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের ১৫৯টি কেন্দ্রের সব কয়টিতে জিতেছেন বিএনপির প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৬৬ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী মু. জিয়াউর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫২ ভোট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের ১৫০ কেন্দ্রের সবগুলোতেই জিতেছেন বিএনপির প্রার্থী মো. হারুন উর রশিদ। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৬১ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মো. আব্দুল ওদুদ পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৯৩৮ ভোট।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ৮৮ হাজার ৬১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জাহিদুর রহমান জাহিদ। মোটরগাড়ি প্রতীক নিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইমদাদুল হক পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪২৭ ভোট।

এছাড়াও, বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনি জোট করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে জিতেছেন আরও দুই জন। মৌলভীবাজার-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৮৯ হাজার ৭৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মহাজোটের শরিক যুক্তফ্রন্টের প্রধান দল বিকল্প ধারার প্রার্থী এম এম শাহীন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৭০ ভোট।

সিলেট-২ আসনে গণফোরামের নিজস্ব প্রতীক ‘উদিয়মান সূর্য’ নিয়ে জয়ী হয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডাব প্রতীকের মুহিবুর রহমান। প্রসঙ্গত, বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা হওয়া ২৯৮টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫৯টি আসনে এককভাবে জয়লাভ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি জিতেছে ২০টি আসন।