মন্ত্রীর হাত থেকে নতুন বই নেয়া হলো না হাজারো শিশুর

জানুয়ারি ১, ২০১৯ ৩:১৭ দুপুর

নিউজ ডেক্সঃ

শীতের পরশমাখা স্নিগ্ধ সকালটি ছিল আনন্দ- উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনায় ভরা। বছরের প্রথম দিন রঙ্গিন বই হাতে পাওয়ার রীতি যেন চিরচেনা। তবুও হাতে নতুন বই নিয়ে আনন্দে বিহঙ্গের মতো উড়ছে আকাশে। নির্ভুল বইয়ে গড়ে উঠবে স্বপ্নের আগামী, বিকশিত হবে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ, এমনটাই প্রত্যাশা খুদে শিক্ষার্থীদের।

প্রাক- প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মোট ৪ কোটি ২৬ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে বই বিতরণ উপলক্ষে দেশজুড়ে আয়োজন করা হয় ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব দিবস’। এ উপলক্ষে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল ও কলেজ মাঠে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজন করা হয় বই উৎসব।

সকালে আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল ও কলেজ মাঠে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বই উৎসবের উদ্বোধন করেন। নতুন বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা ছিল উচ্ছ্বসিত। এবার সারাদেশের স্কুলগুলোতে চার কোটি ২৬ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দেয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক ও জাতীয় দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানসহ দেশবরেণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে আগেই জানানো হয়েছিল। ফলে উৎসব উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল বাড়তি আমেজ।

সকাল ৯টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। তাই শিশু-কিশোররা ঠান্ডা উপেক্ষা করে ভোর থেকেই মাঠে হাজির হতে থাকে। ৯টার আগে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মাঠ। উচ্ছ্বাসে ভাসছিল শিশু-কিশোররা। মন্ত্রী এসে হাতে তুলে দেবেন নতুন বই – সেই ইচ্ছা অবশ্য পূরণ হয়নি তাদের।

প্রায় দেড় ঘণ্টা পর জানা গেল আসবেন না মন্ত্রী। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মোবাইল ফোনে শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান মোস্তাফিজুর রহমান। ফলে মন্ত্রীর হাত থেকে নতুন বই নেয়া হলো না হাজারো শিশুর। যে অনুষ্ঠানে প্রাথমিকের হাজার হাজার শিক্ষার্থী বই আনতে গিয়েছেন সেখানেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী না আসায় হতাশ হয়েছেন অভিভাবকরা।

পরে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক ও জাতীয় দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের উপস্থিতিতে শুরু হয় অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের নানা পরিবেশনা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন অতিথিরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২টি নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করা হচ্ছে। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

সারাদেশে বই উৎসবে বিতরণ করা হচ্ছে ৩৫ কোটি নতুন বই। নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণের এমন উৎসব আর অন্য কোন দেশে দেখা যায় না। শিক্ষাবিদরা বলছেন, বিনামূল্যে বই বিতরণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমিয়েছে কয়েক গুণ। এ বছর সোয়া ৪ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য ৩৫ কোটিরও বেশি বই ছাপা হয়েছে।

২০১০ সাল থেকে পহেলা জানুয়ারি খুদে শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশেষ দিন। যে দিনটিকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে থাকে আনন্দের উদ্ভাস। বলছিলাম বই উৎসবের কথা। বই উৎসবের দিন নতুন বইয়ের ঘ্রাণে শিক্ষার্থীরা যেন চঞ্চল হয়ে ওঠে।

সরকারি উদ্যোগে গত ১০ বছর যাবৎ সারাদেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণ করে আসছে সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়। শিক্ষাবিদদের মতে নতুন বছরে প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়ার বিষয়টি শিক্ষার্থীদেরকে পড়া- লেখায় আরও গতিশীল করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের করে তুলবে নিয়মানুবর্তী ও শৃঙ্খলা।

এনসিটিবি জানিয়েছে, এ বছর প্রাক- প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য বই ছাপা হয়েছে। ২০১০ সালে প্রথম বই বিতরণ করা হয়- ২৩ কোটি ২০ লাখ, তারপর ২০১১ ও ১২ সালে তা উন্নীত হয় ২৩ কোটিতে। ২০১৩ সালে বিতরণ করা হয় ২৭ কোটি বই । ২০১৫ সালে শিক্ষার্থীরা বই পায় ৩২ কোটি ৬৩ রাখ ৬২ হাজার। ২০১৬ সালে বিতরণকৃত বইয়ের সংখ্যা দাড়ায় ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৬০ । ২০১৭ তে বিতরণ করা হয় – ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই । ২০১৮ সালে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২। এবং ২০১৯ সালে ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার।

এ বছর নির্বাচনই উত্তাপ থাকা সত্ত্বেও গত ২৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে বই উৎসবের উদ্ধোধন করেন। ২০১৯ সাল নিয়ে গত দশ বছরে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে প্রায় ২’ শ ৯৬ কোটি বই তুলে দেয়া হয়েছে।