সিলেটের সম্মান বাঁচালো অলক কাপালি

জানুয়ারি ১৫, ২০১৯ ৯:৪২ দুপুর

স্পোর্টস ডেক্সঃ

ঘরের মাঠে লজ্জার হারের হতাশা নিয়ে ফিরতে হল সিলেট সিক্সার্স সমর্থকদের। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হেরেছে ডেভিড ওয়ার্নারের দল।

ছোট টার্গেট দিয়েও কুমিল্লার ইনিংসের শুরুতে কিছু উত্তাপ ছড়িয়েছিল সিলেট। স্কোর বোর্ডে কোন রান যুক্ত হওয়ার আগেই ওপেনার এনামুল ফেরেন রান আউট হয়ে। এরপর শূন্য রানে তামিম ইকবালকে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন সোহেল তানভীর। ব্যাস ওইটুকুই! এরপর শামসুর রহমান এবং ইমরুল কায়েস অনায়াসেই জয় তুলে নেন। তাও ৯.৫ ওভার হাতে রেখে।

সিলেটের ইজ্জত বাঁচালেন কাপালি

হয় হায়! হচ্ছেটা কী! খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথায় হাত রেখে একথাই হয়তো ভাবছিলেন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অধিকাংশ দর্শক। ঘরের মাঠে প্রিয় দলের খেলা দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু যা দেখলেন তা হয়তো কল্পনাতেও ভাবেননি তারা। উদযাপনের একটা উপলক্ষও উপহার দিতে পারলেন না ডেভিড ওয়ার্নার, লিটন দাস, সাব্বির রহমানরা।

পুরো ইনিংসের অর্জন একটাই। বিপিএলে সর্বনিম্ন দলীয় স্কোরের লজ্জা এড়িয়েছে তারা। আর এপথে একহাতে লড়েছেন অলক কাপালি। কিন্তু রেকর্ড বইয়ের লজ্জা থেকে রেহাই পেলেও সিলেট স্বস্তি পেল কই! কুমিল্লার সামনে দাঁড় করাল মাত্র ৬৯ রানের টার্গেট।

কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারির উচ্ছ্বাসের বেলুনে শুরুতেই সুই ফুটিয়ে দেন মেহেদী হাসান। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে দুই ওপেনার ডেডিভ ওয়ার্নার এবং আন্দ্রে ফ্লেচারকে ড্রেসিং রুমের রাস্তাটা দেখিয়ে দেন এ স্পিনার। এরপর বাধ ভাঙা স্রোতের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সিলেটের ব্যাটিং অর্ডার। শুধুমাত্র অলক কাপালি ছাড়া আর কেউ স্পর্শ করতে পারেননি দুই অঙ্ক।

ম্যাচের প্রথম সাত ওভার আম্পায়াররা শুধু তর্জনী তোলাতেই ব্যস্ত থাকলেন। সপ্তম উইকেট ব্যাট করতে আসেন অলক কাপালি। তবে যোগ্য সঙ্গী পেলেন কই! শেষ দিকে বোলারদের কাছ থেকে আর কতই বা প্রত্যাশা করা যায়।

তবে শুরু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার কথা ভাবলে বোলারদের প্রতি অবিচারই করা হবে। কারণ, পুরো ইনিংসে ছড়ি ঘুরিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মেহেদী হাসান, ওয়াহাব রিয়াজ এবং লিয়াম ডসেনরা। শুরুতে দেয়ালটা ভেঙে দিয়েছিলেন মেহেদী-সাইফুদ্দিন। এরপর ডসেন-রিয়াজদের সঙ্গে নিয়ে সিলেটের পুরো ব্যাটিং দুর্গ গুড়িয়ে দেন তরুণ মেহেদী। ওয়াহাব রিয়াজের বলে আল আমিন হোসেন বোল্ড হয়ে গেলে মৃত্যুকুপে একাই দাঁড়িয়ে রইলেন ৩৩ রান করা কাপালি। আর ৫.১ ওভার বাকি থাকতেই অল আউট হয়ে যায় সিলেট।

স্কোর:

সিলেট সিক্সার্স: ৬৮/১০ (১৪.৫)

ডেভিড ওয়ার্নার ০ (৭)
আন্দ্রে ফ্লেচার ৪ (২)
লিটন দাস ৬ (১৩)
আফিফ হোসেন ০ (৩)
সাব্বির রহমান ৬ (১২)
অলক কাপালি ৩৩* (৩১)
সোহেল তানভীর ৫ (৫)
তাসকিন আহমেদ ৪ (০)
নাবিল সামাদ ০ (১)
আল-আমিন হোসেন ৫ (৩)

বোলার:

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন (৪-১-১৮-১)
মেহেদী হাসান (৪-০-২২-৪)
ওয়াহাব রিয়াজ (২.৫-০-১৫-৩)
লিয়াম ডসেন (৩-১-৪-২)
শহীদ আফ্রিদি (১-০-৮-০)

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ৬৯/২ (১১.১)

এনামুল হক ০ (২)
তামিম ইকবাল ০ (৬)
শামসুর রহমান ৩৪* (৩৭)
ইমরুল কায়েস ৩০* (২২)

বোলার:

সোহেল তানভীর (৩-১-১০-১)
আফিফ হোসেন (১.১-০-১০-০)
নাবিল সামাদ (৩-০-১৫-০)
তাসকিন আহমেদ (১-০-৮-০)
অলক কাপালি (২-০-১৩-০)
আল-আমিন হোসেন (১-০-১০-০)

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৮ উইকেটে জয়ী।