কৃষক ন্যায্য মূল্য না পেলেও লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্ব ব্যবসায়ীরা

জানুয়ারি ১৬, ২০১৯ ১০:১২ সকাল

নিউজ ডেক্সঃ

দিনাজপুরে আলুর বাম্পার ফলন হলেও উৎপাদন খরচ পাচ্ছেন না কৃষক। আলু বিক্রি করে যে টাকা আসছে, তা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। কৃষক ন্যায্য মূল্য না পেলেও লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্ব ব্যবসায়ীরা। কৃষকের ফসল অল্প দামে কিনে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন এই ব্যবসায়ীরা।

গত কয়েক বছর থেকে দিনাজপুরে আলুর বাম্পার ফলন হলেও লোকশান হচ্ছে কৃষকের। আগাম জাতের আলু চাষ করে কৃষকের কিছুটা লাভ হলেও ভরা মৌসুমে উৎপাদন খরচ উঠছে না। তাছাড়া হিমাগারে আলু রাখার খরচ মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিজ জেলা ছাড়া অন্য কোন জেলায় আলু বিক্রি করতে পারেন না তারা। এজন্য কম দামেই এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছে আলু বিক্রি করতে হয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগাম জাতের আলু চাষাবাদে কৃষক লাভবান হন। আলু যখন বাজারে ওঠে, তখন আলুর সংকট থাকে। ফলে বাজারে আমদানি কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে আলুর দাম তখন বেশি হয়। আর ভরা মৌসুমে আলুর আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কমে যায়। তাই এখন আলুর দাম কম।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধদিপ্তর থেকে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ৪৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ২৮০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে।

দিনাজপুর শকিদারগঞ্জ আলু চাষী জসীম উদ্দিন বলেন, গত দশ বছর থেকে পৈত্রিক ৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে আসছেন তিনি। গত কয়েক মৌসুম থেকে আলুর বাম্পার ফলন হলেও দাম না পেয়ে অনেক লোকশান হয়েছে। এবারও একই অবস্থা।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আলু চাষাবাদে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বক্ষণিক সঠিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। উন্নত জাতের আলু চাষাবাদ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট দেশের বাইরে রফতানি করা যায়। রফতানি করার উদ্যোগ গ্রহণ করলে কৃষক ও দেশ লাভবান হবে।