আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস অনুষ্ঠিত

সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ ৯:৩৫ দুপুর

নিউজ ডেক্স :

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ইইউবি-তে অনুষ্ঠিত হলো আত্মহত্যা প্রতিরোধে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও কাউন্সেলিং। ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, বুধবার গাবতলী, মিরপুরে অবস্থিত ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ক্যাম্পাস মিলনায়তনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ‘সি ইউ’ এবং ‘সুইসাইড নোট’ শিরোনামে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। আহ্বায়ক ড. ফারজানা আলম তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৩০জন আত্মহত্যা করেন। এর প্রধান কারণ পারিবারিক সমস্যা, দ্বিতীয় কারণ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া। অতিরিক্ত চাহিদা মানুষকে দ্রুত হতাশ করে ফেলে, এরপর সমস্যা সমাধানের দিকে না গিয়ে অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। জীবন একটাই, এর চেয়ে দামি আর কিছু হতে পারে না। আমরা অনেক বেশি জাজমেন্টাল। যা আরেক জনের স্বাভাবিক জীবন যাপনকে বাধাগ্রস্ত করে। ওভার এক্সপেকটেশনগুলো ঝেরে ফেলে আমরা নিজের জীবন সহজ করে তুলতে পারি আর অন্যকে নিয়ে অনেক বেশি জাজমেন্টাল হওয়া বাদ দিলে আরেক জনের জীবনও সহজ করে তুলতে সহায়তা করতে পারি।’

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হাজেরা খাতুন, ‘বলেন, হঠাৎ করে কেউ সুইসাইড করে না। ১০১বার চিন্তা করে, ১০বার উদ্যোগ নেয়-একবার মৃত্যু হয়। ডিপ্রেশন থেকে মানুষ সুইসাইড করার সিদ্ধান্ত নেয়। অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে এক্সাম ফোবিয়া থাকে। আবার অনেকের নিজের সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেই বলে- আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, ভার্সিটি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অন্যের দ্বারা দ্রুত প্রভাবিত হয়। এই সময় তারা অনেকবেশি আবেগ তাড়িত থাকে। সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে নিজের সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা দরকার।

‘নিজের প্রতি সম্মান থাকতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা আসে, তারা নিজেদেরকে অন্যের সাথে তুলনা করতে থাকে, অনেক সময় হতাশ হয়। যদি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট গ্রুপ থাকে তাহলে নিজেদের সমস্যা নিজেরায় সমাধান করার উপায় খুঁজে পেতে পারে। গ্রুপগুলো হবে সেলফ হেল্প টাইপের।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এ.এফ. এম গোলাম হোসেন বলেন, ‘বর্তমান বস্তুবাদী বিশ্বে আত্মহত্যা একটি জটিল সমস্যা। মানুষ যখন মনে করে তার বাঁচার কোন অর্থ অবশিষ্ট নেই তখন সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। জীবন এই অবস্থায় উপনীত হলে সত্যকে সহজে মেনে নেয়ার পরামর্শ দেন।’

ই.ইউ.বি’র ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান মুহম্মদ নুরুল হুদা বলেন, ‘মানুষ মরে গেলে বস্তুতে পরিণত হয়। আমি বা আমরা কখনো ইচ্ছাকৃত ভগ্ন জীবন চাইবো না। চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেত্রী চৈতালী সমদ্দার বলেন, সেলফ রেসপেক্টটা ঠিকঠাক থাকলে আত্মহত্যার পথে কেউ এগিয়ে যাবে না।’

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. মকবুল আহমেদ খান বলেন, ‘তরুণদের বলবো, জীবনকে সেলফিসের মতো ভালোবেসো না। মনে রেখ, তোমার ঋণ জমে আছে পরিবারের সদস্যদের প্রতি, বন্ধু-শিক্ষক এমনকি প্রকৃতির প্রতি। এই ঋণ শোধ করার দায় আছে তোমার। জীবনকে ভালোবাসো। মহাজীবনরে অনুভূতি সঞ্চারিত হোক তোমাদের জীবনে।