দেশে বর্তমানে দুই প্রজাতির মশা ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ ৯:৪০ সকাল

নিউজ ডেক্সঃ

দেশে বর্তমানে দুই প্রজাতির মশা ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকায় একরকম, ঢাকার বাহিরে একরকম। জানা জায়, ঢাকায় এডিস ইজিপ্টি ডিম পাড়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের কৌটা, টায়ার, ফুলের টব এবং এসির জমে থাকা পানিতে। আর ঢাকার বাইরে এলবোপিকটাস ডিম পাড়ে প্রাকৃতিক কন্টেইনারে, যেমন- বাঁশের চোঙ্গা, গর্ত, কলাগাছ, কচুগাছ, নারকেল গাছের পরিত্যক্ত ডগায়।

এডিস এজিপ্টি জাতের মশা চঞ্চল প্রকৃতির হলেও এলবোপিকটাস কিছুটা শান্ত প্রকৃতির। তবে এ দুই প্রজাতিই ডেঙ্গু ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়ায়। গেল সাত দিনের হিসেবে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেশি।

গেল ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ভর্তির সংখ্যা ছিল ৬৭২ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ২২৬ জন এবং ঢাকার বাইরে ৪৪৪ জন। ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ভর্তি হন ২৩৩ জন এবং ঢাকার বাইরে ৩৭৪ জন, ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ৩১৪ জন, ঢাকার বাইরে ৪৪৭ জন, ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ৩০০ জন, ঢাকার বাইরে ৪১৬ জন, ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ২৯৪ জন, ঢাকার বাইরে ৪৫৯ জন, ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ২২১ জন, ঢাকার বাইরে ৪১৩ জন এবং ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ২৩৭ জন এবং ঢাকার বাইরে ৫১৩ জন ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, এরই মধ্যে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সর্বমোট ভর্তি রোগী সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার ৪০ জন।

এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৬ হাজার ৯৩৭ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন দুই হাজার ৯০০ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১২৮২ জন। অন্য বিভাগে ভর্তি রোগী ১৬১৮ জন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা বলেন, ঢাকার বাইরে সবসময় এলবোপিকটাসের সংখ্যা বেশি থাকে। এলবোপিকটাসের টার্গেট করতে হলে ন্যাচারাল কন্টেইনারের দিকে তাকাতে হবে। ন্যাচারাল কন্টেইনার ঘরের ভেতর থাকবে না। ঘরের বাইরে থাকবে।

তিনি বলেন, এডিস ইজিপ্টি বাসাবাড়িতে থাকলেও অ্যালবোপিকটাস বাঁশের চোঙ্গা, গর্ত, কলাগাছ, কচুগাছ ও নারকেল গাছের পরিত্যক্ত ডগায় থাকে। এসব ক্ষেত্রে মশার ওষুধ ছিটানোর ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

অধ্যাপক মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা বলেন, শহরে এডিস মশার প্রজনন স্থলে ওষুধ ছিটালে সেখানে শিশুদের আসার সম্ভাবনা কম থাকে। কিন্তু গ্রামে অ্যালবোপিকটাস মশা নিধনের উৎপত্তিস্থলে শিশুদের আনাগোনা বেশি। তাই সাবধানতা অবলম্বন করে ওষুধ দিতে হবে।

তিনি জানান, এডিস ইজিপ্টি প্রজাতির মশা হিংস্র্র প্রকৃতির। এটি একসঙ্গে বেশ কয়েকজনকে কামড়ায়। তবে সে তুলনায় এডিস অ্যালবোপিকটাস শান্ত প্রকৃতির। একটি মাত্র একজনকে কামড়ে নিজের চাহিদা পূরণ করে। এডিস ইজিপ্টির তুলনায় অ্যালবোপিকটাসের সংক্রমণ ক্ষমতাও পাঁচগুণ কম।