তালায় জেলা পরিষদের সম্পর্ত্তি প্রভাবশালীদের দখলে

সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ ৪:২০ দুপুর

এসএম বাচ্চু,তালা(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি:

তালায় প্রায় শত বছরের সরকারী সম্পর্ত্তি অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে গেছে।উক্ত জায়গাটিতে মার্কেট নির্মাণের দাবি জনিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,তালায় জেলা পরিষদের সরকারী পুকুর পাড়ে’র খাস সম্পত্তি দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। অবৈধ দখলদারদের কবলে আজ অস্তিত্ব হারাতে বসেছে শত বছরের পুরানো জেলা পরিষদের পুকুরটি ।তাছাড়া পুকরটিতে গরু,ছাগলের মলমুত্র সহ ময়লা আর্বজনার ভাগড়ে দুর্গন্ধের কারখানায় পরিনত হয়েছে সরকারী পুকুরটি।

প্রকাশ,স্থানীয় মানুষের নিরাপদ খাবার পানির চাহিদা মেটাতে তালা বাজারের একেবারেই প্রানকেন্দ্রে ১ একর ৪০ শতক জমির উপরে পুকুরটি খনন করেন কোন এক ধার্মিক ব্যক্তি। পরবর্তীতে ডিষ্ট্রিক বোর্ড এই পুকুরটি রক্ষনা-বেক্ষনের দায়িত্ব নেন। বর্তমানে একটি স্বার্থন্বেষী মহল পুকুর পাড়ে পাকা দোকান-পাট সহ বহুতল ভবন নির্মান পূর্বক জবর দখল করে সংকীর্ণ করে ফেলেছে পুকুরটি।

জানাযায়, জেলা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত দাগ নং ১২৯, খতিয়ান- ২, তালা মৌজার ১ একর ৪০ শতক জমির উপর অবস্থিত এই পুকুরটি কত সালে খনন করা হয় তার সঠিক তথ্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি । এক ধার্মিক ব্যক্তি স্থানীয় মানুষের খাবার পানির সংকট নিরসনে পুকুরটি খনন করেন। কিন্তু জবর দখল ও বর্জ-ময়লা ফেলার কারণে আজ চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে পুকুরটি। অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে থাকা সরকারী পুকুর টি সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখলদারদের নিকট থেকে দখল মুক্ত করার জন্য ইতিমধ্যে জেলা পরিষদের প্রধান কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্তকর্তা, জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার,জেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ সরেজমিনে পুকুর এলাকা পরিদর্শন করে অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে জনস্বার্থে পরিকল্পিতভাবে একটি মার্কেট নির্মান করার ঘোষনা দেন। এর কিছুদিন পরে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নির্দেশে সার্ভেয়ার ও দাপ্তরিক লোকজন নিয়ে সীমানা নির্ধারণের কাজ সপন্ন করেন। এরপরই গাত্র দাহ শুরু হয়েছে স্থানীয় দখলদারদের । অবৈধ দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে একটি মহল মোটা অংকের টাকা নিয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে উচ্চ মহলে। তালাবাসীর প্রানের দাবী দ্রুত সময়ের মধ্যে পুকুর পাড়ের অবৈধ দখলদারেদের উচ্ছেদ পূর্বক পরিকল্পিতভাবে একটি মার্কেট নির্মানে একাট্রতা ঘোষনা করেছেন ।

জেলা পরিষদ সদস্য মাংবাদিক মীর জাকির হোসেন জানান,তালা বাসীর দাবি উক্ত জেলা পরিষদের সম্পর্ত্তিটি অবৈধ দখলদার দের হাত থেকে বের করে পরিকল্পিত ভাবে একটি মার্কেট করার । আমিও চাই ওই ময়লা-আর্বজনায় ফেলে দুগর্ন্ধ করা পুকুরটি সহ অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করে সুপরিকল্পিতভাবে একটি মার্কেট নির্মাণ করতে এলাকাবাসীর সাথে আমিও একট্রতা ঘোষণা করছি ।

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য মাহফুজা সুলতানা রুবি জানান, অবৈধভাবে জবর দখলের ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অপরদিকে পচা দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। জেলা পরিষদের জায়গায় অবৈধ ভাবে ৫০টি পাকা দোকান ঘর ও ১২টি পাকা বাড়ী নির্মান করেছে দখলদাররা।
অনেকেই তা আবার ভাড়া দিয়ে খাচ্ছে। কেউ কেউ আবার অবৈধ দখলীয় ঘর বিক্রি করে দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমি চাই, তালাবাসীর মার্কেট নির্মানের দাবীটি গুরুত্ব দিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জানান, ইতিপূর্বে জেলা পরিষদের অধীনে তালায় আরও দুটি মার্কেট নির্মিত হয়েছে। এতে করে স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতারা উপকৃত সহ সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা পরিষদের জায়গাটিতে পরিকল্পিত আরও একটি মার্কেট নির্মান করা হলে তালা বাজারের
ব্যবসা বান্ধব দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরী হবে।