‘ঠিকাদার মোগল’ জি কে শামীমের ‘মধুভাণ্ডারের’ সুবিধাভোগী ছিলেন অনেকেই

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯ ১:২৫ দুপুর

অনলাইন ডেক্সঃ

‘ঠিকাদার মোগল’ এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের ‘মধুভাণ্ডারের’ সুবিধাভোগী ছিলেন অনেকেই। বাদ পড়েনি নাটক-সিনেমার পরিচিত অনেক নায়িকা ও মডেলরা। নিজের মনোরঞ্জন থেকে শুরু করে টেন্ডার বাগিয়ে নিতে তাদের ব্যবহার করতেন শামীম।

উচ্চ পদস্থ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী নেতাদের খুশি করতে এসব মডেল, নায়িকাদের পাঠানো হতো ফ্ল্যাটে কিংবা কোন তারকা হোটেলে। এমনকি দেশের বাইরেও নিয়ে যাওয়া হতো তাদের। বিনিময়ে অল্প দিনেই নায়িকা থেকে অনেকে প্রযোজক হয়েছেন। মালিক হয়েছেন কাড়ি কাড়ি টাকার। হাকিয়ে বেড়াচ্ছেন দামি দামি গাড়ি। জি কে শামীম ও যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।

গুলশান ও বনানীর একটি তারকা হোটেল ও কাকরাইলের একটি হোটেল ব্যবহার করা হতো নায়িকাদের সাথে একান্তে সময় কাটানোর জন্য। টেন্ডার পাওয়ার পর পার্টি হতো দেশে ও বিদেশে। এসব পার্টিতে নিজ দলের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও সহযোগীরা উপস্থিত থাকতেন। পার্টিতে পশ্চিমা পোশাকে হাজির হতেন সুন্দরীরা। মাদকে বুঁদ হয়ে সুন্দরীদের মধ্য থেকে যাকে খুশি কাছে টেনে নিতেন। কখনও কখনও ব্যক্তিগতভবেই নায়িকা-মডেলদের সঙ্গী করে দেশের বাইরে যেতেন এই দরবারের কর্তারা।

এরমধ্যে এক নায়িকা রয়েছেন। যিনি অভিষেকেই শ্রেষ্ঠ নবীন শিল্পী হিসেবে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন লাভ করেন। শামীমের সঙ্গে পরিচয়ের পর দ্রুত ভাগ্য পরিবর্তন হতে থাকে খুলনার এই মেয়ের। শামীমের দরবারের আর্শীবাদের বদৌলতে রাতারাতি বদলে যায় তার আর্থিক অবস্থা। এই নায়িকা গুলশানে একটি ফ্যাশন হাউজ ও ধানমন্ডিতে একটি রেস্টুরেন্টের মালিক হয়েছেন। পাশাপাশি হয়েছেন প্রযোজক। ডেন্টাল কলেজের প্রাক্তন এই ছাত্রী অভিনয় ছাড়াও ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় আত্মপ্রকাশ করেন প্রযোজক হিসেবে। অভিনয় করেছেন ভোজপুরি চলচ্চিত্রেও। পাঁচটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এই নায়িকা। জি কে শামীম তাকে নিয়েই বেশি সময় কাটাতেন। প্রকাশ্যেই শামীমকে তুমি বলে সম্বোধন করেন এই নায়িকা।

শামীমের প্রতিটি টেন্ডারে মোটা অঙ্কের ভাগ পেতেন যুবলীগের দক্ষিণের শীর্ষ ওই নেতা। ওই নেতার নিজেরও ছিলো সুন্দরী কানেকশন। ওই শীর্ষ নেতার হয়ে এই অপরাধ সাম্রাজ্য দেখাশোনা করতেন মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। তাদের দরবারে প্রায়ই হাজির হতেন পরিচিত এক মডেল, উপস্থাপিকা। অবশ্য চারটি চলচ্চিত্রেও দেখা মিলেছে এই মডেলের। এখন তার যাত্রাপথ চলচ্চিত্র কেন্দ্রিক। নৃত্যে তার রয়েছে ভালো দখল। ওয়ার্ল্ড ডান্স পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে পারফর্ম করেছেন তিনি। আলোচিত এই মডেলের একটি সেলফি বেশ আলোচিত হয়েছিলো। সেলফিতে তার সঙ্গে ছিলো বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের ঘটনায় অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফ।

ঢালিউড কিং শাকিব খানের সঙ্গে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করার ইচ্ছে এই মডেল উপস্থাপিকার। সেই ইচ্ছে পূরণ করতে হাজির হয়েছিলেন ওই নেতার দরবারে। ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত শেষে দাবি জানিয়েছিলেন শাকিবের সঙ্গে মুভিতে অভিনয় নিশ্চিত করার। তারপর যথারীতি আশীর্বাদও পান। মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয় শাকিবের সঙ্গে অভিনয় করছেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চলচ্চিত্রটি আর নির্মাণ হয়নি।

এই দরবারের প্রমোদ সঙ্গী হিসেবে পরিচিত আরেক নায়িকা। যিনি রূপালি পর্দায় আসার আগে টিভি নাটকে কাজ করেছেন। মডেল হয়েছেন একটি বিস্কুট কোম্পানী ও একটি জুসের বিজ্ঞাপনে। মডেল হয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী আসিফের একটি গানেও। তিনি ২০১৪ সালে পা রাখেন চলচ্চিত্রে। সেরা নবীন শিল্পী হিসেবে মনোনীত হন বিশেষ একটি পুরস্কারের জন্যও। ওই বছরের শেষেই মুক্তি পায় তার আরও একটি চলচ্চিত্র। এ পর্যন্ত ওই নায়িকা অভিনীত চারটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। শীর্ষ নেতার দরবারে তাকে ডাকা হতো প্রায়ই। দরবারের ডাক এলে যে কাজই থাকুক তা ফেলে ছুটে যেতেন। দরবারের ডাককে আর্শীবাদ মনে করতেন এসব নায়িকা, মডেলরা।

জানা যায়, এই দরবারের নেতাদের উৎসাহে দশম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন এক নায়িকা। ২০০২ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। অশ্লীল জগতের নায়িকা হিসেবে অনেকের মধ্যে একজন হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার। আজ থেকে কয়েক বছর আগে শীর্ষ ওই নেতার দরবারে বেশ কদর ছিলো এই নায়িকার। দরবার থেকে ডাক না এলেও নিজ থেকেই যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করেন এই নায়িকা। তবে দরবারের নতুনদের আগমনে ঈর্ষা কাজ করতো পুরাতনদের মধ্যে।