আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নুসরাতের মা

অক্টোবর ২৪, ২০১৯ ৫:৩২ দুপুর

নিউজ ডেক্সঃ

বহুল আলোচিত ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নুসরাতের মা।

বৃহস্পতিবার রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নুসরাতের মা শিরীন আখতার সাংবাদিকদের বলেন, আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কারণে আজকে আমরা নুসরাত হত্যার সুষ্ঠু বিচার পেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুবই দুঃখ করে আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি মেয়েটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি তারপরও তাকে বাঁচানো যায়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন তার সুষ্ঠু বিচার হবে। আমরা আজ বিচার পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আজকের রায়ের মাধ্যমে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে আমার মেয়ে কোনো অপরাধী ছিল না। আমি এ রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। উচ্চ আদালতে এ রায় বহাল করে দ্রুত কার্যকর করা হবে এই আশা করি।

এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।

রায় ঘোষণার আগেই মামলাটির ১৬ আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগেই রায় ঘোষণার জন্য আদালত প্রাঙ্গণ, ফেনী সদর, সোনাগাজী উপজেলা এবং নুসরাতের বাড়িতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিখণ্ডন শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ রায়ের এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় তার মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করলে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বোরকা পরা পাঁচ দুর্বৃত্ত। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ নুসরাতের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। গত ২৮ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে ৮৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। মাত্র ৬১ কার্যদিবসে মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। আর মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে পিবিআইয়ের লাগে ৩৩ কার্যদিবস।