অনিশ্চয়তা আর আস্থার সংকটে দীর্ঘস্থায়ী পেঁয়াজের সংকট

ডিসেম্বর ১, ২০১৯ ১০:৪০ সকাল

নিউজ ডেক্সঃ

সরবরাহ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আর আস্থার সংকটের কারণে দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে পেঁয়াজের সংকট। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংকট সমাধানে নানা শিল্প গ্রুপ আর বিমানে পেঁয়াজ আনার আশ্বাস দিলেও যা এসেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে কম। এতে প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার সঙ্গে মিল না থাকায় ব্যবসায়ীদের মাঝে তৈরি হয় ঋণপত্র খোলা নিয়ে নানা বিভ্রান্তি আর দোলাচল।

দেশের আমদানি নির্ভর ভারত ২৯ সেপ্টেম্বর হঠাৎই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। তখন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পাইকারি বাজারে একদিনেই ৬০ টাকার পেঁয়াজ ঠেকে সেঞ্চুরিতে। ৩০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আশ্বাস দেয় পর্যাপ্ত মজুদের। ফলে তখন ব্যবসায়ীদের মিয়ানমারের পাশাপাশি নানা দেশ থেকে আমদানির ঋণপত্র খোলার পরিকল্পনা কিছুটা ব্যাহত হয়।

ততদিনে পেঁয়াজ গিয়ে ঠেকে দেড়’শো টাকায়। ২৯ অক্টোবর সরকার ঘোষণা দেয় ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আনছে নানা শিল্পগ্রুপ। ঘোষণাতে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক আমদানিকারক বন্ধ করে দেয় ঋণপত্র।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যবসার মূলমন্ত্র বিশ্বাস আর আস্থা। সেটি নষ্ট হওয়ায় এ সংকট।

খাতুনগঞ্জের মোহাম্মদীয়া বাণিজ্যালয়ের মালিক মো. মিন্টু বলেন, বড় বড় গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মাল যদি আসতো তাহলে বাজারে কিন্তু এই রকম দাম বাড়তো না।

মেসার্স কাজী স্টোরের মালিক মোহাম্মদ জাবেদ বলেন, মিয়ানমার, চীন কিংবা মিশর সব জায়গা থেকেই পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আনতে পারে। কিন্তু সেই সময়টাতে আনা হয় নাই।

পর্যাপ্ত পেঁয়াজ না আসায় ১৬ নভেম্বর আবার পাইকারিতে ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছায় পেঁয়াজ। তখন বাজার নিয়ন্ত্রণে উড়োজাহাজে আনার ঘোষণায় কমে দাম। এতে অনেকেই গুটিয়ে নেয় আমদানি। কিন্তু ১৯ নভেম্বর প্রথম চালানে পাকিস্তান থেকে মাত্র ৮২ টন আসার খবরে ২৫ নভেম্বর আবার ১৮০তে পৌঁছায় পেঁয়াজ।

ব্যবসায়ীদের দাবি, সংকটের পর মন্ত্রণালয়ের পর্যাপ্ত তথ্যের ঘাটতি ছিলো। সরবরাহ বাড়াতে নেয়নি কোন পদক্ষেপ।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়ৎদার সমিতির সভাপতি সোলাইমান বাদশা বলেন, সময় মতো পদক্ষেপ নিলে বাজার এতো উপরে উঠতো না, দামটা কমই থাকতো। একটা সময় বেঁধে দিতো যে, এতদিন পর্যন্ত আমরা ভারত থেকে এলসি করবো না।

সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সংকট দীর্ঘমেয়াদী হয়েছে বলে মত ব্যবসায়ীদের।

হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট আড়ৎদার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে এখন কিন্তু প্রতিদিনই পেঁয়াজ নামছে। আমি মনে করি, এভাবে চলতে থাকলে আগামী দশ পনেরো দিনের মধ্যে দাম কমে আসবে।

খাতুনগঞ্জে পাইকারিতে এখনো ১৭০ টাকা কেজি পেঁয়াজ।

কাস্টসম এর তথ্য মতে, সংকটের পর গত ২ মাসে বন্দর দিয়ে ৪০ হাজার আর টেকনাফ দিয়ে ৩০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি পেঁয়াজ এসেছে। যদিও ২ মাসে প্রয়োজন ৪ লাখ মেট্রিক টন।