সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রাজীব-দিয়া হত্যা মামলার রায় আজ

ডিসেম্বর ১, ২০১৯ ১২:১১ দুপুর

নিউজ ডেক্সঃ

রাজধানীর কুর্মিটোলার শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খাতুন মিম নিহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায় আজ।

রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করবেন।

প্রায় দেড় বছরের মাথায় আলোচিত এ মামলার রায় হতে যাচ্ছে। সেই রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এবিষয়ে মিমের বাবা জাহাঙ্গির আলম কালু বলেন, আমার মেয়েকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটা দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। গাড়ি একটু স্লো করলে মেয়েকে হারাতে হতো না। তাকে হারিয়ে আজ আমি নিঃস্ব। মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে এমন রায় চাই। রায়ে যেন আমরাও শান্তি পাই।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই দুপুর ১২টায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একদল শিক্ষার্থী গণপরিবহনের জন্য বিমানবন্দর সড়কে কলেজের বিপরীত পাশের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় আবদুল্লাহপুর থেকে মোহাম্মদপুর রুটে চলাচলকারী জাবালে নূর পরিবহনের দু’টি বাস প্রতিযোগিতা করে যাত্রী তুলতে কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর একটি বাস তুলে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় সেখানকার দৃশ্যপট! রক্তাক্ত শিক্ষার্থীরা প্রাণ বাঁচাতে চিৎকার করতে থাকেন। এ খবর দ্রুত পৌঁছে পড়ে কলেজে। কলেজ থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এসে আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানেই প্রাণ হারান কলেজের দু’শিক্ষার্থী রাজীব ও দিয়া। সেই ঘটনায় আরও ১২ জন আহত হলেও তারা প্রাণে বেচেঁ যান। দু’জনের মৃত্যুর খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

ঘটনার পরদিনও কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। সেই ঘটনার পরে তৎকালীন নৌমন্ত্রী ও পরিবহন মালিক নেতা শাজাহান খানের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করছিলেন, নৌমন্ত্রীর প্রশ্রয় ও মদদেই চালকরা এ ধরনের সাহস পাচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শাজাহান খান বলেছিলেন, আমি যদি না থাকি, আপনারা কী মনে করেন…।

এরপর তিনি বলেন, আমি যদি আপনাদের প্রশ্ন করি, গতকাল আপনারা লক্ষ্য করেছেন, ভারতের মহারাষ্ট্রে একটা গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করে ৩৩ জন মারা গেলো।

আমরা যেভাবে এগুলোকে নিয়ে কথা বলি, সেখানে (ভারতে) কী এভাবে কথা বলে? এরপরও একজন সাংবাদিক সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করলে শাজাহান খান হেসে বলেন, আপনি কী জানেন যে, ভারতে প্রতি ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনায় কতজন মারা যায়? ১৬ জন মারা যায়, আপনাদের রিপোর্ট থেকেই জানলাম। তিনি বলেন, পোর্ট নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে করেন।

শাজাহান খানের ব্যঙ্গাত্মক হাসি ও এমন মন্তব্যের পর সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে সেই আন্দোলন স্মরণকালের সবচেয়ে বড় অহিংস আন্দোলনে রুপ নেয়। পরে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ক্ষমা চেয়ে পার পান শাজাহান খান।