খুচরা পর্যায়েও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় পিডিবি

ডিসেম্বর ১, ২০১৯ ১:৪১ দুপুর

নিউজ ডেক্সঃ

বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম এবং সঞ্চালন মাশুল বাড়াতে কোম্পানিগুলোর আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ গতকাল শুরু হয়েছে। চলবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত। খুচরা এবং পাইকারি উভয় ধরনের বিদ্যুতের মূল্যহার সমন্বয় নিয়ে শুনানি করবে কমিশন।

শুনানিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) তাদের প্রস্তাবে বলেছে যদি পাইকারি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পায় সেটি খুচরা পর্যায়েও সমন্বয় করা প্রয়োজন।

রোববার (১ ডিসেম্বর) বিইআরসিতে গণশুনানিতে এমন প্রস্তাব তুলে ধরেন বিপিডিবিরর চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ।

বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম কমিশনের অপর তিন সদস্য রহমান মুর্শেদ মিজানুর রহমান, মাহমুদউল হক ভুঁইয়া শুনানি গ্রহণ করছেন।

বিপিডিবির প্রস্তাবে নতুন কিছু বিধি নিষেধ আরোপের আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বকেয়ার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে, পুনঃসংযোগ ফি নির্ধারণ ও ডিমান্ড চার্জ বৃদ্ধি। বিতরণ সংস্থাটি বিদায়ী বছরে বিতরণ খরচ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ইউনিট প্রতি বিতরণ ব্যয় ছিলো ১.০৯ টাকা। বর্তমান পঞ্জিকা বর্ষে যা ১.০৫ টাকায় নেমে আসবে। এতে করে তাদের মুনাফা কিছুটা বাড়বে। সে কারণে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি না হলে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না। পাইকারি দাম বৃদ্ধি হলে পাস-থ্রু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গণশুনানিতে ক্যাবসহ বিভিন্ন ট্রুড বডির নেতারা অংশ নিয়েছে। নিয়ম রয়েছে বিপিডিবির প্রস্তাব উপস্থাপনের পর বিইআরসির কারিগরি কমিটির মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। এরপর গ্রাহকরা প্রশ্ন, বিবৃতি কিংবা জেরা করার সুযোগ পেয়ে থাকেন।

সাধারণত বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ পর্যন্ত খুচরা মূল্য বৃদ্ধি হয়ে থাকে। তবে এ বিষয়ে কমিশনই চূড়ান্ত আদেশ দেয়। এক্ষেত্রে সরকার ঘাটতির যে অংশ ভর্তুকি দেয় তার বাইরের অংশ গ্রাহকের কাছ থেকে নিয়ে থাকে কমিশন। আগামী বছর প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা লোকসানের পূর্বাভাস দিয়ে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) দ্বারস্থ হয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। আর পিজিসিবি চাওয়া চার বছর আগে নির্ধারণ করা তাদের সঞ্চালন চার্জ তিন ধাপেই বাড়ানো হোক।

বর্তমানে সঞ্চালন চার্জ ২৩০ কেভি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট শূন্য দশমিক ২৭৪৪ টাকা, ১৩২ কেভি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট সঞ্চালন চার্জ শূন্য দশমিক ২৭৬৮ টাকা, ৩৩ কেভিতে প্রতি ইউনিট সঞ্চালন চার্জ শূন্য দশমিক ২৭৯১ টাকা রয়েছে।

নতুন করে আগামী জানুয়ারি থেকে সঞ্চালন চার্জ ২৩০ কেভি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট শূন্য দশমিক ৪১৬৬ টাকা, ১৩২ কেভিতে প্রতি ইউনিট সঞ্চালন চার্জ শূন্য দশমিক ৪২০২ টাকা, ৩৩ কেভিতে প্রতি ইউনিট সঞ্চালন চার্জ শূন্য দশমিক ৪২৩৭ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ১০ বছরে আট বার বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। এ খাতের সিস্টেম লস এবং দুর্নীতি রোধ করতে পারলেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হয় না বরং কমানো যায়। কিন্তু নিয়ন্ত্রক কিংবা সেবা প্রদানকারী সংস্থা-কোম্পানিগুলো তাতে আগ্রহী না হয়ে সব সময় দামবৃদ্ধির পথে হাঁটতেই পছন্দ করে।