অর্ধ লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রাথমিক তালিকা করার কাজে হাত দিয়েছে ইসি

December 4, 2019 11:35 am
Spread the love

অনলাইন ডেক্সঃ

অর্ধ কোটি ভোটারের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে অর্ধ লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রাথমিক তালিকা করার কাজে হাত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের এই প্রাথমিক প্যানেল তৈরির জন্য মঙ্গলবার ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ঢাকার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়েছেন।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি ভোটের ‘কাউন্টডাউন’ শুরু হয়েছে নভেম্বরের শেষ ভাগে। আগামী মে মাসের প্রথমার্ধের মধ্যে এ ভোটের আয়োজন করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে ইসির সামনে।

এর মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ভোটের জন্য একটি সুবিধাজনক তারিখ নির্ধারণ করতে হবে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধনিক সংস্থাটিকে।

নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, ইসি সিদ্ধান্ত দিলে এখন যে কোনো দিন এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা যায়। বিদ্যমান ভোটার তালিকা দিয়ে ইভিএমের মাধ্যমে এই দুই সিটিতে ভোট করার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

ভোটার, কেন্দ্র, কক্ষ ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার সম্ভাব্য সংখ্যা

উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪ ওয়ার্ডের প্রায় ৩০.৫ লাখ ভোটার

দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রায় ২৩.৫ লাখ ভোটার

দুই সিটিতে সম্ভাব্য কেন্দ্র আড়াই হাজারের বেশি; ভোটকক্ষ প্রায় ১৩ হাজার

প্রতি ভোটকেন্দ্রে ১ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, প্রতি ভোটকক্ষে ১ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ২ জন পোলিং অফিসার দায়িত্বে থাকবেন। ইসির যুগ্মসচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল করার জন্যে প্রাথমিক তালিকা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকায় অতিরিক্ত কর্মকর্তা রাখা হবে।”

তফসিল ঘোষণার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত করা হবে। আর ভোটের আগে প্যানেলের তালিকা থেকে উপযুক্ত কর্মকর্তাদের ভোটের দায়িত্ব দেবে কমিশন।

এই প্যানেল তৈরি হবে সরকারি কর্মকর্তা ও স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে। তাদের ঠিকানা, বাসস্থান, টেলিফোন নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, তথ্য/ফলাফল সংগ্রহ ও পরিস্থিতি পর‌্যবেক্ষণের জন্য কর্মকর্তা লাগবে। সব মিলিয়ে দুই সিটিতে অর্ধ লক্ষাধিক কর্মকর্তা লাগবে ভোট চালাতে।

ইভিএমে ভোট করতে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ তুলনামূলকভাবে বেশি লাগবে। সেই লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র বাছাইয়ের কাজও করা হয়েছে।

ফরহাদ বলেন, কমিশন সচিবালয়ের প্রস্তুতিমূলক রুটিন কাজগুলো গুছিয়ে রাখা হবে। কমিশনই সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে তফসিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি ভোটের জন্য প্রায় ৩০ হাজারের মত ইভিএম প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

“কমিশন সিদ্ধান্ত নিলেই প্রয়োজনী সব ইভিএম আমরা প্রস্তুত রাখব। ইতোমধ্যে ইসির পার্সোনালাইজেশন সেন্টারে এসব মেশিন নিয়ে যথাযথ প্রস্তুতির কাজ চলছে।”

সেই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকার ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটার তালিকার সিডিও প্রস্তুত থাকছে। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীরা এসব সিডি সংগ্রহ করতে পারবেন।

প্রায় পাঁচ বছর আগে ঢাকার দুই সিটি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট হয়েছিল একই দিনে।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল সেই নির্বাচনের পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয় ওই বছরের ১৪ মে, দক্ষিণ সিটিতে ১৭ মে ও চট্টগ্রাম সিটিতে প্রথম সভা হয় একই বছরের ৬ অগাস্ট।

সে হিসাবে ঢাকা উত্তরের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে পর্যন্ত, আর দক্ষিণে একই বছরের ১৬ মে পর্যন্ত। আর চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের জুলাইয়ে।

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় সাংবাদিকরা ঢাকার দুই সিটির ভোটের তফসিলের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীরের কাছে।

উত্তরে তিনি বলেন, “ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল এখনও ঘোষণা করার সময় হয়নি। যখন সময় হবে সবাইকে জানানো হবে।”