বছর এর শেষে নেত্রকোণায় ১৯ হাজার ৬৭৬ মামলার নিষ্পতি

ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯ ৫:৪৫ দুপুর

সৈয়দ সময়, নেত্রকোণা।

আইন ও বিচার বিভাগের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আইনি সেবা পেয়েছে প্রার্থীরা। নেত্রকোণায় বার্ষিক বিচার বিভাগীয় সম্মেলন ৩০ নভেম্বর শনিবার দিনব্যাপী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা ও দায়রা জজ আবু মো: আমিমুল এহসান। প্রবন্ধ পাঠ করেন সহকারী জজ মাইসুমা সলতানা। মুক্ত আলোচনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ বলেন, জখমি সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ধর্ষণের মামলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরও সচেতন হতে হবে। তদন্তের বিভিন্ন বিষয় ও সাক্ষী হাজিরার বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন- চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: হামিদুল ইসলাম, শরিফুল হক, মাহমুদুল ইসলাম ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহলে ¤্রং। দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে সমন জারিতে বিলম্ব, সাক্ষী হাজিরা না হওয়া, বিভিন্ন পর্যায়ে মুলতবি প্রার্থনা, বিচারকের অপর্যাপ্ততার বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন- যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ বাহাউদ্দিন আহম্মেদ, জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ কোহিনুর, জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ জগলুল হক ও সহকারী জজ মেহেদি হাসান। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিতাংশু বিকাশ আচার্য্য মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে কার্যকারী ভূমিকা রাখতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সিভিল সার্জন মো: তাজুল ইসলাম খান জখমি সনদের বিষয়ে বিভিন্ন অসঙ্গতি সমাধানের কার্যকার পদক্ষেপ নেয়ার আশ^াস দেন। পুলিশ সুপার মো: আকবর আলী মুন্সী ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মঈনউল ইসলাম তাদের বক্তব্যে সম্মেলনে উপস্থাপিত কিছু সমস্যা দ্রুত সমাধানসহ বিচারকের অপর্যাপ্ততার কথা উল্লেখ করে সরকারি আইনজীবীদের বিষয়ে যে কোন সহযোগিতা প্রদানের আশ^াস দেন। অরিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আফিয়া বেগম মাদক মামলার ক্ষেত্রে সংবাদদাতাদের উল্লেখ্য পরিমাণে সাক্ষ্য পর্যায়ে অনুপস্থিতির বিষয় উল্লেখ করেন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাকছুদা খানম বিচার সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ববোধের ওপর জোর দিয়ে সবার সহযোগিতা ছাড়া ন্যায়বিচার অসম্ভব বলে জানান। জেলা ও দায়রা জজ আবু মো: আমিমুল এহসান বলেন, দূর্ঘসূত্রিতার বিষয়টি ন্যায়বিচারের পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি নিজ নিজ স্থান থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার করেন তবে ন্যায়বিচার সম্ভব। সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মোট ৬ হাজার ১৮৯ টি এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১৩ হাজার ৪৮৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। একই সময়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৪ হাজার ২১৮ জন সাক্ষী এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩ হাজার ১২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গৃহীত হয়। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দগমন ট্রাইব্যুনালে ৪৩৯টি মামালা নিষ্পত্তি ও ৯৭৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গৃহীত হয়।