দুই সিটিতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে কঠোর বার্তা

জানুয়ারি ৭, ২০২০ ৭:৪৬ দুপুর

নিউজ ডেক্সঃ

শুরু হয়ে গেছে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী দামামা। চলছে কথার লড়াই। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একক মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারলেও কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে রয়েছে চরম বিড়ম্বনায়।

দলের হাইকমান্ড থেকে বার বার অনুরোধ করার পরও এখনো অনড় অবস্থানে এক ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ থেকে যে সকল কাউন্সিলর প্রার্থীকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়েছে তাদের বাইরেও এখনো একাধিক প্রার্থী ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে। আর এই সংখ্যাটা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেই বেশি।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আসলে কে কে বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন। তবে এরইমধ্যে প্রত্যেক কাউন্সিলর প্রার্থী জানিয়ে দিয়েছেন নিজের অবস্থানের কথা।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ব্যাপারে একটু শিথিল মনোভাব। সোমবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলামের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই, সেটা মেয়র প্রার্থী। কাউন্সিলররা তাদের মতো নির্বাচন করবেন। আমরা চেষ্টা করব দলের সমর্থনের বাইরে যারা প্রার্থী তাদের প্রত্যাহার করাতে।

তার এই কথাতে ধরে নেওয়া যায় কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজেদের যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হবেন। তবে তার কথার সঙ্গে একটু ভিন্নমত পোষণ করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে কঠোর বার্তা দিতে চান।

যারা সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদ পাননি তাদের অনেককেই মহানগরের কমিটিতে যেমন মূল্যায়ন করার কথা বলা হচ্ছে। তেমনি কেউ নির্দেশ না মানলে পদ হারানোর শঙ্কাও রয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান কচি।

বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে কি ভাবছেন বার্তা২৪.কমের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বলেন, দলের সমর্থনের বাইরে যে সকল কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন তাদের বোঝানো হবে। আমরা তাদের প্রত্যেককে বলবো ৯ জানুয়ারির আগেই প্রত্যাহার করতে। যদি প্রত্যাহার করেন তাহলে তাদের মহানগরে সম্মানজনক পদই দেওয়া হবে। আর যারা প্রত্যাহার করবেন না তাদের পদ-পদবি হারানোর আশঙ্কা আছে।

তার সঙ্গে একমত হয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান কচি বার্তা২৪-কে বলেন, আমরা এরইমধ্যে জানিয়ে দিয়েছি যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করবেন তাদের মূল্যায়ন করা হবে। আরা যারা নির্দেশনা অমান্য করে প্রার্থী থাকবেন তাদের ব্যাপারে কঠোর বার্তা দলীয় কোনো পদে থাকবেন না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৭৫টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এই সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের শুধুমাত্র দুটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী নেই বাকি সবগুলোতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। কোনো কোনো ওয়ার্ডে একের অধিক প্রার্থী রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে একক প্রার্থী রয়েছে। বাকি ৩৯টিতেই একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী।

দক্ষিণে বিদ্রোহী প্রার্থী নেই এমন ওয়ার্ড দুটি হচ্ছে ২৫ ও ৩৮। ২৫ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী হচ্ছেন মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি আনোয়ার ইকবাল। আর ৩৮ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী আহমদ ইমতিয়াজ।

উত্তর সিটি করপোরেশনে বিদ্রোহী প্রার্থী নেই যে সকল ওয়ার্ডে- ৩, ১০, ১৮, ২১, ২৩, ২৬, ২৭, ৩৩, ৩৬, ৩৭, ৩৯, ৪০, ৪৪, ৪৫, ৫০ নং ওয়ার্ডে। এর মধ্যে ৩ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. জিন্নাত আলী মাতবর, ১০ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী আবু তাহের, ১৮ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. জাকির হোসেন, ২১ নং ওয়ার্ডে মাসুম গনি, ২৩ নং ওয়ার্ডে সাখাওয়াত হোসেন, ২৬ নং ওয়ার্ডে শামীম হাসান, ২৭ নং ওয়ার্ডে ফরিদুর রহমান খান, ৩৩ নং ওয়ার্ডে আসিফ আহমেদ, ৩৬ নং ওয়ার্ডে তৈমুর রেজা খোকন, ৩৭ নং ওয়ার্ডে মো. জাহাঙ্গীর আলম, ৩৯ নং ওয়ারর্ড মো. শরিফুল ইসলাম, ৪০ নং ওয়ার্ডে মো. নজরুল ইসলাম ঢালী, ৪৪ নং ওয়ার্ডে মো. শফিকুল শফিক, ৪৫ নং ওয়ার্ডে জয়নাল আবেদীন এবং ৫০ নং ওয়ার্ডে ডিএম শামীম। বাকি সবগুলো ওয়ার্ডেই একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী।