স্বপ্নের ইনিংস খেললেন নাজমুল হোসেন শান্ত

January 12, 2020 12:54 am

স্পোর্টস ডেক্সঃ

জয়ের টার্গেট ২০৬ রান। বিশাল টার্গেট। আর তাই রান তাড়ায় নেমে ইনিংসের প্রথম ওভার থেকে খুলনা টাইগার্সের একটাই লক্ষ্য- মেরেকেটে খেলো! প্রথম ৬ ওভারে ব্যাট হাতে সেই ঝড়ই তুলল খুলনা। পাওয়ার প্লে’তে সত্যিকার অর্থেই ‘পাওয়ার’ দেখাল মুশফিকুর রহিমের দল। কোন ক্ষতি ছাড়াই তুলে নিল ৬০ রান। তারপরও ঠিক পথেই থাকল দল। পাহাড়সম রান টপকে জিতল খুলনা।

এমন চমক জাগানিয়া জয়ের নায়ক নায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রীতিমতো স্বপ্নের ইনিংস খেললেন তিনি। ব্যর্থতা সামলে তুলে নিয়েছেন শতরান। আর হেসেছে খুলনা।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে ৮ উইকেটে জিতেছে খুলনা। মাশরাফি বিন মর্তুজাদের ২০৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৮.১ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দল।

এই ম্যাচের লড়াই একসময় পরিণত হয়েছিল দুই মেহেদির লড়াইয়ে। ঢাকা প্লাটুনের হয়ে মেহেদি হাসান পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে করলেন ৩৬ বলে ৩ ছক্কা ৫ বাউন্ডারিতে অপরাজিত ৬৮ রান। খানিকবাদে ব্যাট হাতে যেন তারই জবাব দিলেন খুলনা টাইগার্সের মেহেদি হাসান মিরাজ। তিনি করলেন ২৪ বলে ৪৫ রান।

তবে ব্যক্তিগত এই লড়াইয়ে ঠিকই জিতলেন ঢাকার মেহেদি। খুলনার মেহেদি হাসান মিরাজের উইকেট যে তারই ঝুলিতে জমা!

খুলনা টাইগার্স মুলত স্পিনার হিসেবেই দলে টেনেছিল মেহেদি হাসান মিরাজকে। কিন্তু বোলার হিসেবে মোটেও এবারের বঙ্গবন্ধু বিপিএলের শুরুর দিকে সুবিধা করতে পারেননি তিনি। একাদশ থেকে বাদ পড়ার পরিস্থিতির মুখে পড়েন। ঠিক এমন সময় টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে ব্যাটিং ওপেন করার দায়িত্ব দেয়। নতুন এই দায়িত্বটা দারুণভাবে পালন করেন মিরাজ। ২৮ ডিসেম্বর সিলেট থান্ডারের বিরুদ্ধে মিরপুরে মাত্র ৬২ বলে অপরাজিত ৮৭ রানের দুর্দান্ত ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলেন। আর কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে একই মাঠে ১০ জানুয়ারি খেললেন ৪৫ বলে হার না মানা ৭৪ রানের আরেকটি অনবদ্য ইনিংস। পরদিন একই মাঠে ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে ব্যাট হাতে আরেকটি মিরাজ ম্যাজিক! এবার মাত্র ২৪ বলে ৪৫ রান। বাউন্ডারি ৭টি, ছক্কা ১টি। স্ট্রাইকরেট ১৮০!

মিরাজ যখন আউট হলেন তখন ঢাকার বিশাল টার্গেট তাড়া করার প্রাথমিক ভিত্তি পেয়ে গেছে খুলনা টাইগার্স। আস্কিং রানরেট তখন বর্তমান রান রেটের চেয়ে কম! মিরাজ ম্যাজিকের পর নাজমুল হোসেন শান্তও ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেন। মাত্র ২৭ বলে শান্ত তার হাফসেঞ্চুরি পুরো করলেন।

শেষ ১০ ওভারে ম্যাচ জিততে খুলনার প্রয়োজন দাড়ায় ১০৪ রানের। হাতে জমা ৯ উইকেট। ঠিক তখনই শান্ত খেলছেন ঝড়ো ইনিংস। রাইলি রুশো ১৭ বলে ২৩ রানে ফিরলেও লড়ে গেছেন শান্ত। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। ২৭ বলে ফিফটি। আর ৫১ বলে তুলে নেন টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি।

শেষ অব্দি দলকে জিতিয়ে ৫৭ বলে ১১৫ রানে অপরাজিত নাজমুল শান্ত। তাকে সঙ্গে দিয়ে মুশফিকুর রহিম ১০ বলে ১৮!

Please follow and like us: