মতলব উত্তরে অতি দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচির প্রকল্পে ভেকু দিয়ে রাস্তা নির্মাণ!

January 19, 2020 8:15 pm

মতলব উত্তর ব্যুরো
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ফতেপুর পুর্ব ইউনিয়নে অতি দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচী প্রকল্পের কাজ অতিদরিদ্রদের মাধ্যমে না করিয়ে ভেকু মেশিন (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। এতে করে কর্ম বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার হতদরিদ্র মানুষ। সরকার প্রদত্ত অর্থ এলাকার অতিদরিদ্ররা পাচ্ছেন না। বরং অতিদরিদ্র মানুষের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একাউন্ট করার মাধ্যমে প্রকল্পের টাকায় লাভবান হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদসহ একটি মহল।

জানা গেছে, ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের উত্তর ফতেপুর গ্রামের নজির আহমেদ খান গত বছরের ২৭ অক্টোবর স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে উত্তর ফতেপুর সাহেব আলী প্রধানীয়া বাড়ির সাথে পাকা রাস্তা হইতে সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম আব্দুস ছাত্তার খান বাড়ি সংলগ্ন হয়ে উত্তর ঠেটালিয়া নোয়াব আলী চৌধুরীর বাড়ি পাকা সড়ক পর্যন্ত একটি নতুন রাস্তা নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনে স্থানীয় সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ করেন। পরবর্তীতে ফতেপুর পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান আজমল হোসেন রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করলেও আবেদনে উল্লেখিত জায়গা দিয়ে রাস্তা নির্মাণ না করে তার থেকে প্রায় ৪০০ ফুট উত্তর দিকে অপ্রয়োজনীয় স্থান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ শুরু করেন। এর ফলে এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এলাকার লোকজন বলছে আবেদনে উল্লেখিত স্থান দিয়েই আমরা রাস্তা চাই। পাশাপাশি ওই সড়ক নির্মাণে প্রকল্প নীতিমালা অবমাননা করে অতিদরিদ্রদের দিয়ে কাজ না করিয়ে ভেকু মেশিন দিয়ে কাজ করানোয় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

রোববার সকালে সরেজমিনে আলী আহমেদ সরকার, শামীম, শাহআলম, মনির মোল্লাসহ একাধিক লোকজন জানান, ঠেটালিয়া-ফতেপুর বিলে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের সেচ ক্যানেল বন্ধ করে নতুন রাস্তা নির্মাণ কাজ চলছে। এতে করে অনেক কৃষি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা এমন উন্নয়ন চান না, যেই উন্নয়ন জনগণের কোন কাজে লাগবে না। তারা যে স্থান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার জন্য আবেদন করেছেন সে স্থানেই রাস্তা চান। অপ্রয়োজনীয় জায়গায় রাস্তা নির্মাণ বাঁধা দেওয়াতে চেয়ারম্যান আমাদের ভেকুর নিচে ফেলে দিবে বলেও হুমকি দিয়েছে।
রাস্তার জন্য আবেদনকারী নজির আহমেদ খান বলেন, আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রকল্পটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে পাশ হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান আজমল হোসেন চৌধুরী যথাযথ স্থান দিয়ে রাস্তা না করে স্বেচ্ছাচারিতা করে অন্য স্থান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছে। এখন যেখানে রাস্তা করছে, ওই রাস্তা কারো কাজে লাগবে না। তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন আগেও চেয়ারম্যান আমাকে বলেছেন আবেদনে উল্লেখিত জায়গা দিয়েই রাস্তা হবে। তাই আমি প্রায় ৪০ টি গাছ কেটেছি ও মুরগীর ফার্ম ঘর ভেঙ্গে রাস্তার জন্য জায়গা খালি করে রেখেছি। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত কোন্দলের কারণে অন্য জায়গা দিয়ে জোড়পূর্বক রাস্তাটা নির্মাণ করছেন।

ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবুল হাসনাত বলেন, চেয়ারম্যান আজমল হোসেন জোড়পূর্বক অপ্রয়োজনীয় স্থান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছেন। এলাকার জনগণ যে স্থানে রাস্তা চাইছে তিনি সে স্থান থেকে ৪০০ ফুট দূরে রাস্তা করছেন। রাস্তার কাজ করার সময় প্রায় ৩০০ সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে জমির মালিকদের হুমকি ধামকি দিয়েছে। তাই তারা ভয়ে কিছু বাঁধা দিতে যায়নি। আমি নিজে বিষয়টি উপস্থাপন করতে গেলে আমাকে চেয়ারম্যানের গুন্ডা বাহিনীরা অনেক অপমান অপদস্ত ও মারধর করেছে। আমি দলের মাননীয় সভানেত্রীর কাছে বিচার চাই।
এ ব্যাপারে ফতেপুর পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান আজমল হোসেন চৌধুরী বলেন, জনগণ যেখান দিয়ে রাস্তা চাইছে সেখান দিয়েই আমি রাস্তা নির্মাণ করছি। হয়তো দু’একজন তাদের জমির কারণে বিরোধীতা করতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতিদরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচী প্রকল্পের টাকা দিয়ে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হয় না। তাই আমরা ভেকু মেশিন দিয়ে কাজ করছি। দরিদ্রদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি ব্যবহার করে একাউন্ট করার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএম জহিরুল হায়াত বলেন, এ ব্যাপারে আমি একটি অভিযোগ পেয়েছি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিবেদন পেলেই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।