শ্রীপুরে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে মানববন্ধন

January 22, 2020 11:18 pm
Spread the love

শ্রীপুর পতিনিধিঃ

মাগুরার শ্রীপুর সরকারি এম সি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (ভোকেশনাল শাখার) ছাত্রীদের কু প্রস্তাব ও অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদে আজ ২২ জানুয়ারী দুপুরে শিক্ষক নামধারী কুলাঙ্গার প্রদীপ কুমার ঘোষের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন বিক্ষোভ সমাবেশ ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শ্রীপুর সরকারি এম সি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ ইয়াছিন কবীরের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

আজ(গতকাল) দুপুরে শ্রীপুর ঐতিহাসিক বটতলা থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শফিউল্লাহ কর্ণেল যুবনেতা হুমাউন পারভেজ জিয়া সাবেক ভোকেশনাল ছাত্র আব্দুর রশিদ ও অভিভাবকদের পক্ষে মোঃ জাহিদুল ইসলাম জুয়েলের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধ ও সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশ চলাকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়াছিন কবীর ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী জালাল উদ্দীন এগিয়ে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আব্দুর রসীদ স্মারকলিপি প্রদান করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্মারকলিপি গ্রহণ করে তিনি আশ্বস্ত করেন অভিযুক্ত শিক্ষক প্রদীপ কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে প্রযোজনীয় ব্যাবস্হা গ্রহণ করা হবে ।

নিম্নে স্মারকলিপিতে বর্ণিত প্রদীপ কুমারের বিরুদ্ধে আনিত কু- কৃর্তী তুলে ধরা হলঃ

শ্রীপুর সরকারি এম সি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার জনৈক ছাত্রি গত ১৮ জানুয়ারী ২০২০ সকালে একই স্কুলের শিক্ষক প্রদিপ কুমার ঘোষের নিকট প্রাইভেট পড়তে গেলে কুলাঙ্গার শিক্ষক প্রদীপ কুমার ঘোষ ছাত্রীর স্পর্শ কাতর স্হানে হাত দেয়া সহ বিভিন্ন ভাবে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে পরে সেই ছাত্রী বাসায় গিয়ে তার অভিভাবকের কাছে ঘটনাটি জানায়। অভিভাবক তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে থানায় অভিযোগ করেন । থানা কর্তৃপক্ষ উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক শামিমুল ইসলামকে বিষয়টি জানালে প্রধান শিক্ষক উক্ত শিক্ষক প্রদীপ কুমার ঘোষকে নিয়ে থানায় যান। প্রধান শিক্ষক থানা কর্তপক্ষ ও অভিভাবককে আশ্বস্ত করে এবং এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দেন যে প্রদীপ কুমার ঘোষের উপযুক্ত বিচার করবেন। এই মর্মে অভিভাবক ও ছাত্রীকে বাসায় পাঠিয়ে দেন। পরবর্তিতে উক্ত শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক শোকজ করেছেন বলে অভিভাবককে অবগত করেন।

নামমাত্র শোকজের কথা শুনে উক্ত ছাত্রীর অভিভাবক ও সচেতন মহল ক্ষুব্ধ হন।

ইতিপূর্বে ও প্রদীপ কুমার ঘোষ এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে যাহা সোশাল মিডিয়ায় ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর একের পর এক ২০০৮,২০১৪ ও সর্বশেষ ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারী ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জানাজানি হয়।
এ ব্যাপারে অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান জানান গত ১৮ জানুয়ারী অভিভাবক ছাত্রী সহ থানায় উপস্হিত হলে আমি প্রধান শিক্ষককে থানায় আসতে বললে প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার ঘোষ সহ তিন চারজন শিক্ষক থানায় উপস্হিত হয়ে বলেন যে এটা আমরা বিদ্যালয় থেকে উপযুক্ত ব্যাবস্হা নিব, প্রয়োজনে আপনার সাথে যোগাযোগ করবো।
কিন্তু অদ্যবধি কোনপক্ষই আমার নিকট অভিযোগ নিয়ে আসেনি। আসলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্হা নিব।

অভিযুক্ত শিক্ষক প্রদীপ কুমার ঘোষের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এ ব্যাপারে ঔ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান ঘটনা জানার পরে তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়।প্রদীপ কুমার ঘোষ জবাব দিয়েছে। এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকে জানানো হয়েছে তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নেন, সেই মোতাবেক আমরা ব্যাবস্হা নিব।
এ বিষয়টি কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।