গোটা চীনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৯০০’র বেশি

জানুয়ারি ২৩, ২০২০ ৯:১৯ সকাল

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ

চিনে রহস্যজনক করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সরকারি ভাবে এই ভাইরাসে এখনও পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ। এরমধ্যেই দেশের ১৩টি প্রদেশে নতুন করে আরো ৫৪০ জনের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চিনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন গত সোমবারই এই ভাইরাসের প্রকোপের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। বর্তমানে গোটা দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৯০০ বেশি।

এর আগে চিনের বাইরে থাইল্যান্ড ও জাপানে তিন জনের সংক্রমণের খবর মিলেছিল। এখন সুদূর মার্কিন মুলুকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। যার জেরে বাড়ছে আতঙ্ক। এই পরিস্থিতিতে আগামী বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকে বসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র (WHO) বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি। চিনা ভাইরাসেরে বিস্তারের জেরে বিশ্বে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে এই বৈঠকে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। উল্লেখ্য, গত দশকে এখনও পর্যন্ত মাত্র পাঁচবার বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জরুরি মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।

চিনা ভাইরাসের বিস্তার যে উদ্বেগজনক, তা এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিব তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস। উদ্ভূত পরিস্থিতিকে জটিল এবং উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়েছেন তিনি। বুধবার সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ‘এই বিষয়ে আমি খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ কি ভাবে এই করোনা ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে WHO তা তদন্ত করে দেখছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

চিনে করোনা ভাইরাসের আক্রমণে বুধবার পর্যন্ত সে দেশে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত ৫৪০। আর যে হারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে তা মহামারির আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে খোদ চিনা প্রশাসন। চোরাচালান হওয়া বন্যপ্রাণী থেকে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়েছে।

২০০২-২০০৩ সালে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা সার্সের সংক্রমণে দুনিয়াজুড়ে প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার পিছনেও ছিল করোনা ভাইরাস। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই নতুন সংস্করণ সেই সাবেক করোনা ভাইরাসেরই জ্ঞাতি।