স্বপ্নের ফাইনালে স্বপ্নপূরণে আকবর আলীদের সবটা দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার অপেক্ষা

February 9, 2020 12:26 pm

স্পোর্টস ডেক্সঃ

গ্রুপপর্বে চ্যাম্পিয়ন, কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা বধ এবং সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে রুখে ইতিহাস রচনা; প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে বাংলাদেশ। এবার পচেফস্ট্রুমে স্বপ্নের ফাইনালে স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে আকবর আলীদের সবটা দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার অপেক্ষা। কেননা, বাংলাদেশ আর শিরোপার মাঝে যে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত। যাদের বিপক্ষে শেষটা জয়ে রাঙিয়ে শিরোপায় চুমু আঁকতে আজ নতুন আরেকটি ইতিহাস লিখতে হবে জুনিয়র টাইগারদের।

আইসিসির মেজর টুর্নামেন্টে যেকোনো পর্যায়ে (পুরুষ/নারী/অনূর্ধ্ব-১৯) আজই প্রথম ফাইনাল বাংলাদেশের। তবে যুব ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ৬টি ফাইনাল খেলেছে টাইগার যুবারা। জয় কেবল একটিতে। ২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, যেটা তাদের প্রথম ফাইনাল ছিল। ওই জয়ের পর একই ফরম্যাটের পাঁচ টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা; সবগুলোতেই প্রতিপক্ষ ছিল ভারত এবং সবটায় মিলেছে হারের যন্ত্রণা।

অর্থাৎ বিশ্বকাপ জিতে বীরের বেশে দেশে ফিরতে হলে আজ নতুন ইতিহাসই লিখতে হবে আকবরদের। খেলতে হবে সেরাটা দিয়ে। যেমনটা বলছে পরিসংখ্যান। এখন অবধি ২৫ যুব ওয়ানডে ফাইনাল খেলা ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল হেরেছে কেবল দুটোতে। ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৩৮ রানে এবং ১০ বছর পর একই টুর্নামেন্টে শিরোপার লড়াইয়ে উইন্ডিজের কাছে হারে ৫ উইকেটে। জেতে অপর ২৩ ফাইনালের ২২টিতে।

২০১২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ফাইনাল হয়েছিল টাই। তাতে শিরোপা ভাগাভাগিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয় ভারত আর পাকিস্তান দলকে। অপরদিকে প্রসঙ্গ যখন চলমান টুর্নামেন্ট, তখন ভারতীয়রা উজ্জ্বল আরও বেশি। জিতেছে ৬ ফাইনালের ৪টিতে। টুর্নামেন্ট ইতিহাসে তারাই সবচেয়ে সফল। যদি আজ ফাইনালে বাংলাদেশকে হারাতে পারে তাহলে পাকিস্তানের পর (২০০৪ ও ২০০৬) দ্বিতীয় দল হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার গৌরব অর্জন করবে কোহলিদের উত্তরসুরিরা।

দুই ফাইনালিস্টের মুখোমুখি সাক্ষাতের পরিসংখ্যানও পক্ষ নিচ্ছে ভারতের। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত। দেশের যুবাদের জয় একটিতে ২০০২ সালে ভারতকে ৭১ রানে (যুব ওয়ানডেতে ভারতের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহ) গুটিয়ে দিয়ে জয় তুলে নেয় ২ উইকেটে। অপর ম্যাচ দুটোতে ভারত বাংলাদেশকে হারায় ১২০ রানেরও বেশি ব্যবধানে। এ ছাড়া লাল-সবুজ দলের বিপক্ষে যুব ওয়ানডেতে মুখোমুখি সাক্ষাতে ভারত এগিয়ে ১৮-৩ ব্যবধানে।

কঠিন এমন অগ্নিপরীক্ষার আগে আকবররা আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারেন নিজেদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে। কারণ দারুণ এক রেকর্ড গড়েই আজকের ফাইনালে বাংলাদেশ। হারেনি সবশেষ ১০ ম্যাচের একটিতেও। যা এ ফরম্যাটে যুবাদের সব থেকে বেশি ম্যাচে অপরাজেয় থাকার রেকর্ড। তবে এ হিসাবে আছে চলতি টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচটিও। যে লড়াইয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লেও শেষতক জুনিয়র টাইগাররা বেঁচে যায় ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায়।

তবে একই হিসাব যদি ধরা হয় ভারতের ক্ষেত্রে তা হলে কিন্তু স্বস্তিতে থাকার উপায় নেই লাল-সবুজ দলের প্রতিনিধিদের। কেননা, প্রতিপক্ষ দল যে ইতোমধ্যে টানা জয়ের রেকর্ড গড়ে রেখেছে যুব বিশ্বকাপে। ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে উইন্ডিজের বিপক্ষে ফাইনাল হারের পর সবশেষ ১১ ম্যাচের প্রত্যেকটিতে প্রতিপক্ষকে অলআউট করেছে ভারত। জয় তুলে নিয়েছে ১১ ম্যাচের সবকটিতে। এই টুর্নামেন্টে যা কি না যেকোনো দলের সর্বোচ্চ টানা জয়ের রেকর্ড।

আজ জুনিয়র টাইগারদের জন্য হুমকি হতে পারে যশস্বী জয়সওয়ালও। ভারতীয় ওপেনারের ব্যাট যে হেসেই চলেছে। দাঁড়িয়ে এক রেকর্ডের সামনে। যদি জয়সওয়াল ফাইনালে হাফসেঞ্চুরি ছুঁতে পারেন, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং শুভমন গিলের পর তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে যুব বিশ্বকাপে পরপর চার ম্যাচে পঞ্চশোর্ধ ইনিংস খেলার রেকর্ড গড়বেন তিনি। যদি ভারতীয় দলের ব্যাটিং স্তম্ভ করতে পারেন এমনটা তা হলে তা বড়সড় বাধাই হবে বাংলাদেশের ফাইনাল জয়ের পথে।

তবে আকবরদের দলেও আছেন একজন জয়সওয়াল। তিনি হলেন তৌহিদ হৃদয়, যার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুফলটা ভালোভাবেই পাচ্ছে দল। যুব ওয়ানডেতে পাঁচ সেঞ্চুরিসহ মোট ১৫টি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস রয়েছে হৃদয়ের। যুব ওয়ানডে ইতিহাসে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলার তালিকায় তার ওপরে আছেন কেবল পাকিস্তানের সামি আসলাম (১৬টি)। ১৪টি ৫০+ স্কোরে তিনে যৌথভাবে জয়সওয়াল এবং বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক সদস্য নাজমুল হোসেন শান্ত।

সবমিলে দলীয় আর ব্যক্তিগত হিসাবে সাম্প্রতিক সময়ে সমান ছন্দে বাংলাদেশ আর ভারত। তাতে এ মুহূর্তে এটা বলাই যায়, আজ সেরাটা খেলবে যে দল তারাই শিরোপা উঁচিয়ে ধরবে যুব বিশ্বকাপের মঞ্চে। মাতবে বিশ্ব জয়ের উল্লাসে। আকবররা সেই উল্লাসেই মাততে চান। টাইগার যুবাদের অধিনায়ক বলেছেন, ‘ফাইনালকে আমরা স্বাভাবিক ম্যাচের মতোই দেখছি। ছেলেরাও এই ফাইনাল খেলতে মুখিয়ে আছে। দেশে ট্রফি নিয়ে ফেরার দারুণ একটি সুযোগ এটি। সবকিছু সঠিকভাবে করতে মুখিয়ে আছি আমরা। আমরা পুরনো ম্যাচগুলো বিশ্লেষণ করছি এবং তা থেকে শেখার চেষ্টা করছি। আশা করি, আমরা ভারতকে হারাব।’

অপরদিকে বাংলাদেশকে হতাশ করতে মুখিয়ে ভারতীয় যুবারা। দলীয় অধিনায়ক প্রিয়ম গার্গ বলেছেন, ‘আজকে (শনিবার) বৃষ্টির কারণে অনুশীলন করা সম্ভব হয়নি। তবে এ মুহূর্তে আমাদের মনোযোগের সবটা জুড়ে কালকের ম্যাচ (আজকের ফাইনাল)। কারণ বিগত এক-দেড় বছর ধরে যে কঠোর পরিশ্রম তার ফল আসবে কাল।’