বোনের মৃত্যুর শোক থামিয়ে রাখতে পারেনি আকবরকে

February 10, 2020 6:12 am

স্পোর্টস ডেক্সঃ

মাঠের ২২ গজ ক্রিজ আর ২২ জানুয়ারি, দুটোর একটিও ভুলে যাননি জুনিয়র টাইগারদের অধিনায়ক আকবর আলি। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। আর বাংলাদেশ পেল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জয়ের স্বাদ। সাউথ আফিক্রার পচেফস্ট্রুমে যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) ৩ উইকেটে ভারতকে হারিয়ে দল উঠে গেল অনন্য উচ্চতায়।

আকবরের এই জয়ে ২২ জানুয়ারির শোক যেন ফাইনালের রঙ্গমঞ্চে শক্তি সাহসে বলিয়ান করেছিলেন। কারণ, এই দিনটিতে আকবরের একমাত্র বোন খাদিজা খাতুন না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। এই শোক ভুলে যাননি তিনি।

রংপুর মহানগরীর পশ্চিম জুম্মাপাড়া এলাকার মোস্তফা-সাহিদা দম্পতির ক্রিকেট পাগল ছেলে আকবর আলি। দক্ষিণ আফ্রিকায় তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাঠে নামে ১৮ জানুয়ারি। এর দু’দিন পর ২১ জানুয়ারি স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দেয় আকবরের দল। টানা দুই জয়ে দল যখন উৎফুল্ল। ঠিক তখন দেশ থেকে বড় দুঃসংবাদ উড়ে গেল আকবরের কানে। বেঁচে নেই তার একমাত্র বোন খাদিজা খাতুন। যমজ সন্তান প্রসবকালে মারা যান তিনি।

একমাত্র বোনকে হারানোর বেদনা বুকে চাপা দিয়ে দু’দিন পরই পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামেন আকবর। শোককে শক্তিতে পরিণত করে একের পর এক জয়ে ফাইনালে উঠে যায় বাংলাদেশ।

ভারতের যুবাদের সঙ্গে লড়াই করে জুনিয়র টাইগার অধিনায়ক আকবর গড়লেন ইতিহাস। সতীর্থ যোদ্ধাদের হাত ধরে দেশকে প্রথমবারের মতো এনে দিলেন আইসিসির কোনো বিশ্বকাপ ইভেন্টের শিরোপা।

পাহাড় সমান দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে এদিক ওদিক খেয়াল করার সময় তার নেই। বরং লাল সবুজের পতাকায় যেন হারানো বোনের মুখকে খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

আকবর চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে চতুর্থ। একমাত্র বোন খাদিজা খাতুন ছিল আকবরের বড়।