নাছির অনুসারী কাউন্সিলররা রয়েছেন মনোনয়ন না পাওয়ায় আতঙ্কে

February 18, 2020 7:39 am

নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে মেয়র পদে এবার চমক সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ অনেক হেভিওয়েট নেতাকে পেছনে ফেলে তৃণমূলের নেতা রেজাউল করিম চৌধুরীর ওপরই আস্থা রেখেছেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের অনুসারী কাউন্সিলররাও এ নিয়ে আতঙ্কে আছেন। মেয়র পদে প্রার্থী পরিবর্তনের ধাক্কা তাদের ওপরও পড়তে পারে, এমন ভয় অনেকের। এ জন্য পদ পেতে গোপনে ও প্রকাশ্যে অনেকে চালাচ্ছেন তদবির-লবিং। নাছিরপন্থি বর্তমান কাউন্সিলররা এবারের নির্বাচনে বাদ পড়বেন, না থাকবেন- তা নিয়ে নগরজুড়ে চলছে নানা আলোচনা।

বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বর্তমান কাউন্সিলরদের মধ্যে রয়েছেন জামালখান ওয়ার্ডের শৈবাল দাশ সুমন, ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডের হাসান মুরাদ বিপ্লব, উত্তর কাট্টলীর নিছার উদ্দিন আহমেদ, দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডের চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, পাহাড়তলীর মোহাম্মদ হোসেন হিরণ, উত্তর আগ্রাবাদের নাজমুল হক ডিউক, পাঠানটুলী ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আবদুল কাদের, আলকরণ ওয়ার্ডের তারেক সোলেমান সেলিম, দক্ষিণ হালিশহরের জিয়াউল হক সুমন, দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের তৌফিক আহমেদসহ অনেকে।

আসন্ন নির্বাচনে বর্তমান কাউন্সিলর ছাড়াও ৪১টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে নাছির সমর্থিত বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। নাছির উদ্দীন দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় নিজেরা মনোনয়ন পাবেন কিনা, তারও হিসাবনিকাশ চলছে। কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নানা কারণে বিতর্কিতও হয়েছেন অনেকে। মেয়র পদে দলীয় সমর্থন পাওয়া রেজাউল করিম চৌধুরী সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা চলছে- এখন স্বভাবতই কাউন্সিলর পদে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদেরই প্রাধান্য থাকবে। ৪১ ওয়ার্ডের ৫৬ পদের বিপরীতে শুধু আওয়ামী লীগ থেকেই এবার রেকর্ড সংখ্যক ৪০৯ জন কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সর্বোচ্চ ১২ জন আছেন একটি ওয়ার্ডে। বেশিরভাগ ওয়ার্ডে ৭ থেকে ৯ জন মনোনয়নপত্র কিনেছেন। এসব সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে উভয় গ্রুপের অনুসারীই রয়েছেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন সমকালকে বলেন, মেয়র প্রার্থী হিসেবে রেজাউল করিম চৌধুরীকে বেছে নেওয়ার পেছনে একটি বার্তাও দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী। এ থেকে সবার অনেক কিছু শেখার ও বোঝার আছে। কাউন্সিলর পদে এবার অনেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। তাদের সবার সম্পর্কে কেন্দ্রে সব ধরনের খবর আছে। অতীত কার্যকলাপসহ যাবতীয় বিষয় বিবেচনা করেই কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন দেবে না দল। আর দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কারও কিছু করার সুযোগ নেই।

চট্টগ্রামের কয়েকজন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, বর্তমান মেয়রের অনুসারী অনেক কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নানা কারণে বিতর্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়েন অনিয়ম-দুর্নীতিতে। এ কারণে কয়েকজন কাউন্সিলর গণমাধ্যমে নেতিবাচক শিরোনামও হয়েছেন কয়েকবার। বর্তমান মেয়র মনোনয়ন না পাওয়ায় তারা পড়েছেন এখন বিপাকে। অনেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে লবিং-তদবিরও চালাচ্ছেন।

ষোলকবহর ওয়ার্ডের মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান তারেক বলেন, অনেক দিন ধরে মুজিব আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। দলের বিপদে সবসময় পাশে থেকেছি। দলের স্বার্থে ত্যাগও করেছি অনেক কিছু। এলাকার মানুষ আমাকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে পেতে চান। সামগ্রিকভাবে ওয়ার্ডের উন্নয়ন করতে তাই দল থেকে মনোনয়ন চাইছি।

Please follow and like us: