নেত্রকোনায় শাহ্ সুলতান কমরুদ্দিন রুমী (রঃ)’র মাজার শরীফে ৪দিন ব্যাপী ওরস

March 9, 2020 11:20 am

সৈয়দ সময় , নেত্রকোনা

ইসলাম প্রচারের জন্য চারশত ৪৫হিজরীতে এশিয়া মহাদেশে সুদুর তুরস্ক হতে আগত শাহ্ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী’র (রাঃ) মাজারে চার দিনব্যাপী বার্ষিক ওরস মোবারক আজ শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখো ভক্ত আশেকানরা আসতে শুরু করেছেন নেত্রকোনার মদনপুর তাঁর মাজার শরীফে।

বাংলার সকল স্তরের মানুষের কাছে হজরত শাহ্ সুলতান কমর উদ্দিন রুমি (রাঃ) তাপস শ্রেষ্ঠ, সময় বিশারদ, দক্ষ সমাজ সেবক, ন্যায়বান ও উদার ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এবং বঙ্গে সর্ব প্রথম ইসলাম প্রচারকারী মিশনের নেতা হিসাবে সুপরিচিত। তাঁর মাজারে মুসলমান ছাড়াও হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষজনের সমাগম ঘটে। সবাই মিলেমিশে এক সঙ্গে মাজার শরীফে এসে মনস্কামনা পূরণের লক্ষ্যে আরাধনা করে। প্রায় নয় শতাব্দীকাল ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই ওরস।

খৃষ্টীয় একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সারাসীন সভ্যতার উৎকর্ষতার যুগে হজরত রুমী (রাঃ) ১২০ জন সূফী সৈনিক নিয়ে গঠিত ইসলামী মিশনের নেতৃত্বে বর্তমানে আফগানিস্তানের অন্তর্গত “বলখ” থেকে যাত্রা শুরু করেন। পথে বিভিন্ন ধর্মযুদ্ধে কিছু শহীদ হন, কিছু ইসলাম প্রচারার্থে স্থানে স্থানে এসে অবশেষে ১০৫৩ খৃঃ মোতাবেক ৪৪৫ হিজরী সালে ৪০জন আওলিয়া নিয়ে কামরুপ রাজ্যে প্রবেশ করেন এবং তৎকালীন পাল রাজগনের অধীনস্থ সামন্ত মদন কোচের রাজবাড়ীতে পাড়ি জমান এবং সম্পূর্ন অলৌকিক শক্তিবলে মদনা রাজাকে পরাজিত করেন। রাজা বাধ্য হয়ে তাঁর রাজাধানী এলাকা হজরত রুমীকে (রাঃ) কে বিনাশর্তে নাখেরাজ বা নিস্কন্ঠ হিসাবে দান করে রাজধানী হস্তান্তর করে গারো অ লের চলে যান। বিদায়ী রাজার অনুরোধে হজরত রুমী (রাঃ) তাঁর নামানুসারে পরিত্যক্ত রাজধানী এলাকার নামাকরণ করেন মদনপুর। সেই মদনপুরই হয়েছিল তৎকালীন পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাস বিখ্যাত “সেলজুক” খান্দানের গৃহত্যাগী অমর মোজাহিদ, ইসলামের দুর্দান্ত প্রতাপ বিজয়ী বীর সুফী সম্রাট হজরত শাহ্ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রাহঃ) এর বিশাল জীবনের শেষ কর্মস্থল। তিনি ৪০ জন আউলিয়ার মাজার শরীফ ও মদনপুর ত্রবং পার্শ্ববতী এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে। তিঁনি আমৃত্যু ইসলাম প্রচার ও প্রসার কার্য্য অব্যাহত রেখে গেছেন।

মাজারের খাদেম শাহ্ আলম জানান, মাজার শরীফে সকল ধর্মের মানুষ আসে। তারা ধর্মীয়মত অনুযায়ী মাজার জিয়ারত করে থাকেন। মাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক ডাঃ দেলোয়ার হোসেন ফারাসের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মাজার শরীফে বছরে একবার ফাল্গুনে চাঁদের পূর্ণিমাতে চার দিনব্যাপী ওরছ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন ধর্মীয় হাজার হাজার ভক্তবৃন্দের সমাগমে মিলনমেলায় পরিণত হয়। শাহ্ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রাঃ) পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, বার্ষিক ওরস পালনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মাজার শরীফে আইন শৃংঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।দেশ বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্ত আশেকান এ্ই মহতী উৎসবে অংশ গ্রহন করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

Please follow and like us: