ফতুল্লায় দুলা ভাইয়ের কুঃপ্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় শ্যালিকাকে আগুনে ঝলসে দিলো (ভিডিওসহ)

March 23, 2020 10:39 am

হেডলাইন্স ডেক্স-

নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় গার্মেন্টস কর্মী শ্যালিকা মাহিনূর আক্তার (৩৮)এর শরীরে আগুনে ঝলসে দিলো লম্পট দুলা ভাই নূর ইসলাম (৫০)।

রোববার  (২২ মার্চ)সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে থানার দাপা ইদ্রাকপুরের পাইলট স্কুল রোডস্হ আলী আহম্মেদ মিয়ার বাড়ীর গলিতে এ নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। স্হানীয় জনগন মাহিনূর কে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) এর বার্ণ ইউনিটে নিয়ে যায় বর্তমানে তার শারীরিক অবস্হা আশংস্কা জনক বলে জানায় মাহিনূরের মেয়ের জামাই রিয়াজ। এদিকে ঘটনার পর থেকে লম্পট দুলা ভাই নূর ইসলাম পলাতক রয়েছে, ঘটনাস্হল পরিদর্শন করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসলাম হোসেন ।

 

অভিযুক্ত নূর ইসলাম নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলীর ব্যক্তিগত গাড়ী চালক এবং মাহিনূর আক্তারের মামাতো বোনের জামাই বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী দের মধ্যে অন্যতম ভাংগাড়ী ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন জানায়,প্রতিদিনের ন্যায় মাহিনূর আমার দোকানের সামনে দিয়ে আজকেও গার্মেন্টস থেকে কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় আনুমানিক সোয়া ৭টার দিকে বাসায় যাচ্ছিলো, এক পর্যায়ে আলী আহম্মদ মিয়ার বাড়ীর গলি থেকে নারী কন্ঠে চিৎকার শুনে আমি সহ আরো ৬/৭ জন লোক ছুটেঁ যাওয়ার সময় দেখি মাথায় ও মুখে,  শরীরে আগুন নিয়ে বাচাঁও বাচাঁও চিৎকার করতে করতে মাহিনূর দৌড়েঁ আসছে গলির মোড়ে।  তখন আমরা তার শরীরে পানি ঢেলে, বালু মেরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। এসময় তার শরীরের প্রায় ৫০ভাগ ঝলসে যায় পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা এসময় ঘটনা স্হল থেকে একটি পাতা রঙের বাটি উদ্ধার করে কেরাসিন তৈল ভর্তি ছিলো।  অনেকের দাবী এই বাটিতে কেরাসিন তৈল ভর্তি করে মাহিনূর যখন তার বাসায় প্রবেশ করবে এ মূর্হুতেই নূর ইসলাম তার শরীরে বাটির কেরাসিন তৈল ঢেলে সাথে সাথে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। অভিযুক্ত নূর ইসলাম ৩ সন্তানের জনক। সে দাপা ইদ্রাকপুরের ব্যাংক কলোনী এলাকাস্হ মুন্না ডাক্তারের বাড়ীর ভাড়াটিয়া। স্বামী পরিত্যক্তা মাহিনূর এক মেয়ে সন্তানের জননী। বছর খানেক পূর্বে সে মেয়ে কে বিয়ে দিয়ে বর্তমানে ফতুল্লা পাইলট স্কুল এলাকার আলী আহম্মেদ মিয়ার বাড়ীতে ভাড়া থাকেন বলে জানা গেছে।

 

সুত্রে আরো জানা গেছে মাহিনূর আক্তার স্হানীয় মেরিনা এ্যাপারেলস নামক একটি পোশাক কারখানায় দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করতেন। ড্রাইভার নূর ইসলাম সম্পর্কে মাহিনূরের দুলা ভাই হওয়ার কারনে পূর্ব থেকে তাদের মধ্যে পরিচয় ছিলো কিন্তুু বরাবরই নূর ইসলামের কুঃ দৃষ্টি ছিলো স্বামী পরিত্যক্তা শ্যালিকা মাহিনূরের দিক।  বিভিন্ন সময়ে উক্ত নারীকে উত্যক্ত করতো নূর ইসলাম এ নিয়ে স্হানীয় পর্যায়ের লোকজনের নিকট বিচার দিয়েছিলো মাহিনূর। স্হানীয় লোকজন বেশ কয়েক বার তাকে (নূর ইসলাম) শাসিঁয়ে দিলে কয়েক মাস নীরব থাকার পরে পূনরায় নানা ভাবে মাহিনূর কে উত্যক্ত করতো বলে অনেকের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে ঘটনার সংবাদ শুনে ঘটনাস্হলে পুলিশ এসে আগুনে পুড়ে যাওয়া মাহিনূরের বোরখার অংশ বিশেষ সহ আগুনে পুড়ে যাওয়া ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করে ঘটনার তদন্তে প্রত্যক্ষ দর্শীসহ বাড়ীওয়ালা জবান বন্দী নোট করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নূর ইসলামকে আটকের জন্য পুলিশ সাড়াঁশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানায় ওসি আসলাম হোসেন।  তিনি আরো জানায়, অগ্নিদন্ধ মাহিনূর আক্তার বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) এর বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।  শুনেছি তার শারীরিক অবস্হা আশংস্কা জনক। এঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত নূর ইসলাম কে আটকের চেষ্টা চলছে।

নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী জানায়, ঘটনার তদন্তে নূর ইসলাম যদি দোষী হয় তবে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।

ভিডিও লিঙ্ক দেখুনঃ

Please follow and like us: