ফতুল্লায় কুঃপ্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় শ্যালিকাকে প্রেট্রোল নিক্ষেপের ঘটনায় ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ২

March 23, 2020 7:29 pm

হেডলাইন্স ডেক্সঃ

ফতুল্লায় কুঃপ্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় শ্যালিকা মাহিনূর আক্তার (৩৮) কে প্রেট্রোল নিক্ষেপের ঘটনায় দুলা ভাই নূর ইসলাম (৫০) সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, আটক ২ তবে প্রধান আসামী নূর ইসলাম ড্রাইভার এখনো পলাতক।

গত রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে অগ্নিদন্ধ মাহিনূর আক্তারের এক মাত্র মেয়ে অনামিকা আক্তার বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে নূর ইসলাম কে, এ ছাড়া মামলার অপর দুই আসামী হলেন নূর ইসলামের স্ত্রী হাসিনা বেগম (৪০),নূর ইসলামের ছেলে ইমরান হোসেন (২৫) এর নাম উল্লেখ্য করে আরো ৪/৫ জন কে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কারী অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল শেখ।

তিনি আরো জানায় , এ ঘটনায় দায়ের কৃত মামলার উল্লেখিত আসামীদের মধ্যে নূর ইসলামের স্ত্রী হাসিনা বেগম ও তার ছেলে ইমরান হোসেন কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে,সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ধৃত আসামীদের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামী নূর ইসলাম সহ অজ্ঞাত নামা আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে। এদিকে অগ্নিদন্ধ মাহিনূর আক্তারের মেয়ের জামাই রিয়াজ হাসান জানায়, প্রেট্রোলের আগুনে তার (মাহিনূর) শরীরের প্রায় ৬০ ভাগ ঝলসে গেছে, বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) এর শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে, তার শারীরিক অবস্হায় আশংস্কা জনক বলে জানা যায়। সুত্রে জানা গেছে যে গত রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৭ টায় নাঃগঞ্জের ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরের ফতুল্লা পাইলট স্কুল এলাকাস্হ আলী আহম্মেদ মিয়ার বাড়ীর গলিতে স্হানীয় গার্মেন্টস কর্মী মাহিনূর আক্তার কে প্রেট্রোল দিয়ে পুড়িঁয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় তার মামাতো বোনের স্বামী নূর ইসলাম ড্রাইভার। বরগুনা জেলার আমতলী থানাধীন খুড়িয়ার খেয়াঘাট এলাকার মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে মাহিনূর আক্তার প্রায় ১৫ বছর যাবৎ ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরের পাইলট স্কুল এলাকায় বসবাস করে এবং স্হানীয় পোশাক কারখানায় চাকুরী করে জীবন -যাপন করে, স্বামী পরিত্যক্তা মাহিনূর আক্তারের এক মাত্র মেয়ে অনামিকা আক্তারের বিয়ে হয় বছর খানেক পূর্বে এর পর থেকেই মাহিনূর ফতুল্লা পাইলট স্কুল রোডের আলী আহম্মেদ মিয়ার বাড়ীতে ভাড়াটিয়া হিসাবে একা বসবাস করে আসতেছিলো বলে এলাকা বাসী জানায়। এদিকে অভিযুক্ত নূর ইসলাম ঘটনার আগ মূর্হুত পর্যন্ত নাঃগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলীর ব্যক্তিগত গাড়ী চালক হিসাবে কর্মরত ছিলো সে বর্তমানে পলাতক রয়েছে, অভিযুক্ত নূর ইসলাম ও দীর্ঘ ১৯/২০ বছর ধরে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করতো বর্তমানে সে দাপা ইদ্রাকপুরের ব্যাংক কলোনী এলাকাধীন মুন্না ডাক্তারের বাড়ীতে ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করে আসতেছিলো বলে জানা গেছে। ঘটনার বিররনে জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যা ৭ টায় দাপা ইদ্রাকপুরের মেরিনা এ্যাপারেলস নামক গার্মেন্টস থেকে কাজ শেষে নিজ বাড়ীতে ফিরছিলো মাহিনূর আক্তার, এসময় তার বাড়ীর গলিতে আগে থেকেই অবস্হান করেছিলো নূর ইসলাম ও তার সহযোগীরা, বাড়ীর প্রবেশ মুখে আচমকা একটি পাতা রঙের বাটি খুলে সেখানে রাখা প্রেট্রোল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায় নিক্ষেপ কারী ও তার সহযোগীরা, তাৎক্ষনিক মাহিনূরের শরীরের আগুন ধরে গেলে সে বাচাঁও বাচাঁও বলে চিৎকার করে এসময় আশে পাশের লোকজন এসে বালি, পানির সাহায্যে আগুন নেভানোর আগেই তার শরীরের প্রায় ৬০ ভাগ পুড়েঁ ঝলসে যায় বলে প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানায়। রাত পৌনে ৮ টার দিকে স্হানীয় লোকজন মাহিনূর আক্তার কে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রওয়ানা দেন, হাসপাতালে নেওয়ার সময়ে তার সাথে থাকা লোকজনের নিকট এ ঘটনাটির নূর ইসলাম ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেন মাহিনূর, যা তাৎক্ষনিক ভিডিও ধারন করা হয়েছে ।

এলাকা বাসী ও মাহিনূরের স্বজন দের অভিযোগ, নূর ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে মাহিনূর কে উত্যক্ত করে আসতেছিলো, বিভিন্ন সময়ে প্রেমের প্রস্তার সহ কুঃ প্রস্তাব দিতো মাহিনূর কে কিন্তুু লম্পট দুলা ভাইয়ের কুঃপ্রস্তাবে মাহিনূর রাজী না হওয়ায় নূর ইসলাম তাকে প্রেট্রোল নিক্ষেপ করে পুড়িঁয়ে মারায় উদ্দেশ্যে এ ধরনের নৃশংস ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এদিকে ঘটনার পর ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসলাম হোসেন এর নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টীম ঘটনাস্হল পরিদর্শন করেন, রাতেই ওসির নির্দেশে পুলিশের একাধিক টীম নূর ইসলাম সহ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের অভিযান চালিয়ে ২জন কে গ্রেপ্তার করেন। নাঃগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী জানায়, কাজটি জঘন্যতম হয়েছে এ কাজে নূর ইসলাম জড়িত থাকলে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। অপরাধ যেই করুক কাউকে ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না আইন মোতাবেক অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়া হোক।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসলাম হোসেন জানায়, এঘটনায় অগ্নিদন্ধ মাহিনূরের মেয়ে অনামিকা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে মামলায় নূর ইসলাম কে প্রধান করে আরো ২জনের নাম উল্লেখ্য করে ৫/৬ জন কে আসামী করা হয়েছে, আমরা ২জন কে গ্রেপ্তার করেছি প্রধান আসামী নূর ইসলাম সহ অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ভিডিও লিঙ্কঃ

Please follow and like us: